× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার

মায়ার মানুষ কুতুব ভাই

অনলাইন

মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব
(১ মাস আগে) জানুয়ারি ২৬, ২০২১, মঙ্গলবার, ৭:০৫ অপরাহ্ন

পৃথিবীতে আমাদের আগমন অতি অল্প সময়ের জন্য। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমাদেরকে সারা জীবনের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করে নিতে হবে। আল্লাহ জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন যাতে মানুষের মধ্যে কর্মে কারা উত্তম তা নির্ধারণ করা যায়। সম্প্রতি ইংল্যান্ড প্রবাসী কবি গীতিকার কুতুব আফতাব ভাই অসময়ে মারা গিয়েছেন। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিশ্বাস করতে মন চায়নি। মনে হয়েছিল কেউ যেন পরীক্ষা করছে যে, ওনার মৃত্যু সংবাদ শুনে মানুষের মধ্যে কী রিঅ্যাকশন হয়। বেশ কিছুক্ষণ বিশ্বাস সবুক মেসেঞ্জার চালু দেখে আমার মনে হয়েছিল কেউ হয়তো মজা করছে । উনার মৃত্যুসংবাদ শুনে মানুষের মধ্যে কেমন অনুভূতি হয়।
কয়েকবার উনার মেসেঞ্জারে কল করে চেষ্টা করলাম উনার মৃত্যুসংবাদ যা শুনতে পাচ্ছি তা কি সত্যি কিনা। একের পরে এক বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন যখন ফেসবুক মেসেঞ্জারে অবিরত উনার মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে দিয়েছিল তখন আর বুঝতে বাকি রইল না যে উনি আমাদের মাঝে আর নেই। মৃত্যু আমাদের সবার জন্য অবধারিত। মৃত্যু থেকে কেউই রেহাই পাবে না। কিন্তু কোন কোন মৃত্যু মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নিয়ে আসে। জনপ্রিয় কুতুব আফতাব ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে আমি কিছু সময়ের জন্য স্তম্বিত হয়ে গিয়েছিলাম। জীবনে চলার পথে হাজারো মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে কোন কোন মানুষ তাদের সুন্দর ব্যবহার আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করে নেন। কুতুব ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় খুবই স্বল্প সময়ের জন্য। আমি যখন নবীগঞ্জ জে.কে. হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম তখন উনার সাথে তরুণ দা'র দোকানে দেখা হতো। সেখানে শেফু ভাই, ইংল্যান্ড প্রবাসী তমিম ভাইসহ অন্যদের সাথে সাক্ষাৎ হতো। তরুণ দা'র দোকানে প্রায় সময়ই জাতীয় পত্রিকা পড়তাম। যদিও আমি ওনার চেয়ে জুনিয়র ছিলাম তবে উনি আমাকে অনেক পছন্দ করতেন সেটি উপলব্ধি করেছিলাম তখনই। ১৯৮৯ সালে আমি সিলেট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হই। নবীগঞ্জ থেকে সিলেট ক্যাডেট কলেজে চলে আসার পরে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উনার সাথে আমার সরাসরি দেখা হয়নি। কিন্তু সেই ১৯৮৮ সালে আমার প্রতি যে মমত্ববোধ উপলব্ধি করেছিলাম তা হৃদয়ে গেঁথে ছিল। সুদীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর পরে উনার সাথে ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি  সিলেট শহরে দেখা হয়।  
সুদীর্ঘ বত্রিশ বৎসর পরে কুতুব ভাই এর সাথে যোগাযোগ করতে পারি উনার গ্রামের চাচা রিপনের মাধ্যমে। নবীগঞ্জ জে. কে. হাইস্কুলে রিপন আমার ক্লাসমেট ছিল। সিলেট মেট্রোতে রিপনের আইনি সহায়তার প্রয়োজনে আমার সাথে যোগাযোগ করে অফিসে আসে। রিপনকে যথাযথভাবে আইনি সহায়তা প্রদান করি। এক পর্যায়ে তার কাছে কুতুব ভাই সম্পর্কে জানতে চাই। তখন সে বলে যে কুতুব আমার ভাতিজা। তখন আনন্দে আমার মন ভরে ওঠে। বহু বছর যার কথা হৃদয়ে কল্পনা করতাম তার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম পেয়ে গেলাম।  
ফেসবুকের মাধ্যমে প্রথমে কমিউনিকেশন শুরু হলো ১৪ জুলাই ২০২০ কুতুব ভাই এর সাথে। কুতুব ভাই এতই মায়ার মানুষ ছিলেন যে অতি অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। প্রথম মেসেঞ্জারে কুতুব ভাই আমাকে যে মেসেজটি লিখেছিলেন তা এরকম: "প্রিয় ভাই ওয়াহাব তুমি কেমন আছো? তোমার খবর সবই পাই। খুব খুশি হই, তুমি আমাদের মুখ এত উজ্জ্বল করেছো। কিন্তু ভাবছিলাম কুতুব ভাইকে মনে নেই তোমার। আজ ফেসবুকে পেয়ে আনন্দে মনটা ভরে উঠল।"
তার উত্তরে আমি আমার আইফোনে বাংলা ফন্ট না থাকায় ইংরেজিতে লিখেছিলাম: "Vai, I was looking you for maû years and today one of my classmates from your village came to my office -from him I got your information." এর পরে তিনি আবার ইংরেজিতে লিখলেন: "I knwo vai, you cannot forget me, neither I. I am one of your fan. You are a genius to me. You are making us proud." এরপর থেকে প্রায় সময়ই মেসেঞ্জারে কথা হত। বিগত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে মেসেঞ্জারে লিখেন, "তুমি কি সিলেট আছো?" আমি লিখলাম -"হ্যাঁ ভাই। কবে আসছেন? আমাকে ফ্লাইট সিডিউল জানাবেন। আমি এয়ারপোর্ট থেকে আপনাকে নিয়ে আসব।" তিনি বলেন, "আমি ঢাকা আসছি ওয়াহাব। এসে যোগাযোগ করব। দেখা হবে ভাই। কিছু আনতাম নি- বল ভাইকে।" আমি লিখলাম, "কিছু লাগবেনা ভাই। আপনাকে দেখব এটিই বড় বিষয়।" তিনি লিখলেন, "একটি টি-শার্ট আনি। তুমি দেখছি পরো। সাইজ বল প্লিজ।" আমি লিখলাম,"মিডিয়াম"। মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা ভালবাসার প্রকাশ ঘটল পরস্পর কোলাকুলির মাধ্যমে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভালোবাসা নিয়ে কোলাকুলি করলাম। সাক্ষাতের স্থান হিসেবে পানসী রেস্টুরেন্ট বেছে নিলাম। তার আগে নবীগঞ্জ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় এডভোকেট আবুল ফজল ভাই কে ফোন করে জানালাম কুতুব ভাইয়ের আসার কথা। রাত আটটার দিকে তিনি চলে আসলেন। কুতুব ভাইয়ের  সাথে নবীগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর বাউসা ইউনিয়নের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক ভাইও আসলেন। পানসী রেস্টুরেন্টের আবুবকর সেতু ভাইও ছিলেন। পানসীতে রাতের খাবার খেয়ে  বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সানন্দে গল্প চলে অনেকক্ষণ। কুতুব ভাইয়ের সময় স্বল্পতার জন্য তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। রাতেই তিনি নবীগঞ্জ ফিরে যান। কুতুব ভাই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন তার রচিত শিল্পের মাধ্যমে। তিনি অত্যন্ত দরদী মন নিয়ে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন চিত্র তার কবিতায় সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি গীতিকার হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের নিরাপত্তা ও স্বত্বাধিকার নিয়ে প্রাগ্রসর চিন্তা করতেন এবং লেখনীর মাধ্যমে তা আলোকপাত করেছেন। তার বিভিন্ন লেখায় দরদী মনের পরিচয় সুস্পষ্ট। সুদীর্ঘ সময় পরে তার সাথে সাক্ষাতের পর এক বছরও পার হলেন হলো না তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন অনন্ত অসীমের পানে, এত অল্প সময়ে পৃথিবী থেকে।

লেখক: উপ-পুলিশ কমিশনার (ইএন্ডডি), সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এসএমপি, সিলেট। বর্তমানে মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বিএএনএফপিইউ-২  এর কমান্ডার হিসাবে কর্মরত।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
শাহিদুর রহমান
২৭ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার, ১:১০

জনাব আ: ওয়াহাব ভাই আপনার লেখাটি পড়ে অত্যন্ত ভাল লাগল। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদের সবার প্রিয় কবি কুতুব আফতাব ভাইকে নিয়ে মুল্যবান লেখাটি শেয়ার করার জন্য।

অন্যান্য খবর