× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার

ঝিনাই নদীরক্ষা বাঁধের মাটি যাচ্ছে প্রভাবশালীদের পেটে

বাংলারজমিন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার

এপারে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা, ওপারে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার হাটবাড়ী। মাঝখানে যমুনার শাখা ঝিনাই। নদীভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষায় ওপারে পাউবো, আর এপারে জেলা পরিষদ বাঁধ নির্মাণ করে। ওপার অক্ষত থাকলেও এপারের বাঁধের মাটি প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। পশ্চিম বীরতারা গ্রামের জিয়াউল হক ১০ই ফেব্রুয়ারি ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, কিছু বালু ব্যবসায়ী এপারের বাঁধ কেটে মাটি লুটে নিচ্ছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু জমির মাটি কেটে নেয়ার পর খাসজমিতে ওদের চোখ পড়ে। খাসজমির সঙ্গে নদীর ৮-১০ ফুট উঁচু বাঁধ নিশ্চিহ্ন করে। এভাবে প্রায় ৪০০ গজ বাঁধ নিশ্চিহ্ন হওয়ায় আগামী বর্ষায় বন্যার পানি অবাধে ঢুকে বীরতারা ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বহু জমির ফসল বিনষ্ট হবে। একই গ্রামের মাতব্বর মজিবর রহমান জানান, প্রথমে দুই চাষির কয়েক বিঘা ফসলি জমির টপ সয়েল কিনে নেয় চক্রটি। সেই বাহানায় নদীপাড়ের খাসজমি খনন শুরু করে। রাজনৈতিক যোগসাজশ থাকায় নির্বিবাদে নদীর উঁচু বাঁধ নিশ্চিহ্ন করে। প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। গ্রামের দিনমজুর সাহারা খাতুন জানান, ‘বাবাগো ওদের বহু হাতে- পায়ে ধরেছি, কইছি, এভাবে বাঁধ কাইটা নিলি আর তীরের হগল জমিতে মাথা সমান গর্ত কইরে মাটি নিলি আমাগোর ভিটি নদীতে নাইমবো। আমরা কোন হানে থাকবোনি তহন। কিন্তুক হেরা কোনো কথাই হোনে নাই। চেয়ারম্যান-মেম্বারগো কইছি। তারা হুনছে। তয় কোনো ব্যবস্থা নেয় নাই।’ গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, মাটি পাচারকারী চক্রটি ২০০ গজ উজানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় পাড় ভেঙে নদী বাঁক খেয়ে ধনুকের রূপ ধারণ করেছে। বর্ষাকালে এখানে সে স্রোতের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। এতদিন বাঁধ থাকায় বীরতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরো পাড়া ভাঙন ও বন্যার তাণ্ডব থেকে রেহাই পেতো। এখন সেই রক্ষাব্যুহ নিশ্চিহ্ন হওয়ায় স্কুলসহ পুরো গ্রাম অরক্ষিত হয়ে পড়লো।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আনোয়ার হোসেন জানান, বাঁধ কেটে মাটি লুটের কথা শুনেছেন। তবে এটি উপজেলা প্রশাসনের দেখার কথা। বুধবার বীরতারা গ্রামে বাঁধের স্থানে যাওয়ার সময় দেখা যায় ইউনিয়ন পরিষদের অনতিদূরেই বাঁধ। মাটির ট্রাক যাওয়ার রাস্তাও পরিষদ ভবনের গাঘেঁষা। তবে তথ্য সংগ্রহের সময় ইউপি চেয়ারম্যান শফি আহমেদ জানান, বাঁধ কেটে মাটি পাচারের খবরটি তিনি এই প্রথম শুনলেন! কেউ জানালে তিনি ব্যবস্থা নিতেন।
এদিকে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ আরেফীন জানান, গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এখন তো আর মোবাইল কোর্ট করার সুযোগ নেই। তাই বীরতারা ইউপি চেয়ারম্যান এবং থানা পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। আমি নিজেও আগামী সপ্তাহে সরজমিন তদন্তে যাবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর