× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার

করোনাকালে কাজ হারিয়েছেন ৩ লাখ শ্রমিক

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
২৪ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, চলমান করোনা ভাইরাসের সময়ে তৈরি পোশাক খাতে চাকরি হারিয়েছেন সাড়ে ৩ লাখ শ্রমিক, যা মোট শ্রমিকের ১৪ শতাংশ। আর এই সময়ে বন্ধ হয়েছে ২৩২টি কারখানা বা ৭ শতাংশ। যার মধ্যে বিজিএমইএ-ভুক্ত   কারখানা রয়েছে ১৮০টি। গতকাল ‘কোভিড-১৯ বিবেচনায় পোশাক খাতে দুর্বলতা, সহনশীলতা এবং পুনরুদ্ধার: জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সংলাপে এই তথ্য তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সিপিডি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্টের (সিইডি) ম্যাপড ইন বাংলাদেশ (এমআইবি) যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংকট শুরুর ৭ মাস পর গত অক্টোবরে জরিপ পরিচালনা করে শ্রমিকদের বেকারত্বের এই চিত্র পেয়েছে সিপিডি। সংলাপের সঞ্চালনা করেন এমআইবি-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দ হাসিবুদ্দিন হাসিব। সংলাপে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
সংলাপে মোয়াজ্জেম বলেন, করোনার সময়ে ২৩২টি বা ৭ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়েছে।
লে অফ ঘোষণা করেছে মাত্র ২.২ শতাংশ কারখানা। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানার মধ্যে ৭০ শতাংশ তাদের শ্রমিকদের বেতন দিতে পেরেছে। আর কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের আরো যেসব সুবিধা দেয়ার কথা, তা দিতে পেরেছে মাত্র ৪ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জের বড় কারখানাগুলোতে এই সমস্যা দেখা গেছে বলে জানান তিনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানার উদ্যোক্তাদের কীভাবে আবার ব্যবসায় ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সরকার নজর দেবে বলে আশা করে সিপিডি। তিনি বলেন, মহামারিতে বন্ধের পর কারখানা পুনরায় খুললেও ৬০ শতাংশ কারখানায় নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শুরুতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক, স্যানিটাইজার ও তাপমাত্রা পরিমাপের উদ্যোগ নিলেও ধীরে ধীরে তা হারিয়ে গেছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ শতাংশ কারখানা এখন মহামারি প্রতিরোধে কোনো ধরনের নিয়ম মানছে না। এই সংখ্যা আস্তে আস্তে বেড়ে যাচ্ছে।
সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে, সেখান থেকে ঋণ পেতে ৫২ শতাংশ কারখানা আবেদনই করেনি বলে সিপিডির জরিপে উঠে এসেছে।
মোয়াজ্জেম বলেন, ৩৩ শতাংশ কারখানা ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও আবেদন করেনি। ছোট একটি অংশ বলেছে, ঋণ পরিশোধে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারার শঙ্কায় তারা আবেদন করেনি।
জরিপ অনুযায়ী, এখনো ৫০ শতাংশ কারখানা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে না।
জরিপে বলা হয়, দেশের ৪৪ শতাংশ পোশাক কারখানার নিশ্চিত অর্ডার থাকে। ৫৬ শতাংশ কারখানার থাকে না। মহামারির প্রভাবে ৫ শতাংশ কারখানা তাদের ব্যবসার আকার ছোট করার কথা বলেছে। তবে মাত্র ৪ শতাংশ ব্যবসার নতুন সুযোগ পাওয়ার কথা বলেছে। ড. মোয়াজ্জেম বলেন, তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি আবারো দুই অঙ্কে যেতে পণ্যের বৈচিত্রায়ন করতে হবে।
মোয়াজ্জেম বলেন, আমাদের জরিপকালে কোনো শ্রমিক তথ্য দিতে রাজি হননি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, যদি কেউ করোনা শনাক্ত হন। আর এটা জানাজানি হলে, তাহলে তাকে বেতন ছাড়াই ছুটি কাটাতে হবে। এই ঝুঁকি কেউ নিতে চাননি। তাই তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
সভায় সংসদ সদস্য শিরিন আখতার বলেন, মহামারির প্রথম দিকে পোশাকখাতের কিছু কারখানা বন্ধ হলেও এখন আবার পর্যায়ক্রমে সেসব কারখানা খুলতে শুরু করেছে। অর্ডারও আসা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো শ্রমিকদের ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন নিশ্চিত করেনি মালিকরা। তিনি টিকা দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় এই খাতে টিকা কীভাবে দেয়া হবে, সে বিষয়ে একটি সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে।
সভায় বিকেএমইএর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হাতেম বলেন, সরকার পোশাক খাতের জন্য যে বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে, তা পাওয়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। যাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে তারাই ওই ঋণ পাচ্ছেন আবার যাদের সঙ্গে নেই তারা পাচ্ছে না। তিনি বলেন, এখন এই খাতের সবচেয়ে বড় দু’টি সমস্যা হচ্ছে ক্রেতাদের দাম কমিয়ে দেয়া, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া। কিন্তু ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে বিজিএমইএ-র পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন সিপিডির প্রস্তাবনার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন। তিনি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটিকে আরো সহজ করার অনুরোধ করেন।
সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এই মহামারির সময়ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এক জায়গা থেকে কাঁচামালের উৎস হলে এটা করবেই। তাই কাঁচামালের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হবে। তিনি শ্রমিকদের জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা বীমারও প্রস্তাব করেন, যেখানে মালিক, শ্রমিক, সরকার, ক্রেতা এবং উন্নয়ন অংশীদাররা অংশ নেবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর