× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার

বিশ্বনাথে সুহেলের বিরুদ্ধে এক নারীর চাঁদাবাজি মামলা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার

সিলেটের বিশ্বনাথের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন রুবিনা বেগম নামের এক নারী। ওই মামলায় সুহেল ছাড়া আসামি করা হয়েছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুমিনা বেগমকে। সুহেল আহমদের পক্ষ থেকেও ওই নারীকে আসামি করে আরেকটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুটি মামলাই বর্তমানে তদন্ত করছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। তবে, দায়ের হওয়া দু’টি মামলা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিশ্বনাথে। সুহেল আহমদ চৌধুরী বিশ্বনাথের বিএনপিদলীয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। এক সময় তিনি বিশ্বনাথের ইলিয়াস পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি’র সিদ্ধান্ত না মেনে উপজেলা নির্বাচন করার কারণে তিনি এখন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা।
তার বহিষ্কার আদেশ এখনো বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। ইলিয়াস পরিবারের সঙ্গেও এখন তার আর বনিবনা নেই। তাকে নিয়ে বিশ্বনাথ বিএনপিতেও বর্তমানে ‘অস্বস্তিকর’ অবস্থা বিরাজ করছে। বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী প্রায়  দেড় বছর আগে বিয়ে করেন বিশ্বনাথের পুরান বাজারের বাসিন্দা মুমিনা বেগমকে। এই বিয়ের আগে থেকে মুমিনা বেগমের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিলো প্রতিবেশী রুবিনা বেগমের। এই বিরোধের প্রেক্ষিতে স্ত্রী মুমিনার পক্ষ নেন সুহেল আহমদ চৌধুরী। গত ৪ঠা জানুয়ারি বিশ্বনাথের সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসের পাশের বাসার বাসিন্দা রুবিনা বেগম সিলেটের আদালতে সোহেল ও তার স্ত্রী মুমিনা বেগমকে আসামি করে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেন। গত ৬ই জানুয়ারি বিশ্বনাথ থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড করে। মামলায় রুবিনা বেগম উল্লেখ করেছেন- তার স্বামী শামীম আহমদ বাহরাইন প্রবাসী হওয়ায় তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে বিশ্বনাথের সাব- রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি একই এলাকার ছাপা মিয়া ভিলা নামের একটি বাসা নির্মাণ করেন। বাসা নির্মাণকালীন সময়ে গত ২৪শে সেপ্টেম্বর সুহেল আহমদ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা লোকজন নিয়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তার এবং তার সন্তানের চরম পরিণতি হবে বলে হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনার পর ২৮শে নভেম্বর বিকালে সুহেল আহমদের নেতৃত্বে তার স্ত্রী মুমিনা বেগম চৌধুরী সহ কয়েকজন রুবিনা বেগমের ভাড়াটিয়া বাসায় গিয়ে অকথ্য গালিগালাজ করে। এতে রুবিনা প্রতিবাদ জানালে আসামি সুহেল আহমদ দুই লাখ টাকা চাঁদা দেয়ার দাবি করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে সুহেলের স্ত্রী মুমিনা বেগম তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় তার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়া ছাড়াও মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তার ছেলে আল-আমীনকেও মারধর করা হয় বলে জানান রুবিনা বেগম। এ ঘটনার পর তিনি ও তার ছেলেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রুবিনা বেগম জানিয়েছেন, ‘সুহেল আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ও তার ছেলে আহত হয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়রা আপোষে শেষ করার চেষ্টা করলেও পারেননি। পরে আমরা মামলায় গিয়েছি। এখন আইনের কাছে ন্যায়বিচার চাইবো।’ এদিকে, একই সময়ে সুহেল আহমদ চৌধুরীর পক্ষ থেকে রুবিনা বেগমকে আসামি করে আরেকটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাটিও তদন্ত করছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। ওসি শামীম মুসা গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দু’পক্ষই মামলা করেছেন। পুলিশ দুটি মামলা তদন্ত করছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারণ রয়েছে কিনা- সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রুবিনা বেগমের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই অলক দাশ জানিয়েছেন, মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের খোঁজা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে দ্রুত আদালতে রিপোর্ট দাখিল করবেন বলে জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর