× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান। গতকাল বাদ জোহর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের পক্ষ থেকে মিজানুর রহমান খানের মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী, বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর ও সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজাসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা। পরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিআরইউ’র বর্তমান ও সাবেক নেতারা অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা জানাজায় অংশ নেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মিজানুর রহমান খানের তৃতীয় জানাজা জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মিজানুর রহমান খান তার সন্তানদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন তা যেন সফল হয়। আমরা সরকারের কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সহায়তা করবো। প্রয়োজন হলে আরও করবো। বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মিজানুর রহমান খানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ছিল। মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকতায় উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমরা তাকে সৎ, নির্ভীক সাংবাদিকতা করতে দেখেছি। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করেছেন, চাপের কাছে কখনো নতি স্বীকার করেননি। আমি মিজানুর রহমান খানের আত্মার শান্তি কামনা করছি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, মিজানুর রহমান খানের ভাই সিদ্দিকুর রহমান খান, মশিউর রহমান খান। জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা শেষে মিজানুর রহমান খানের মরদেহ নেয়া হয় কারওয়ান বাজারে তার কর্মস্থল প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে। সেখানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সহকর্মীরা এই বরেণ্য সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা জানানোর সময় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, মিজানুর রহমান খান প্রথম আলোর সঙ্গে ১৫ বছর ধরে ছিলেন। প্রথম আলোর সেরা সাংবাদিকদের একজন ছিলেন মিজানুর রহমান খান। দেশের বর্তমান সময়ে অন্যতম সেরা সাংবাদিক। তিনি সারা সময় সাংবাদিকতা নিয়ে থাকতেন। সব বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল। তিনি একজন সেরা মানুষও। পরিশ্রমী ও সৎ সাংবাদিক। তার অনুপস্থিতি প্রথম আলোর জন্য বেদনাদায়ক, দুঃখজনক। তার অভাব পূরণ করা সম্ভব নয়।
মতিউর রহমান শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা মিজানুর রহমান খানের আদর্শ রক্ষা করি, তার উদ্দেশ্য মনে রাখি। আমরা যেন আরও ভালো সাংবাদিকতা করতে পারি। মিজানুর রহমান খানের পরিবার আমাদের পরিবারভুক্ত। অতীতের মতো বর্তমান ও ভবিষ্যতেও আমরা তাদের পাশে থাকবো। প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, মিজানুর রহমান খান অসাধারণ সাংবাদিক ছিলেন। তার চেয়েও বেশি অসাধারণ মানুষ ছিলেন। আইন, মানবাধিকার, সংবিধান বিষয়ে প্রজ্ঞার কারণে এই পেশার মানুষেরাও তার কাছে পরামর্শ নিয়েছেন। প্রজ্ঞা ও সাহসের সম্মিলন ছিল তাঁর মাঝে। লালসা নেই, লোভ নেই, সাংবাদিকতার আদর্শ বলতে যেটা বোঝায়, সেটা ছিলেন তিনি। তার চলে যাওয়াটা সাংবাদিকতার জন্য বিরাট ক্ষতি। বাদ  জোহর মরহুমের মরদেহ রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মিজানুর রহমান খান করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন। তার নমুনা পরীক্ষায় গত ২রা ডিসেম্বর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি ৫ই ডিসেম্বর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শারীরিক সমস্যা বাড়লে সেখান থেকে ১০ই ডিসেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর