× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার

তাহিরপুরে শীতকালীন সবজির দাম নিয়ে হতাশ কৃষক

বাংলারজমিন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকাসহ উপজেলায় এবার শীতকালীন সবজির ফলন ভালো হলেও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। শীত মৌসুমে একদিকে যেমন বিভিন্ন ফুল ফোটে, অন্যদিকে সবজিতে ভরে ওঠে কৃষকের বাড়ির আঙিনা সহ ফসলি ক্ষেত। বাড়ির আঙিনা ও ফসলি ক্ষেতের মাচায় ঝুলে থাকতে দেখা গেছে লাউ, শিম, পটল, ঝিঙা, শসা ও করলা। জমিতে ফুটে উঠেছে টমেটো, বেগুন, কপি, লালশাকসহ নানা রকম সবজি। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সবজি চাষিরা নিজেদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ।  
উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার চাষিরা বর্তমানে শীতকালীন সবজি স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাজারগুলোতেও দেখা মিলছে বিভিন্ন রকমের শীতকালীন সবজি। শীতের শুরুতে আগাম সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকলেও বর্তমানে দাম খুবই কম।
অন্যান্য বছর শীতকালীন সবজির চাষ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখলেও এ বছর অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু কৃষক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন।

ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা এবং উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় এখানকার কৃষকরা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তাদের উৎপাদিত সবজির বাজার সম্প্রসারিত করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে নিজেদের উৎপাদিত সবজি নিকটস্থ হাট-বাজারেই কম দামে বিক্রি করছেন ।

উপজেলার বালিয়াঘাট বাজারে  সবজি কিনতে আসা বানিয়াগাঁ গ্রামের মো. সুজন মিয়া বলেন, সারা বছরের মধ্যে শীতকালে টাটকা সবজি মেলে। প্রথমদিকে সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকলেও এখন কম। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় কৃষকদের অনেকেই এ হাটে না এসে স্থানীয়ভাবেই সবজি বিক্রি করে থাকে। যার  কারণে চাহিদা মতো সব সময় সবজি মেলেনা।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের জামালগড় গ্রামের কৃষক আফসার উদ্দিন বলেন, অসময়ে বৃষ্টির কারণে প্রথমদিকে বীজতলার ক্ষতি হলেও পরবর্তীতে প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। তবে জেলা সদর এবং উপজেলার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা যদি ভালো থাকতো কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পেতো।

বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলী গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, শীতকালে মূলত তিনি লাউ আর বেগুন চাষ করেন। ২-৩ মাসের মধ্যে ফলন পান। স্থানীয় বাজারে এসব সবজি বিক্রি করেন।
বড়দল উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কৃষক রহিম সুবহান বলেন, কৃষিকাজ করে এর মাধ্যমে উপার্জিত টাকায়ই আমার সংসার চলে, ২ মেয়ে আর ১ ছেলের পড়ালেখার খরচও এটা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি। রাস্তাঘাট ভালো হলে ইচ্ছেমতো যেকোনো বাজারে গিয়ে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে পারতাম। রাস্তাঘাট ভালো না হওয়ায় দূরের বাজারগুলোতে সবজি বিক্রি করা সম্ভব হয়না।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এ মৌসুমে উপজেলায় শীতকালীন সবজি আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫২৬ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ১৫৮০ হেক্টর। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হেক্টর বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতকালীন সবজির ফলন ভালো পেয়েছে। এ চাষ সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৩শ’ কৃষককে ১২ জাতের বীজ এবং নগদ ১৯৩৮ টাকা ছাড়াও আরো ১শ’ কৃষকের মধ্যে বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর