× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৮ মার্চ ২০২১, সোমবার

একটি বড় অংশ আমাকে প্রত্যাখ্যান করে (৪৮)

এক্সক্লুসিভ

কাজল ঘোষ
১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার

যে সময় স্পিকার পেরেজ ভেতরকার কলা কৌশল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলেন আমি তখন বাইরের দিকটা সামলাচ্ছিলাম। আমি তখন যোগ দিলাম বড় একটি দলের সঙ্গে যারা বাড়ির মালিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলছিলেন এবং বিলটি পাস করতে প্রচারণার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। সংঘবদ্ধভাবে শ্রম দেয়া ছিল খুবই প্রয়োজনীয় কাজ। সমর্থকদের দলে ভেড়াতে তারা ছিল অসাধারণ দক্ষ। এমন অসংখ্য লোকের ফোনের চাপে আইনপ্রণেতাদের ফোন বিকল হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু এটা শুধুমাত্র সংঘবদ্ধ শ্রমেরই ব্যাপার ছিল না। ছিল শ্রমিকদের উপস্থিতি। স্যাক্রামেন্টোর চাঞ্চল্যকর কৌশলই এক্ষেত্রে কাজ করেছে। যখন একটি পরিবার ফোরক্লোজারের ফলে বাড়ি ছাড়া হয় তখন জেলার বাইরে গিয়ে বাস করে।
তারা আর সেই এলাকাতে বাস করে না। সুতরাং সাময়িক সময়ের জন্য তার এই ক্রোধান্বিত অবস্থা একটি সমস্যা তৈরি করে। ব্যাংক এবং স্টেট ক্যাপিটালের উপস্থিতি সেখানে একটি বিস্ফোরণমূলক অবস্থার সৃষ্টি করে। সংঘবদ্ধ শ্রম শুধুমাত্র শ্রমিকদের জন্যই কাজ করছিল না যাতে করে তারা ভালো বেতন পায় এটি একইসঙ্গে নিশ্চিত করছিল- যাতে তারা তাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সম্মানের সঙ্গে বাস করতে এবং একটি বাড়ি ক্রয় করতে পারে। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। বার্তাটি হচ্ছে ব্যাংকের পক্ষ নিলে শ্রমিকদের কাছে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
ভোটের কাছাকাছি সময়ে আমি ক্যাপিটল হল বিল্ডিংয়ের দিকে হাঁটতে হাঁটতে ঘোষণা ছাড়াই আইনপ্রণেতাদের দরজায় কড়া নাড়ছিলাম। একটি বড় অংশ আমাকে প্রত্যাখ্যান করে। আমি তা আমার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেরও জানাই। আমার মনে পড়ে অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় আমার বিশেষ সহকারী ব্রায়ান নেলসনকে প্রায়ই তার ডেস্কে থাকার সময় ডাকতাম, সে জবাব দিতো, সে সমস্যায় ছিল। ‘তুমি কেন তোমার ডেস্কে বসে আছো?’ আমি জিজ্ঞাসা করতাম। ‘তুমি কেন হেঁটে চলে আসো না ক্যাপিটল হিলে।’ আমি জানি তোমার গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে কিন্তু কোনোকিছুই এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তুমি হেঁটে চলে আসো! মুখোমুখি কথা বললে কেউই আমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না।
যখন বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হয় তখনো আমাদের পক্ষে মেজরিটি ভোট নেই। অনেক আইনপ্রণেতাই ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুতরাং তারা কি কাউকে সমর্থন দেবেন, না দেবেন না- বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের ৪১টি হ্যাঁ ভোটের প্রয়োজন হবে। অনুপস্থিতির অর্থ দাঁড়ায় না ভোট।
স্পিকার পেরেজের একটি পরিকল্পনা ছিল। তিনি ভোট সেই পর্যন্ত খোলা রাখবেন যতক্ষণ আমাদের পাশে পাবার জন্য চাপ অব্যাহত রাখতে পারবো। যতক্ষণ না সকলে ভোট দিচ্ছে তা যদি আজীবনও হয় তাহলে তা খোলা রাখা হবে। কার্যক্রম শুরুর প্রথমে সংসদীয় তদন্ত চালুর জন্য তার একজন মিত্র ছিল।
একজন আইনপ্রণেতা জিজ্ঞাসা করলেন, ইতিহাসে সর্বোচ্চ কতোদিন এই ভোটের সুযোগ খোলা ছিল। পেরেজ বললেন, আমি যতদূর জানি ইতিহাসের সব থেকে দীর্ঘ সময়ের ভোট চলেছিল এক ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট। তুমি জানো আমি কতোটা প্রতিযোগিতাপূর্ণ। আমি এই রেকর্ডের থেকেও অনেক দূরে যেতে পারবো।   
এই মুহূর্তে এসে সকলেই বুঝতে পারে পেরেজ সত্যিকার অর্থেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ভোট শুরু হতেই সবুজ সংকেত জ্বলে ওঠলো।
আমি ড্যারেল স্টেইনবার্গের অফিসে ছিলাম। তিনি সেখানে বসে সিসি ক্যামেরায় সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিলেন। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম আইন প্রণেতাদের যারা এখনো ফ্লোরে ছিল কিংবা যারা ভোট না দিয়ে কানাঘুষা করছিল আমি তাদেরকে মেসেজ পাঠাতে চেয়েছিলাম যে, আমি দেখতে পাচ্ছি আপনারা ভোট দেননি, যান ভোট দিয়ে আসুন। আমরা একজন একজন করে সবার কাছে যাচ্ছিলাম এবং জন একই কথা সবার কাছে বলছিল। ফেরিওয়ালার মতো সে বলছিল, আপনারা সবাই কি ভোট দিয়েছেন? আপনারা সবাই কি ভোট দিয়েছেন?
আমার মনে হচ্ছিল অনন্তকাল ধরে এটি চলছে। তবে বাস্তবে মাত্র পাঁচ মিনিটেই আমরা ৪১টি ভোট নিশ্চিত করেছিলাম। জন ভোট শেষ করলো এবং আমরা জয়ী হলাম। সিনেট বিল পাস করলো এবং গভর্নররা তাতে স্বাক্ষর করলেন। আমরা এতদিন যাকে অসম্ভব বলে জেনে আসছিলাম এখন তাই আমরা সত্যি করলাম। আমার যতদূর মনে পড়ে, এটা ছিল গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত। এবং এটি আমাদেরকে শেখায় যে, রাজনীতির মারপ্যাঁচের মধ্যেও উৎসাহজনক অনেক ঘটনাই ঘটে থাকে এবং এর মধ্য দিয়েও দারুণ কিছু করাও সম্ভব।  
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি
‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর