× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার

খোয়াই নদীর বালুচরে সবজি চাষ!

বাংলারজমিন

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
২৪ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার গর্ব খরস্রোতা খোয়াই নদী। শুষ্ক মৌসুমে স্রোতহীন নদী হয়ে যায়। নদীর মাঝখানে পানি, আবার দুই কিনারে বেশ উঁচু উঁচু শুধু চর রয়েছে। এই চরে চাষ হচ্ছে নানা ধরনের শাক সবজি ও আখ। খোয়াই নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় প্রবেশ করে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে কালনী নামক স্থান দিয়ে মিলিত হয়েছে মেঘনা নদীতে। শুকনো মৌসুমে খোয়াই নদীর দুই পাশে বড় বড় চর জেগে ওঠে। এ চরের বুকে হাজার হাজার কৃষক তাদের স্বপ্নের ফসল চাষাবাদ করেন। যার মধ্যে রয়েছে আখ, সরিষা, গম, টমেটো, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলুসহ নানা ফসল।
ফসলে ভরে যায় নদীর দুইদিকের চরগুলো। একদিকে পানি অন্যদিকে সবজির বাগান দেখে যেনো চোখ জুড়িয়ে যায়।
কৃষি বিভাগের মতে, নদীর দু’পাড়ে প্রায় ২৫ হাজার কৃষক শীতকালীন ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করেছেন। সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উবাহাটা, লেঞ্জাপাড়া, পুরানবাজার, আলাপুর, কালিগঞ্জ, চরহামুয়া, দক্ষিণ চরহাময়া, কলিমনগর এলাকায় খোয়াই নদীর তীরে আখ, সীম, টমেটো, করলা, বেগুন, বরবটি, লাউ, কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ আরো অনেক সবজি চাষ করা হচ্ছে। এসব সবজি চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। চরের পাশেই নদীর পানি থাকায় এসব শাকসবজি চাষ করতে পানির জন্য বেগ পেতে হয়না। আগে যারা আখ চাষে উৎসাহী ছিলেন তারা অনেকেই এখন শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত রয়েছেন। বাল্লা থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত খোয়াই নদীর দুই পাড়ে বিভিন্ন সবজি ও গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন নানা পেশার মানুষ। চরে সবজি চাষ ছাড়াও নদীতে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
আলাপুর গ্রামের আল আমিন মিয়া জানান, খোয়াই নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছেন। এর মধ্যে মুলা আর মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন। করোনার আগে তিনি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। করোনার সময় চাকরি চলে গেছে। এরপরে তার বাড়ির পাশে খোয়াই নদীর চরে সবজি চাষ শুরু করেন। প্রথমবারেই সফলতা আসে মুলা চাষ করে। প্রায় ২৫ হাজার টাকার মুলা বিক্রি করেছেন। এবার চাষ করেছেন মিষ্টি কুমড়ার। মিষ্টি কুমড়ারও বাম্পার ফলন হয়েছে। সাবাসপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম নদীর চরে ফুলকপি আর বাঁধাকপির চাষ করে লাখ টাকা আয় করছেন।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, এ বছর সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনার কারণে মানুষ সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আর বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছে কৃষক। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছেন। এর কারণে আরো মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে সবজি চাষ করার জন্য আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। অনেককেই পরার্মশ দিয়েছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুয়ায়ী চাষাবাদ করলে যে কেউ সফল হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর