× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার

স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামীর সহযোগিতা

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(২ সপ্তাহ আগে) জানুয়ারি ১২, ২০২১, মঙ্গলবার, ১২:০০ অপরাহ্ন

বিস্ময়ের শেষ নেই ফরিদার। দুশ্চিন্তা ছিলো হয়তো সংসার আর টিকবে না। বিষয়টি জানার পর ফরিদার সঙ্গে ঝগড়া হবে। মারধরও করতে পারেন তার স্বামী আনোয়ার হোসেন। এমনকি ডিভোর্সও হয়ে যেতে পারে। দিন দুপুরে হঠাৎ বাসায় ফিরে মনিরকে স্ত্রী ফরিদার রুমে  দেখতে পান। মনির নিরবে বের হয়ে যায়। তখনও বিছানা, এমনকি ফরিদার পরনের কাপড়ও এলোমেলো।
তার চেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় কনডমের ছেঁড়া প্যাকেট পড়েছিলো বালিশের কাছেই। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তা দেখছিলেন আনোয়ার। কিন্তু কোনো কথা বলেননি। নিরবে পাশের রুমে গিয়ে টিভি দেখছিলেন। দিন যাচ্ছিলো আর ফরিদার জন্য অপেক্ষা করছিলো চমকের পর চমক। একপর্যায়ে মনিরের সঙ্গে স্বাধীনভাবে মেলামেশার সুযোগ করে দেন স্বামী আনোয়ার হোসেন নিজেই। ঘটনাটি পুরান ঢাকার। শেষ পর্যন্ত আনোয়ার-ফরিদার কবল থেকে রক্ষা পেতে পালিয়ে যান মনির। সামাজিকতার কথা ভেবে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত না গেলেও গড়িয়েছে থানা-পুলিশে। একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন মনির।

মনিরের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। পুরান ঢাকায় বড় বোনের বাড়িতে থাকেন। ভগ্নিপতির একটি মুদি দোকান রয়েছে লালবাগে। দুই কর্মচারীসহ ওই দোকানটি পরিচালনা করেন তিনি। ভগ্নিপতি গাড়ির ব্যবসা করেন। মাঝে-মধ্যে দোকানে পা রাখেন। দোকানে প্রতিদিন অনেক নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা হয়, পরিচয় হয়। এরমধ্যেই এক নারীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে চরম ভালোলাগার সৃষ্টি হয় একুশ বছর বয়সী মনিরের। ফর্সা, সুন্দর, সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখের পয়ত্রিশ বছর উর্ধ্ব ওই নারীর নাম ফরিদা।

প্রথমে কেনাকাটা করতে এলে শুধু এই সংক্রান্ত কথাই হতো। তা সর্বোচ্চ দুই-এক মিনিট। তারপর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত বিষয়ে নানা জিজ্ঞাসা। কোথায় থাকেন, পরিবারে কে কে আছে, লেখাপড়া কোথায় করেছেন.. এরকম নানা জিজ্ঞাসা ওই নারীর। মনিরও জানতে চান ব্যক্তিগত নানা বিষয়। ফরিদা জানান, দোকানে বসে এতো কথা বলা ঠিক না। বাইরে কোথাও বসবেন। যেই কথা সেই কাজ। আবেগ প্রবণ মনির ফোন নম্বর আদান-প্রদান করেন। এভাবেই সম্পর্কের সূত্রপাত। এক বিকালে দেখা হয় দু’জনের। পাশের একটি রেস্টুরেন্টে বসে কথা বলেন দীর্ঘ সময়। ফরিদা তার চাপা কষ্টের কথা বলেন। বিয়ে হয়েছে অনেক বছর। সংসারে কোনো সুখ নেই। স্বামী আনোয়ার বিয়ের আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। ওই সময় থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে গাঁজা সেবন করতেন আনোয়ার। অবশ্য বিয়ের আগে তা জানতেন না ফরিদা। বিয়ের পর জানতে পারেন শুধু গাঁজা না, মরণনেশা ইয়াবাতেও আসক্তি আছে তার।
জানার পর বাধা দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ইয়াবা সেবনের কারণে সারা রাত নির্ঘুম কাটাতে পারেন। দীর্ঘ সময় শারীরিক সম্পর্ক করতে পারতেন আনোয়ার। কিন্তু এই মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে যায় বলেছিলেন চিকিৎসকরা। তারপর শরীরে আর কিছুই থাকে না। পুরোপুরি অক্ষম। অক্ষম অনোয়ারকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরই বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু ইয়াবা থেকে ফেরানো সম্ভব হচ্ছিলো না তাকে। মরণনেশা ইয়াবাতেই ডুবে রয়েছেন আনোয়ার। ব্যবসাও লাটে ওঠেছে। জমি বিক্রি করে চলতে হচ্ছে এখন। ভেবেছেন সংসার ছেড়ে চলে যাবেন ফরিদা। কিন্তু স্কুল পড়–য়া ছেলে সন্তানটির দিকে তাকিয়ে মাদকাসক্ত স্বামীর সংসারই করছেন। তাছাড়া সমাজও বিচ্ছেদটাকে ভালো চোখে দেখে না। কিন্তু ফরিদারও জীবন আছে। যৌবন আছে। এখন তার একজন বন্ধু দরকার। অকপটে কথাগুলো মনিরকে বলেন তিনি।
মনির বিষয়টি বুঝতে পারেন। সেভাবেই সাড়া দেন তিনি। ছেলেটি যখন স্কুলে, আনোয়ার যখন বাসার বাইরে, তখনই মনিরকে বাসায় ডাকেন ফরিদা। একান্তে সময় কাটান দু’জন। সরু গলি দিয়ে ছ’তলা বাড়ির নিচ তলার ফ্ল্যাট। ফরিদার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট ছেলেকে দেখে কেউ কিছু মনে করে না। অনেকটা স্বাধীনভাবেই আসা-যাওয়া করেন।

প্রকৃত নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মনিরের ভগ্নিপতি জানান, তার অজান্তে দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ফরিদার বাসায় পৌঁছে দিতেন মনির। সেই হিসেব ছিলো না কোথাও। বিষয়টি জানতে পারেন বেশ পরে। সাধারণত সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বিকাল ৫টার দিকে বাসায় ফিরতেন ফরিদার স্বামী আনোয়ার। আবার বাসা থেকে বের হতেন সন্ধ্যায়। ফিরতেন গভীর রাতে। হঠাৎ এক দুপুরে বাসায় ফেরেন আনোয়ার। মনির তখন ফরিদার কক্ষে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে দু’জন। কলিংবেলের শব্দ শুনে হতভম্ব ফরিদা। এই সময়ে আবার কে এলো। সাধারণত ফোন না দিয়ে বাইরের কেউ বাসায় আসে না। ধাক্কা দিয়ে মনিরকে সরিয়ে দরজার কাছে যান ফরিদা। ভেতর থেকে দেখতে পান বাইরে দাঁড়িয়ে আনোয়ার। দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন। সময় ক্ষেপণ করলে আনোয়ার ভীষণ রেগে যাবেন। দরজা খুলে দেন। মনিরকে দেখতে পান শার্টের বোতাম লাগাচ্ছেন। তারপর দ্রুত বের হয়ে যান। ফরিদার চুল, শাড়ি, বিছানা এলোমেলো। বালিশের পাশে কনডমের ছেঁড়া প্যাকেট। তারপরও স্বাভাবিক আনোয়ার। পাশের রুমে বসে টিভি দেখছিলেন। রাতে ফরিদাকে কাছে টেনে জানান, তিনি যেহেতু অক্ষম। ফরিদার বন্ধু হিসেবে ওই ছেলেটা ভালোই হবে। স্বাধীনভাবে বাসায় তাকে ডেকে আনতে বলেন। রাতে-দিনে। স্বামী আনোয়ার হোসেনের কোনো আপত্তি নেই তাতে। তবে বাইরের কেউ যেনো না জানে। এজন্য যা হবে বাসাতেই। বিস্ময়ের শেষ নেই ফরিদার।

তারপর দিনের পর দিন স্বামীর সহযোগিতায় নিজ বাসাতেই পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মিলিত হতেন ফরিদা। পাশের রুমে বসে থাকতেন আনোয়ার। মনির ভেবে কূল পান না, এটা কিভাবে সম্ভব। কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি পরিস্কার হয়। মনিরের কাছে আনোয়ার দাবি করেন পাঁচ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে গোপন ক্যামেরায় ফরিদার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছেন তিনি। টাকা না পেলে বউকে দিয়ে ধর্ষণ মামলা দেবেন। প্রয়োজনে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে  দেবেন। একই সুরে কথা বলেন ফরিদাও। আনোয়ার তাকে আগেই বুঝিয়েছেন। দরকার টাকা। এক মনির গেলে আরেক মনির আসবে। মনিরের অভাব নেই।

ভগ্নিপতিকে না জানিয়ে কয়েক দফায় এক লাখ টাকা দেন মনির। তারপর দোকানের বেহাল অবস্থা দেখে নজর দেন ভগ্নিপতি। জানতে পারেন নেপথ্যের কাহিনী। এরমধ্যে হুমকি দিতে থাকেন আনোয়ার। এক পর্যায়ে দোকান ছাড়েন মনির। এমনকি ঢাকা ছেড়ে চলে যান গ্রামের বাড়িতে। একটি জিডি করেন। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয় বলে জানান মনিরের ভগ্নিপতি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
a
১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার, ১২:১৭

দয়া করে এই ধরণের অধ্যয়ন চালিয়ে যান এবং প্রকাশ করুন। সুতরাং মনিরের মতো লোকেরা পিছনে যাবে এবং এটি করার জন্য হাজারবার চিন্তা করবে।

জিয়া উদ্দিন
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার, ৮:০৩

পাদটীকা: ———— সাময়িক চাহিদা ও উত্তেজনায়, ঐ সব অধৈর্য্য ও বেয়াদপ নারীর পাল্লায় পড়া মনির আমাদের দেশে হাজার হাজার, এসব মনিরেরা এ ধরনের লোভ, যৌন আবেগ, প্রেমের ঘোরে পড়ে, নিজের ধনসম্পদ ও টাকা পয়সা তুলে দিতে বাধ্য হয়.. । কারন প্রথম প্রথম ঐ সব কুলাঙ্গার চরিত্রহীন ও বিশ্বাসঘাতক নারীরা মনিরের মতো লোকদেরকে দিয়ে তাদের কামনা মিটায়, তারপর আস্তে আস্তে অবৈধ পরকীয়ায় আসক্ত মনিরদেরকে অডিও ভিডিও ও পরকীয়ার নানান রকম প্রমান ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়ে যায় টাকা পয়সা, ধনসম্পদ ইত্যাদি। আর সংসারগুলোকে করে দেয় বিরানভুমি। এসব পাপের শেষ পরিণতিটা হয় বড়ই ভয়াবহ, যা কিনা শেষঅব্দি হত্যাকাণ্ড দিয়ে অবসান হয়। সুতরাং বলব, সাধু সাবধান। নিজেও সাবধান থাকব, অন্যকেও সাবধান করব। স্বামীর অবহেলা, অযত্ন, উদাসীনতার ও শারীরিক অক্ষমতার গল্প, বন্ধু বানিয়ে তাকে বলা কিংবা এর প্রতিকার সরূপ পরকীয়ায় জড়ানো একটা সস্তা গল্প মাত্র। এরকম সমস্যা সমাধানের আসল সব প্রতিকার (স্বামীর চিকিৎসা ও সর্বশেষ বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারত এর বাস্তবসম্মত প্রতিকার) এদের বিকৃতে চিন্তা ও মননে এরা স্ব-ইচ্ছাতেই অবলুপ্ত করে থাকে। কারণ কু- কামনা চরিতার্থ করাতেই যে তাদের সকল অপযুক্তির আয়োজন। সুতরাং দুশ্চরিত্র নারী পুরুষ পারিবারিক বন্ধনে থেকে নানান দাম্পত্য সমস্যাকে অজুহাত বানিয়ে, জড়িয়ে পড়ে মারাত্মক চারিত্রিক অবক্ষয়ের করতলে, তলিয়ে সে যায় ধ্বংসের অতল নোংরা গহ্ববরে। সেই সাথে ডুবিয়ে দিয়ে যায় তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সম্মান ও ইজ্জত। —লেখক: জিয়া উদ্দিন সোহাগ (খবরের লেখাটি তর্কপ্রাণ যুক্ত, বিশেষত এর উপাদান বিন্যাস যেভাবে করা হয়েছে মানবজমিন সংবাদ লেখাতে। তাই আমার এই পর্যালাচনামুলক পাদটীকা না লিখে পারলাম না। ধন্যবাদ)

Shahid
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার, ৮:২৪

সৃষ্টিশীলতা! ধর্ম সেকেলে! টাকার দরকার। টাকাই আসল। টাকার জন্য নিজ সন্তানকে হত্যা করে অপরকে আসামী করা হয়। টাকার জন্য অষ্টাদশী কন্যাকেও পতিতায় দেয়া হয়। আল্ট্রা মডার্ন। আগে একজনের চাকরি দিয়ে চলতো। এখন দু’জনেরটা দিয়েও হয় না।

NARUTTAM KUMAR BISHW
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার, ৪:৫৬

এসবই ভারতীয় চ্যানেলে দেখা কাহিনী। যেটা এরা নিজেদের জীবনে শুধু প্রয়োগ করেছে মাত্র। সংস্কৃতির আগ্রাসন কত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এটা তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন। তা না হলে এই ঘটনার বিষ্ফোরন ঘটবে আগামীতে। যেটি হয়তো আর আমাদের নাগালের মধ্যে থাকবে না। শুধুমাত্র নেশা নয় অর্থও শারিরীক চাহিদা সবই এখানে ভূমিকা রেখেছে। ছয় কোটি মানুষের ঢাকার শহর, কে কার ঘরে যাচ্ছে কি হচ্ছে এটা দেখার সময় কারো হাতে নেই। তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।

Shaker Ahmed
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার, ৩:৩৭

HOW IT POSSIBLE A HUSBAND CAN DO SUCH AS THING ! CAN'T BELIEVER. SHAME ON HIM FOR MONEY WHAT HE DID.

ইউসুফ কুয়েত
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার, ১:১৪

ঢাকা শহর আইশা মনের আশা ফুরাইছে, যেখানে সমাজ নাই, স্বজন নাই , অজান্তে কত ঘটনা পড়ছি দিন দিন, বেমালুম পৃথিবীর ইনফিনিটি।

Faruque Ahmed
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার, ১২:২২

দয়া করে এই ধরণের অধ্যয়ন চালিয়ে যান এবং প্রকাশ করুন। সুতরাং মনিরের মতো লোকেরা পিছনে যাবে এবং এটি করার জন্য হাজারবার চিন্তা করবে।

অন্যান্য খবর