× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার
চসিক নির্বাচন

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৩ জনের নামে হত্যা মামলা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
১৪ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানার ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগে গুলিতে আজগর আলী বাবুল নামে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরকে মূল অভিযুক্ত করে ১৩ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত আজগর আলী বাবুলের ছেলে সিজান মোহাম্মদ সেতু বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। ডিবির পরিদর্শক শাহাদাত মামলা তদন্ত করছেন। গতকাল বিকালে এমন তথ্য জানান নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে নগরীর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর গণসংযোগে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে আজগর আলী বাবুল (৫৫) ঘটনাস্থলে নিহত হন।
আজগর আলী বাবুল মোগলটুলির কাটা বটগাছ এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো ২ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরকে দায়ী করেন।

সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার ফারুক উল হক জানান, ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের তোপের মুখে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ তার অনুসারী ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ঘটনায় সম্পৃক্ত কারা আছেন তা যাচাই-বাছাই করে দেখার পর ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা নেয়া হয়। এতে আরো ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে।
মামলার বাদী সিজান মোহাম্মদ সেতু এজাহারে উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের গণসংযোগে গিয়েছিলেন তার বাবা। ওই সময় সে নন্দনকাননে ছিল। মোগলটুলি পৌঁছার পর হঠাৎ গুলির আওয়াজ শুনে সে তার বাবাকে খুঁজতে থাকে। দূর থেকে দেখে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাছে যেতেই সানমুন স্কুলের সামনে বুকে গুলি লেগে তার বাবা পড়ে যান। গাড়িতে করে হাসপাতালে নেয়ার পথে স্টেডিয়াম এলাকায় পৌঁছাতেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে তার বাবা। এরপর মেহেদীবাগ ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার বাবাকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক।  
আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, মোগলটুলি এলাকায় গণসংযোগ করছিলাম আমি। সেখানে মেয়র প্রার্থী রেজাউল ভাইয়ের নির্বাচনী কার্যালয়ে কিছুক্ষণ বসি। পরে নজির ভাণ্ডার লেইনে গণসংযোগ করতে যাই। হঠাৎ আবদুল কাদেরের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলার পাশাপাশি গুলিবর্ষণ করে। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবুল নিহত হন। মাহবুব নামে আমার আরেকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে বলেন, বাহাদুরের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় আমার পোস্টার ছিঁড়েছে। গত মঙ্গলবার পুলিশ ও নির্বাচন অফিসে আমি অভিযোগ করেছি। সন্ধ্যায় আমি মগপুকুর পাড়ে গণসংযোগে যাই। এখানে তার লোকজন হামলা করে। হামলার সময় আমি একটি ভবনের দোতলায় ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আমার লোকজন দৌড়ে চলে যায়। আমি প্রাণের ভয়ে একটি বাসায় আশ্রয় নিই। তারা পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা আমার বাসাবাড়ি ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম বাহাদুর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ২০১০-২০১৫ মেয়াদে তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।
অপরদিকে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাদের ২০১৫ সালে ওই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর