× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার

পি কে হালদারের আইনজীবী কন্যাসহ গ্রেপ্তার

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার

হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পলাতক পি কে হালদারের আরো দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে একজন পি কে হালদারের আইনজীবী সুকুমার মৃধা। দুদকের অনুসন্ধানে তারও ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বেরিয়ে এসেছে। গতকাল গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
গ্রেপ্তার অন্যজন হলেন পি কে হালদারের আইনজীবী সুকুমার মৃধার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা। এই নারীরও দেড় কোটি টাকার সম্পদ পেয়েছে দুদক।
সংস্থাটির সচিব ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, পি কে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ২০০ কোটি টাকা তার মা লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লিলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে আবার পি কে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করা হয়।
এভাবে তারা মানিলন্ডারিং করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন। এছাড়া সুকুমার মৃধার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ এবং তার মেয়ে অনিন্দিতার প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব আসলে পি কে হালদারের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুমুকার ও অনিন্দিতা মৃধা। পি কে হালদারের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানও করেন সুকুমার মৃধা।
এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রেপ্তার আইনজীবী ও তার মেয়ের সম্পৃক্ততা পেয়েছে দুদক। সংস্থাটির সূত্র বলছে, অনিন্দিতা মৃধা ছিলেন পি কে হালদারের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান উইন্টেল ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠানের নামে দুই টার্মে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস থেকে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে ৬৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা উত্তোলন করে এখনো পরিশোধ করেননি অনিন্দিতা। এছাড়া ফাস ফিন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ১শ’ কোটি টাকা ঋণ দেখিয়ে উত্তোলন করে তা আর পরিশোধ করেননি তিনি। সূত্র আরো জানায়, পি কে হালদারের এই দুই সহযোগী সুকুমার ও অনিন্দিতা যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ করেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুকুমার মৃধা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় যা লেখালেখি হচ্ছে, সেই বিষয়ে পি কে হালদারের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তিনি কেবল আমার ক্লায়েন্ট। বিকালে আদালতে নেয়া হলে সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। দুই আসামির পক্ষে এক আইনজীবী শুনানি করতে যান। তবে ওকালতনামায় আসামির স্বাক্ষর না থাকায় আদালত তাদের শুনানি শোনেননি। এরপর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে সকাল ১০টায় ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৩ই জানুয়ারি পি কে হালদারের ‘বান্ধবী’ অবন্তিকা বড়ালের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত। তারও আগে ৪ঠা জানুয়ারি পি কে হালদারের নিকটাত্মীয় শঙ্খ ব্যাপারীর তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পি কে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে গত বছরের শুরুতেই পি কে হালদার বিদেশ পালিয়ে যান। সে বছরের ৮ই জানুয়ারি ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন কমিশনের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর