× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার
নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

ভোলায় ডিসির বাসভবন ঘেরাও

বাংলারজমিন

ভোলা প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

ভোলায় আদালতের দুই আদেশের ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সকালে পরীক্ষা দিতে আসা কয়েক হাজার চাকরি প্রার্থী পরীক্ষার্থী ওই নোটিশ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শহরের ৫টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ২৩৭ পরীক্ষার্থী একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভ মিছিল করেন। এক পর্যায়ে তারা প্রেস ক্লাব চত্বর প্রতিবাদ সভা করে। পরে জেলা প্রশাসকের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজিত কুমার হালদার নিয়োগ পরীক্ষার্থীদের জানান, যেহেতু ওই পরীক্ষা আদালত স্থগিত করেছে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় এমন তথ্য জানতে পারেন।
কেন করেছে তা তারা এখনো জানেন না। আবার রাত ১০টার পর স্থগিত আদেশ ভুল হয়েছে মর্মে আদালত আরো একটি তথ্য প্রকাশ করে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ অবস্থায় আদালতের প্রথম সিদ্ধান্তের পরেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পরীক্ষা বন্ধ থাকার ঘোষণাপত্র টাঙিয়ে দেয়া হয়। আগামীকাল আদালতের আদেশ যাচাই করে শিগগিরই এই পরীক্ষা নেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। পরে দুপুর ১টায় আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা তিনদিনের সময় দিয়ে জেলা প্রশাসক বাসভবনের অবরোধ তুলে নেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, নিয়োগ পরীক্ষাটি রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীর অংশ ছিল। আদালতের এমন আদেশে তাদের রাষ্ট্রীয় কাজ ক্ষতিরমুখে পড়ে। এ জন্য তারা বিব্রত হয়েছেন। এর দায় তারা নিতে পারেন না। এই দায় কে নিবেন এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাস্টার রোলে চাকরি করেন এমন এক ব্যক্তির নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করায় সিনিয়র সহকারী জজ ভোলা সদর অদালত ওই আদেশ প্রদান করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক একাধিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে গতকালের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া যায়নি। আদালতের আদেশে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। লিখিত নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও ওই পরীক্ষা আর নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে রাত থেকে পরীক্ষা হবে কি হবে না তা নিয়ে বিপাকে পড়েন কয়েক হাজার চাকরি প্রার্থী (পরীক্ষার্থী)। ভোলা সদর সিনিয়র সহকারী জজ ভোলা সদর আদালতের দেওয়ানি ২৮/২০২১ নম্বর মোকদ্দমার নিয়োগ পরীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন বিচারক। ওই আদেশ পেয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন জেলা প্রশাসক। পরে একই আদালতে একই সেরেস্তদারের স্বাক্ষরে জানানো হয় অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষার ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়া হয়নি। সাচিং স্লিপে ভুলবশত ওই তথ্য লেখা হয়েছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় ওঠে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রতি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণাপত্র টাঙিয়ে দেয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, দেওয়ানি আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ২২/১/২০২১ তারিখের অনুষ্ঠিতব্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। আদেশক্রমে জেলা প্রশাসক, ভোলা।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি বিষয়ক বিভাগে ১৫টি পদের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবেদনকারী ছিলেন ৩ হাজার দুইশ’ ৩৭ জন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের একটি কলেজ ও ৪টি স্কুলে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিনা নিয়োগে দায়িত্বরত ১০ জন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়ের করেন। মোকদ্দমায় শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার ভোলা সদর সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ নাসিম মাহমুদ এক আদেশ প্রদান করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর