× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার
চসিক নির্বাচন

সংরক্ষিত আসনে প্রার্থিতা নিয়ে জিন্নাত-জোহরার জালিয়াতি

বাংলারজমিন

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে
২১ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

চসিক নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে নগর মহিলা লীগের সদস্য জিন্নাত আরা বেগম ও জোহরা বেগমের বিরুদ্ধে। বুধবার এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সমপাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। তিনি বলেন, ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জিন্নাত আরা বেগম ও জোহরা বেগমকে চসিকের সংরক্ষিত আসন ২৮, ২৯, ৩৬ এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পরে নানা কারণে মনোনয়ন বোর্ড তাদের প্রার্থিতা বাতিল করে নতুন করে সংরক্ষিত আসন দুটিতে জেসমিন পারভীন জেসি এবং ফেরদৌসি আকবরকে প্রার্থী করে। আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটেও অন্য প্রার্থীদের মতো পরিবর্তিত দুই প্রার্থীর নাম সন্নিবেশ করা হয়। এরপরও জিন্নাত আরা বেগম ও জোহরা বেগম দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিজেদেরকে আসন দুটির প্রার্থী দাবি করে গতকাল চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। সেই বিজ্ঞাপনে ১৯শে ফেব্রুয়ারি দলের পক্ষে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষর সম্বলিত প্রার্থী তালিকায় থাকা তাদের দুজনের নাম আলাদা করে নিয়ে বিপ্লব বড়য়ার স্বাক্ষরসহ ছেপে দিয়ে নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মর্মে প্রচার করেন। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দাবি করে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন তারা।
যা দলের সঙ্গে মহাজালিয়তি ও প্রতারণা। এই জালিয়াতির দায়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান বিপ্লব বড়ুয়া।  বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চসিকের সংরক্ষিত ২৮, ২৯ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডে ফেরদৌসি আকবর এবং ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে জেসমিন
পারভীন জেসিই প্রার্থী। এই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চসিক নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।
তিনি বলেন, জিন্নাত আরা ও জোহরা বেগম নিজেদের দলীয় প্রার্থী দাবি
করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তারা দলের প্রার্থী নন। তারা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের প্রার্থী দাবি করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। যে পত্রিকায় তারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ওই পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয়ে আমাকে অথবা বিপ্লব বড়ুয়াকে জিজ্ঞেস করতে পারতেন।

তবে এ বিষয়ে অন্যরকম মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, এর আগে গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চসিক ২৮, ২৯, ৩৬ নং ওয়াডের (সংরক্ষিত নারী আসন) জিন্নাত আরা বেগম এবং ৭ ও ৮ নং ওয়াডে জোহরা বেগমকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তারা এতদিন মাঠে কাজ করেছেন। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তাদের প্রার্থিতা কেন বাতিল করা হবে?
হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, প্রার্থিতা পরিবর্তন মেনে নেয়া যায় না। তাদের প্রার্থিতা বাতিলে নিশ্চয় নেপথ্যে কিছু হয়েছে। তবে যাই হোক জিন্নাত ও  জোহরা মাঠে থাকবেন। নির্বাচন থেকে তাদের সরে আসার সুযোগ নেই। সময়ও নেই। এ বিষয়ে জানতে বুধবার বিকেলে একাধিকবার কল করা হলেও জিন্নাত আরা ও জোহরা বেগম ফোন রিসিভ করেননি। তবে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দুই প্রার্থী বলেন, দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত দলীয় প্রার্থী হিসেবে ২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদেরকে ঘোষণা করা হয়। সেই অনুযায়ী গত ১১ মাস ধরে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ গুছিয়েছি। কিন্তু গত ১৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের দুটি পত্রিকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন কমিটি-২০২১ প্রদত্ত বিজ্ঞাপনে এ দুটি সংরক্ষিত আসনে বিদ্রোহী দুজনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম প্রকাশ করা হয়। এতে আমরা সংক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত।
প্রসঙ্গত, গত ২৯শে মার্চ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া এই নির্বাচন আগামী ২৭ জানুয়ারি ও চারটি ওয়ার্ডে পুনঃতফসিল ঘোষণা করে ইসি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় সমর্থনের বাইরে প্রায় অর্ধশত প্রার্থী আছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমপাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় থাকতে বারবার অনুরোধ জানান। অন্যথায় দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে প্রভাবশালী কিছু নেতা পক্ষে থাকায় বিদ্রোহীদের দমানো যায়নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর