× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার
গোয়েন্দা প্রতিবেদন

সিন্ডিকেটে জিম্মি ভোজ্য তেলের বাজার

প্রথম পাতা

আল-আমিন
২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার

দেশে ভোজ্য তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। কিছুতেই বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয়  এ পণ্যটির দামে অস্থিরতার পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজিকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটি তথ্য পেয়েছে আমদানিকারক সিন্ডিকেটের কাছে পুরো বাজার জিম্মি। এই মুহূর্তে বাজারে কোনো সংকট না থাকলেও দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কিছু সুপারিশসহ সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়েনি। উৎপাদন ব্যবস্থাও ঠিক আছে।
একটি গোষ্ঠী কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে তেলের দাম বাড়াচ্ছে। আমদানি কমে যাওয়া এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কথা যারা বলছেন তাদের তথ্য বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।  কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তেলের দাম বাড়তে থাকবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন গতকাল মানবজমিনকে জানান, ভোজ্য তেলের বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সামনে আমরা বৈঠক করবো। বৈঠকে এ বিষয়ে সমাধান আসবে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে আমদানিনির্ভর ভোজ্য তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। বাজারে দাম উঠানামা করার কারণে বাজার ব্যবস্থাপনা অস্থিতিশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে তিন ধরনের  ভোজ্য  তেলের চাহিদা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- পাম অয়েল, সয়াবিন ও সরিষার তেল। দেশে প্রায় ১৬ লাখ টন সয়াবিন ও পাম তেলের চাহিদা রয়েছে। আমদানিকারক  কোম্পানিগুলোর তেলের মজুত ক্ষমতা ৩০ লাখ টন। যা তেলের মোট চাহিদার দ্বিগুণ। ২০১৯ সালে দেশে অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ৬০ হাজার টন। ২০১৮ সালে পাম অয়েল আমদানির পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ২০ হাজার টন। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে দেশে মোট ৮ লাখ ৪০ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে। এ ছাড়াও ২০১৮ সালে দেশে সয়াবিন তেল আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার টন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে বছরে মাত্র ১ লাখ টন সরিষার তেল আমদানি হয়ে থাকে। এসব তেল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, প্যারাগুয়ে, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা হয়। তবে এরমধ্যে দেশীয় কোম্পানিগুলো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে। বাকিটা উপরে উল্লিখিত দেশ থেকে আমদানি করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকায়। ১ কেজি পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১১৮ টাকায়।

প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, বোতলে ১ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়। এ ছাড়াও ৫ লিটার মাপের বোতলের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৫৬০-৬০০ টাকায়। করোনায় আয় কমে যাওয়ায় তেলের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ এবং মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা বাজার মনিটরিং করে ব্যবসায়ীদের কাছে একাধিক তথ্য পেয়েছেন। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে, তেলের  আমদানি কমে যাওয়া, হঠাৎ ডলারের মূল্য উঠানামা এবং বাজেটে তেল আমদানিতে করের হার উচ্চ হওয়ার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, ২০২০ সালের ২০শে ডিসেম্বর থেকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় অপরিশোধিত প্রতি এক টন তেল ৫৯৯ ডলারে বিক্রয় হচ্ছে। সেখানে দাম কিছুটা উঠানামা করে। কিন্তু, সে দামের হার একেবারেই কম। যা দেশে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কোনো কারণ হওয়ার প্রশ্ন আসে না। দেশের বাণিজ্যসহ একাধিক মন্ত্রণালয় আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়ে দাম কমার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বসলেও এ বিষয়ে কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫টি আমদানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন তেলের  কখনো আমদানি বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ায়। আবার  কোম্পানিগুলো মিল গেটে হঠাৎ আচমকা দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে থাকে। দাম বাড়া ও কমার পেছনে এই সিন্ডিকেটই দায়ী। এক পক্ষ তেলের দাম বাড়ালে আরেকপক্ষ হঠাৎ বৃদ্ধি করে। এসময় দাম বাড়াতে তারা প্রতিযোগিতা শুরু করে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যে এবং সাগর পথে তেল আমদানি করতে হয় বলে ছোট পুঁজির ব্যবসায়ীরা তেমন আমদানি করতে পারেন না। এ অসুবিধাকে পুঁজি করে এই  সিন্ডিকেটের কারণে তেলের মূল্য উঠানামা করে থাকে। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলোর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়া আছে। এক মৌসুমে অধিক মুনাফা লাভের জন্য তারা তেলের দাম বাড়িয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তেলের রিফাইনারি কারখানাগুলোতে  ভোজ্য তেলের মজুত রেখেছে। এ ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের গোডাউনে তেল মজুত রেখেছেন।
ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যে বিষয়ে বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ৪টি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য তেলের আমদানিকারক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারি কারখানা এবং অন্যান্য গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং যেসব টিম রয়েছে তা আরো সক্রিয় করতে হবে। তেল জাতীয় শস্য বা তেলবীজ উৎপাদনে দেশের কৃষকদের সুদবিহীন ঋণ প্রদান করা যাতে তেলের কাঁচামালের সংকট না হয়। বেসরকারি পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠান দেশীয় তেলবীজ দিয়ে সয়াবিন তেল উৎপাদন করতে চায় ওই সব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি সহযোগিতা করা এবং তাদেরকেও সুদবিহীন ঋণ দেয়া।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর