× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি মাধবপুরের নিখোঁজ শিশু নিলয়

বাংলারজমিন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা
১৫ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার

দুই বছর পার হলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজার থেকে নিখোঁজ  শিশু শিক্ষার্থী নিশাদ রহমান নিলয়কে উদ্ধার করতে পারেনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। শিশু নিলয়কে উদ্ধার করতে না পারায় তার পরিবার এখান বাকরুদ্ধ। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে নিলয়কে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ২০১৮ সালের ১৭ই আগস্ট উপজেলার ধর্মঘর এলাকা থেকে প্রবাসী মশিউর রহমানের একমাত্র  ছেলে নিশাদ রহমান নিলয় নিখোঁজ হয়। নিলয় নিখোঁজের দুইবছর সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মিলেনি। নিলয়ের পরিবার জানায়, ওই দিন ধর্মঘর এলাকায় বাসার একটু অদূরে কোরবানির পশুর হাটে মামাদের সঙ্গে গরু কিনতে যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলয়। গরু কেনা না হলে মামাদের হাটে রেখেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় নিলয়। নিলয় সন্ধ্যায় বাসায় না আসায় পরিবার হয়ে পরে উদ্বিগ্ন।
নিলয়কে কোথাও খুঁজে না পাওয়া গেলে তার মামা আশিকুর রহমান ওইদিন রাতেই মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিলয়ের বাবা মশিউর রহমান পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামের মৃত হাজী আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আররে চাকরি করেন। তিনি প্রবাসে থাকার সুবাদে শ্বশুরবাড়ি ধর্মঘর বাজারে তিনতলা একটি নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করেন। ওই বাসায় একটি ইউনিটে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তার স্ত্রী আবিদা সুলতানা। বাকি ইউনিটগুলো ভাড়া দিয়ে দেন। তাদের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন নিলয়ের দুই মামা। মামাদের আদর সোহাগে বেড়ে উঠে নিলয় সহ তার দুই বোন। নিলয় নিখোঁজের খবর পেয়ে তার বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। এর তিনদিন পরেই নিলয়ের পিতা মশিউর রহমান বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি দেখানো হয় অজ্ঞাত। তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয় মাধবপুর থানার উপ-পরিদর্শক লিটন চন্দ্র ঘোষকে। মামলা চলাকালীন অবস্থায় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে নিলয়রে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। এক পর্যায়ে থানা পুলিশ ও র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সদস্যরা কয়েকজন দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে  সোপর্দ করেন। কিন্তু গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে সন্ধান মিলেনি নিলয়ের। এক পর্যায়ে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশকে। তাদের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। নিলয়ের বাবা মশিউর রহমান বলেন- ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোস্তাক আহম্মেদ ফয়সলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ধর্মঘর এলাকার সজিব মিয়া। তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসে নিলয় অপহরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য। মশিউর রহমান বলেন, গাড়িচালক সজিব মিয়া নিলয় অপহরণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। সজিব আদালতে বলেছেন, ছয় মাস আগে থেকেই নিলয়কে অপহরণের পরিকল্পনা করছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের হোসেন আহম্মেদের ছেলে শীর্ষ মাদককারবারী মোস্তাক আহম্মেদ ফয়সল। নিলয় অপহরণের কয়েকদিন আগে ধর্মঘর এলাকার হরিষপুর গ্রামের কবিরাজ জামাল মিয়ার বাড়িতে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিল মশিউর রহমানের চাচাতো বোন নূরুন্নাহার বেগম, তার মেয়ে ঝুমা বেগমসহ আরো কয়েকজন। আদালতে জবানবন্দিতে গাড়িচালক সজিব বলেন, ঘটনার দিন নূরুন্নাহার বেগম তার মেয়ে ঝুমা বেগমকে দিয়ে নিলয়কে নিয়ে যায় তাদের ঘরে। এখানে নিলয়কে আটক রেখে খবর দেয় ফয়সলকে। ফয়সলের নির্দেশে সজিব, কবিরাজ জামাল মিয়া, সিএনজি চালক বিল্লাল মিয়া, নুরুন্নাহার ও তার মেয়ে ঝুমা বেগম নিলয়কে একটি সিএনজিতে তুলে হরিষপুর কবিরাজ জামাল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওখান থেকে নিলয়কে হস্তান্তর করা হয় ফয়সলের হাতে।
সজিবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় নূরুন্নাহার বেগম, তার মেয়ে হালিমা আক্তার ঝুমা, কবিরাজ জামাল মিয়া, সিএনজিচালক বিল্লাল মিয়া। গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল মিয়াও নিলয় অপহরণের কথা স্বীকার করছে। কিন্তু গ্রেপ্তার হয়নি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফয়সল। এদিকে ডিবি পুলিশ আদালতে চার্জশিটি দাখিল করেছেন। চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয় ফয়সলসহ গ্রেপ্তারকৃতদের। এদিকে নিলয় উদ্ধার না হওয়ায় মশিউর রহমান আদালতে এ চার্জশিটে নারাজি দিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের দাবি করে। আদালত মামলাটি তদন্ত করতে হবিগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দেন। সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করছে হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোক্তাদর  হোসেন। পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোক্তাদির হোসেন বলেন, নিলয়কে উদ্ধার করতে পিবিআই বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর