× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার

সিলেটে ছুটিতে এসে ‘ফেরারি’ প্রবাসী শিমুল

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
২৩ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান রাব্বুলের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ সিলেটের শেখঘাটের বাসিন্দা কাতার প্রবাসী শিমুল আহমদের প্রবাসে থাকাকালেই তাদের জমি দখল করে রাব্বুল বসতঘর নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে দেশে থাকা স্বজনরা বাধা প্রদান করলে দেয়া হয় চাঁদাবাজি মামলা। ছুটি কাটাতে কাতার প্রবাসী শিমুল সম্প্রতি দেশে এসেছেন। তার বিরুদ্ধেও এবার দায়ের করা হয়েছে চাঁদাবাজি মামলা। ফলে দেশে এসে বেকায়দায় পড়েছেন কাতার প্রবাসী শিমুল আহমদ। ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন। দ্বিতীয়বার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করায় তিনি প্রতিকার চেয়ে সিলেটের পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সিলেট নগরীর শেখঘাটের শুভেচ্ছা ১৪০ নম্বর বাসার বাসিন্দা কাতার প্রবাসী শিমুল আহমদ।
পার্শ্ববর্তী ১৩৯ নম্বর বাসার বাসিন্দা হচ্ছে তার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান রাব্বুল। ১০ শতক ৩২ পয়েন্ট জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে পারিবারিকভাবে শিমুলের সঙ্গে রাব্বুলের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে সিলেটের আদালতে মামলা চলছে। এই অবস্থায় গত ২০১৭ সালে শিমুল কাতার চলে যান। তার ছোটভাই নোমান আহমদও কাতার প্রবাসী। প্রবাসে চলে যাওয়ার পর ২০১৯ সালে ফের জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ওই সময় মেহেদী হাসান রাব্বুল দেওয়ানী মামলা চলমান থাকার পরও শিমুলের ভাই ও অপর চাচাতো ভাই-বোনদের উপর চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল আজমল হোসেন, রাসেল আহমদ, বিপুল আহমদ, শিরীন বেগম ও রিমি বেগমকে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে রাসেল আহমদ কারাবরণ করেছেন। এখনো এই মামলা চলমান। এদিকে- করোনার প্রথমদিকে ছুটি কাটাতে কাতার থেকে বাড়িতে আসেন শিমুল আহমদ। করোনায় তিনি দেশে আটকা পড়েছেন। গত বছরের জুলাই মাসে তার ফেরার কথা থাকলেও করোনার কারণে তিনি যেতে পারছেন না। সম্প্রতি সময়ে ওই জমি নিয়ে ফের বিরোধ বাধে শিমুল ও রাব্বুলের। কারণ- রাব্বুল তাদের রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে শিমুল বিষয়টি পুলিশকে জানান। সিলেটের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করলে এসআই হাবিব সরজমিন তদন্তপূর্বক রাব্বুল ও তার ভাইদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাব্বুল কাজ চলমান রাখলে শিমুল বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে শিমুলের উপর রাব্বুল ও তার ভাই মারমুখো হলে পুলিশের ৯৯৯ এ কল করে শিমুল পুলিশ ডেকে আনেন। এ সময় পুলিশও রাব্বুলকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এবং জিডি’র তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমানের তদন্তকাজ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকার জন্য উভয়পক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করে। এদিকে- এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদী হাসান রাব্বুল ও তার ভাইরা ২৮শে ডিসেম্বর নগরীর শেখঘাট বড় মসজিদ এলাকায় শিমুলের চাচাতো ভাই বিপুলের ওয়ার্কশপে হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকান ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় কাতার প্রবাসী শিমুল বাদী হয়ে সিলেটের আদালতে মামলা দায়ের করলে সেটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন- পিবিআইকে। এ ঘটনার পর মেহেদী হাসান রাব্বুলের ভাই মনসুর আহমদ বাদী হয়ে সিলেটের আদালতে কাতার প্রবাসী শিমুল আহমদ ও তার চাচাতো ভাই বিপুলকে আসামি করে সিলেটের আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ এসআই রেজাউলে করিমের কাছে তদন্তভার দেয়া হয়। এই মামলায় ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন প্রবাসী শিমুল আহমদ। গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিনি বর্তমানে বাড়িঘর ছাড়া। দেশে এসে ‘কাল্পনিক’ চাঁদাবাজি মামলার আসামি হওয়ায় পুরো ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন কাতার প্রবাসী শিমুল আহমদ। গত বুধবার দেয়া ওই স্মারকলিপিতে প্রবাসী শিমুল আহমদ তার পরিবারকে প্রবাসী পরিবার বলে দাবি করেন। স্মারকলিপিতে তিনি জানান- মেহেদী হাসান রাব্বুলের ভাই মনসুর আহমদ যে মামলা দায়ের করেছে সেটি মিথ্যা ও কাল্পনিক। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে রাব্বুল ও তার ভাই মনসুর চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার তারিখ ও সময়ে শেখঘাট এলাকার কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি। যদি ঘটতো তাহলে  কোতোয়ালি থানা পুলিশ, লামাবাজার ফাঁড়ি পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মানুষ অবগত থাকতেন। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেনি সেই ঘটনায় রাব্বুল ও তার ভাই চাঁদাবাজির মামলা করেছে। ২০১৯ সালের ১৯শে জানুয়ারি এ ধরনের একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে রাব্বুল তার ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলো। তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করেন। এদিকে- কাতার প্রবাসী শিমুল আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘বিরোধ জমি সংক্রান্ত। এটা সবাই জানে। কিন্তু চাঁদাবাজি কিংবা মারামারি কোনো ঘটনাই ঘটেনি। যে ঘটনা ঘটেনি সেই ঘটনায় মামলা দায়ের করে আমাকে প্রবাসে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে।’ তিনি জানান- ‘আমার চাচাতো ভাই রাব্বুল ও ভাইরা সম্প্রতি শেষ হওয়া বিএস জরিপের তথ্য মতে তার ভাগে জমি পাবে ৩ শতক ৪৪ পয়েন্ট। আর সে দখল করে আছে প্রায় ৬ শতক। দখল করা জমি ফেরত না দিতে সে এখন মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করতে চাইছে বলে জানান শিমুল।’  মেহেদী হাসান রাব্বুলও জানিয়েছেন- শিমুলের সঙ্গে তাদের বিরোধ জমি সংক্রান্ত। এ নিয়ে তিনি অনেক আগে আদালতে মামলা করেছেন। তবে- এবার চাঁদা চাওয়ার কারণে তিনি মামলা করেছেন। তার মামলায় মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন রাব্বুল। শিমুলের আরেক চাচাতো ভাই রাসেল আহমদ জানিয়েছেন- চাঁদাবাজি কিংবা মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি হচ্ছে- নিজেদের প্রভাব দেখাতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। যা কোনো ভাবে উচিত হচ্ছে না। বরং বিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দু’পক্ষই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর