× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার

স্বজনের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে আমেনা

বাংলারজমিন

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) থেকে
১৭ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার

নেত্রকোনায় দ্বিতীয় দফায় দু’টি পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে কেন্দুয়া পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে ইভিএম-এ আর মোহনগঞ্জ পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে ব্যালটে। কেন্দুয়ায় চলা ইভিএম-এ ভোট মন ছুঁয়েছে জ্যেষ্ঠ ভোটারদের। ইভিএমে ভোট দিতে তাদের আগ্রহের শেষ নেই। কেউ স্বজনদের কাঁধে চড়ে, কেউবা স্বজনদের কোলে চড়ে কেন্দ্রে যাচ্ছেন ভোট দিতে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। শতবর্ষে ভাতিজার কাঁধে চড়ে এসে ভোট দিলেন মস্তান মিয়া। নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর শহরের কান্দিউড়া এলাকার বাসিন্দা মস্তান মিয়ার বয়স ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী ১০২ বছর।
তিনি ভোট দিয়েছেন আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। মস্তান মিয়া সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভোটকেন্দ্রে যান ভাতিজা আবু জাফরের কাঁধে চড়ে। জ্যেষ্ঠ এই নাগরিক বলেন, ‘কয়ডা দিন বাঁচি না বাঁচি। আর কুনু ভোট দিতারি, না দিতারি কুনু ঠিক নাই। সহাল সহাল ভোট দিতাম আইয়া পড়ছি। আগের থেইক্যা এইবার ভোট দিছি সোজায়। তার ভাতিজা আবু জাফর বলেন, চাচা ১০০ বছর পার কইরা ফালাইছে। বয়স হইছে তো। আগের মতো চলতে ফিরতে পারে না। কাইল রাত থ্যাইকা ভোট দেয়নের লাইগ্যা কইতাছে। সহালে ভোট দেয়নের লাইগ্যা বাউ অইয়া ডাহাডাহি করতাছে। লইয়া আইলাম কেন্দ্রে। ভোট দিছে। মনডায় অহন শান্তি পাইছে।’ জীবনের ৯৩টি বছর অতিক্রম করে আসা কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমেনা খাতুন। ১৯২৭ সালে জন্ম আমেনা খাতুনের। বেলা ১১টার দিকে মেয়েকে কেন্দুয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন তিনি। বাড়ি থেকে রিকশায় রওয়ানা দিলেও ভোটকেন্দ্রে ঢোকেন এজেন্টের কোলে চড়ে। কেমন লাগল ভোট দিতে কেমন লাগলো জানতে চাইলেই খুশি ফুটে উঠলো শতায়ু ছুঁই ছুঁই আমেনা খাতুনের। মুখের চামড়ায় পড়া ভাঁজে যেন শীতের সকালে রোদের ঝিলিক বয়ে গেল। বললেন, ‘হারা জীবন কতো ভোট দিছি। চিল মাইর‌্যা। এইবার আঙ্গুলে টিপ মাইরা ভোট দিছি। দেরি অইছে না। ভালা লাগছে। আমেনা খাতুনের মেয়ে বলেন, ইভিএমে ভোটের কথা হোনার পর থেইক্যা মা ভোট দিয়াম দিয়াম করতাছে। লইয়া আইলাম। ভোট দিছে। ইভিএমে ভোট দিয়া খুব খুশি অইছে।’ আমেনা আর মস্তান মিয়া নয়- এমন বহু জ্যেষ্ঠ ভোটার লাঠিতে ভর কিংবা স্বজনতে সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেন্দুয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটারের উপস্থিতি ছিল ভালো। বেলা ১১টার দিকে কেন্দুয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হায়দার জাহান জানান, কেন্দ্রটিতে ২ হাজার ৭০১টি ভোট রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০২টি ভোট পড়েছে।

 সকাল ১০টার দিকে কেন্দুয়া পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো আছে। এভাবে ভোট হলে জয়ী হবো। সকাল সোয়া ১০টার দিকে নৌকার প্রার্থী আসাদুল হক ভূইয়া বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে, ভোটার খুব আগ্রহে ভোট দিচ্ছেন। বেলা ১২টার দিকে কেন্দুয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দিতে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। ভোট প্রদান শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, সেই ডিজিটাল দেশ গড়ার মডেল আজকের ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ। ইভিএমে জালভোট বা অনিয়মের ভোট নেই। ভোটার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কেউ কোনোরকম অভিযোগ করেনি। জননেত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। শেখ হাসিনার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এখানকার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন- এমনটাই প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল বলেন, এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়া এটাই আমার প্রথম। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ভুয়া ভোট ও ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে আন্দোলন করেছি। আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে এসে অভিভূত হয়েছি এই কারণে- যার ভোট সেই দিতে পারছে এজন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য ৯টি কেন্দ্রে ৯ জন প্রিজাইডিং, ৪২ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ৮৪ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ৯ জন নির্বাহী হাকিম, ১ জন বিচারিক হাকিমসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা রয়েছেন ভোটের মাঠে। এই পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ২৫৬ জন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর