× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার

রাজশাহীতে সাংসদ ফারুক চৌধুরীর ‘লাঠি কাটার’ বক্তব্যে সমালোচনার ঝড়

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে
২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার

আসন্ন পৌর নির্বাচনে ভোটের মাঠে নেতাকর্মীদের ‘লাঠি কাটা’ ও ‘লাঠি খেলা’ দেখানোর নির্দেশনা দিয়ে এবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। জনসম্মুখে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনমূলক সাংসদের এমন বক্তব্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তানোরের পাচন্দর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্ধিত কর্মী সভায় তার দেয়া বক্তব্যের ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
ভিডিওতে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে বলতে শোনা গেছে, ‘প্রতিটা কেন্দ্রে আমার নির্বাচনের সময় ২০০৮ সালে বলেছিলামÑ একশো, দেড়শ, দু’শো করে লাঠি কেটে রাখবেন। বলেছিলাম না? ২০০৮ সালের কথা এটা। ওই ফর্মুলা নিয়ে নিতে হবে মাথায়। লাঠি কেটে রাখতে হবে। যদি ভোটের দিন ব্যবহার করতে হয়, যদি ভোটের দিন ব্যবহার করার দরকার পড়ে, তাহলে ব্যবহার করবেন।
নাহলে ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরে ওই লাঠি খেলা হবে। শালা আওয়ামী লীগের খাও আর আওয়ামী লীগের গায়ে থুথু ফেল?”
ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘..ভোটের দিনে লাঠি চলবে নাহলে পরের দিনে লাঠি চলবে। বিজয়ী হয়ে লাঠি চলবে। এখনো সময় আছে, শালা ঘরে উঠে যাও সব। যদি না উঠো আমার নেতাকর্মী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতাকর্মী জানে কিভাবে এদেরকে ঘরে তুলতে হয়। আমরা আঠারো সালেই দেখিয়ে দিয়েছি কিভাবে কাকে ঘরে ঢুকায়ে দিতে হয়। জানা নাই? হয় আট সালের ফর্মুলা না হলে আঠারো সালের ফর্মুলা ধরতে হবে। দুটাই ফর্মুলা আছে।’
বিএনপিকে লক্ষ্য করে এই সাংসদ বলেন, ‘বিএনপি লাফাচ্ছে নাকি? আচ্ছা আমি বলছি, আমি বলে দিচ্ছিÑ বিএনপির এই মাটিতে যিনি জন্ম দিয়েছিলেন, তাকে কিন্তু আপনারাই পরাজিত করেছেন ভোটে। এবং পরাজিত হওয়ার পরে সেই ভদ্রলোক স্ট্রোক করে মরে গেছে, পৃথিবীতেই নাই। তো এখন ওইখান থেকে কিছু পোকা কিট পতঙ্গের জন্ম হয়েছে হয়ত। সেই কীটপতঙ্গ নিয়ে কথা বলার আমার কোনো দরকার আছে? আমি মনে করিনা। ফর্মুলা দুটাই দিয়েছি আমি। হয় আট সালের ফর্মুলা নাহলে আঠারো সালের ফর্মুলা। আমি রাজশাহীতেই আছি, অসুবিধা নাই। আমার গাড়ি নিয়ে এখানে আসতে বেশি সময় লাগবে না।” বক্তব্যের শেষাংশে আওয়ামী লীগ এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “...থাকবেন, দেখবেন, ভোট করবেন, বিজয়ী হবেন, লাঠি নিবেন, লাঠি খেলা করবেন, বাড়ি চলে যাবেন।”
সংসদ সদস্যের প্রকাশ্যে এ বক্তব্যে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমন বক্তব্য সাংসদের ‘সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের’ অংশ ও ‘উস্কামিূলক বক্তব্য’ উল্লেখ করে আসন্ন পৌর নির্বাচনে অবাধ-সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ফারুক চৌধুরীর এমন বক্তব্য দলেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগেরই একাংশের নেতাকর্মী। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকারের একজন এমপি প্রকাশ্যে এভাবে বক্তব্য দিয়ে ভোট ডাকাতির আরেকটি স্বাক্ষর রেখেছেন। সাংসদের উস্কামিূলক এমন বক্তব্যই বলে দেয়, এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর