× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শুক্রবার
চসিক নির্বাচন

অবৈধ’র পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রও অবৈধভাবে ব্যবহার হচ্ছে

শেষের পাতা

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে
১৭ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার

নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। ইতিমধ্যে প্রাণও গেছে দুজনের। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এসব অস্ত্র বৈধ না অবৈধ। পুুলিশের তথ্যমতে, অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রও অবৈধভাবে ব্যবহার হচ্ছে।

চসিক নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী
ডা. শাহাদাত হোসেনও অস্ত্রের ঝনঝনানি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, আগে যেকোনো নির্বাচনে বৈধ অস্ত্র জমা নিয়ে প্রশাসন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাতো। কিন্তু চসিক নির্বাচনে প্রশাসন এখনো পর্যন্ত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান কিংবা বৈধ অস্ত্র জমা নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি কেন? তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ৩৫ ওয়ার্ডে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। পাঠানটুলি ও বাকলিয়াতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি ও ছুরিকাঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন।
বৃহসপতিবার গভীর রাতে হালিশহর রামপুর ওয়ার্ডের বড়পুকুর পাড়ে ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার লাগাতে গেলে যুবলীগ কর্মীরা হামলা চালায়।

ডা. শাহাদাত বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র সাধারণ ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার হতে পারে। নির্বাচনের আগে আরো হামলা এবং হতাহতের ঘটনার আশঙ্কায় সাধারণ ভোটাররা শঙ্কিত। এসব খুনোখুনি বন্ধে ও সাধারণ ভোটার এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জানমালের নিরাপত্তায় অবিলম্বে লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা নিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদনেও। তবুও বৈধ অস্ত্র জমা নিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান চট্টগ্রাম  জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, একনলা, দু’নলা, শটগান ও পিস্তলের বৈধ লাইসেন্স দেয় জেলা প্রশাসন। আর অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের।
এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, বৈধ বা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে বেআইনি কাজ করার সুযোগ নেই কারো। যা থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও নজরদারি করে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও পুলিশ কাজ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট, ব্লকরেইড করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন গাড়ি ও ব্যক্তিকে তল্লাশি করছে। আমি নিজেও মাঠে থেকে তদারকি করছি। যেকোনো মূল্যে নির্বাচনী সহিংসতা দমনে সিএমপি জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে।

সিএমপি’র তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৪,২৭৫টি। তবে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যা কতো তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে অস্ত্র মামলার সূত্র ধরে ধারণা করা হচ্ছে, দুই শতাধিক অবৈধ দেশি-বিদেশি অস্ত্র রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। তবে সিটি নির্বাচন এলেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে অবৈধ অস্ত্রের আমদানি বাড়ে। সে জন্য প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানোসহ নগরজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সূত্রমতে, গত ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয় ছয়টি। এর মধ্যে দুটি বিদেশি ও চারটি দেশি। জানুয়ারিতে এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে দুটি  দেশীয় অস্ত্র। এগুলোর বাহককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে নগরবাসী ও প্রার্থীদের মাঝে।

এদিকে নির্বাচনী সহিংসতায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে, না-কি বৈধ অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে; সে ব্যাপারেও পুলিশ অন্ধকারে। তবে গত ২রা ডিসেম্বর গভীর রাতে গোলপাহাড় মোড়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন আলমগীর আলম নামের এক ঝুট ব্যবসায়ী। পরে পুলিশ তদন্ত করে বলেছেন, অবৈধ এ কাজে বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।   

চসিক নির্বাচনে অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ৮ই জানুয়ারি চসিক নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর দিন চকবাজার, শুলকবহর ও মোহরা এলাকায় কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে রক্তাক্ত জখমের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘাতে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার হয়। এর মধ্যে চকবাজারের ঘটনায় রক্তাক্ত ছাত্রলীগ কর্মী আশিকুর রহমান রোহিত শুক্রবার ভোরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গত ১২ই জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে ডবলমুরিং এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের লোকজন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বাবুল নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী। তবে বাবুল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে অন্তত নগরীর ১০টি স্থানে অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে শুধু অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বা প্রদর্শন হচ্ছে তাই নয়, বৈধ অস্ত্র দিয়েও হানাহানির ঘটনা ঘটছে। সামনেও সেটা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর