× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৭ মার্চ ২০২১, রবিবার

বৃটেনে লকডাউন তুলে নেয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা

অনলাইন

কূটনৈতিক রিপোর্টার
(১ সপ্তাহ আগে) ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, মঙ্গলবার, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

বৃটেনে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া এবং দেশজুড়ে মহামারির আক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণের প্রেক্ষাপটে তৃতীয় দফায় জারি হওয়া লকডাউন ধাপে ধাপে শিথিল তথা পুরোপুরি তুলে নেয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন প্রস্তাবিত রোডম্যাপ মতে, আগামী ৮ই মার্চ স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। পরবর্তীতে খুলবে স্পোর্টস এবং রিক্রেশন সেন্টার। অবশ্য পার্ক, কফিশপ বা বারে দুইজনের বেশি একত্রে মিলিত হওয়া, গল্প করা, মিটিং বা আড্ডাবাজি করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকবে। ২৯শে মার্চ দুই পরিবারের মধ্য দেখা-সাক্ষাতের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাবে, পরিবারদ্বয়ের সদস্যরা একে অন্যের বাসায় যেতে পারবেন। ২৯ শে মার্চ থেকে ৬ জন একত্রে মিলিত হতে পারবেন, গ্রুপ মিটিং করতে পারবেন। ৬ সদস্যের পিকনিকও করা যাবে।
২৯শে মার্চ থেকে এক শহরের লোক অন্য শহর বা অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এপ্রিল মাস থেকে বিদ্যমান লকডাউনে ধাপে ধাপে আরো শিথিলতা আসবে। এপ্রিলে প্রস্তাবিত শিথিলতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আউটডোর পরিসেবা উন্মুক্তকরণ। মে মাসে পাব রেস্টুরেন্ট খোলা হতে পারে। ঘোষণা মতে, জুলাই মাসের মধ্যে সবার জন্য ভ্যাকসিন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

হাউজ অব কমন্সকে প্রধানমন্ত্রী- করোনা সহসাই যাচ্ছে না, তাই সতর্কতা জরুরি

এদিকে লকডাউন শিথিল করা সংক্রান্ত ব্লু-প্রিন্টের বিষয়ে হাউজ অব কমন্সকে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেখানে তিনি বলেন, সায়েন্টিফিক ডাটা আর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের ধারাবাহিক সফলতার ফলশ্রুতিতে জাতিকে লকডাউনের কঠিনতম পথ থেকে ক্রমান্বয়ে সরানোর জন্য এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে তার সরকার। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এটাও নিশ্চিত করা তার সরকারের উদ্দেশ্য যেনো ফের কঠিনতম লকডাউনে যেতে না হয়। করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মারাত্মক অসুস্থ না হলে আপনাদের হাসপাতালে না গিয়ে বরং ঘরে থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য ফোন করে জিপিকে বা হাসপাতালকে বিরক্ত না করার আহ্বান জানাচ্ছি। করোনা সহসাই চলে যাচ্ছে এমন কিছু মনে না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা সহসাই যাচ্ছে না। বরং যে কোন সময় এটি আরও গতি নিয়ে আঘাত হানতে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ঘোষিত রোডম্যাপ শুধু মাত্র ইংল্যান্ডের জন্য প্রযোজ্য হবে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দান আইল্যান্ডে স্ব স্ব  সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হবে।
জনসন সরকার ঘোষিত রোডম্যাপ বিষয়ে কয়েকজন সিনিয়র সহযোগী আজ দ্য সানডে টাইমসকে বলেছেন: যে দুটি ক্ষেত্রের কারণে মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা হলো- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হয়নি। এজন্য স্কুল এবং বহিরাঙ্গন সামাজিকীকরণ প্রথমে আসে। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসর এ বিষয়ে বিবিসিকে বলেন, ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তথ্য ও ডাটা অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা সন্তোষজনক অবস্থানে আছে। করোনার প্রভাব কমতে শুরু করেছে। জনসাধারণ যদি সরকারি নিয়মনীতি পুরোপুরি মেনে চলে এবং নিজেদের সুরক্ষা করে তবে খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব। উল্লেখ্য, রোববার বৃটেনে করোনায় মারা গেছেন ২১৫ জন এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯,৮৩৪ জন। এ পর্যন্ত ১৭.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ পেয়েছেন এবং প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ককে জুলাইয়ের শেষে কোভিড জব দেয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতে, লকডাউন তুলে নিলেও সবাইকে সরকারি নিয়মনীতি ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনার আক্রান্তের সংখ্যার তারতম্য রয়েছে। মুখে মাস্ক, বারবার হাত পরিষ্কার করা এবং সামাজিক দূরত্ব সবাইকেই গুরুত্বের সাথে পালন করতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর