× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার

সন্দেহ দূরে রেখে একসঙ্গে চলার আহ্বান

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বুধবার

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, পরস্পরের সন্দেহ ও সংশয় দূরে ঠেলে একসঙ্গে চলার মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারে। আর এ জন্য জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দোরাইস্বামী বলেন, আমাদের সম্পর্ক টেকসই হওয়ার মূলনীতি ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে আছে। এখন আমাদের উচিত সন্দেহ ও সংশয় দূরীকরণে কাজ করা। কারণ সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কোনো জায়গা এখানে নেই। পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা যত দ্রুত এগোতে পারবো, তত দ্রুতই আমরা একসঙ্গে সমৃদ্ধি লাভ করতে পারবো। তিনি বলেন- শিক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম, ব্যবসা, ভ্রমণ, পরিবহন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি হয়ে আছে।
আমি দেখেছি, সহযোগিতা বাড়লে উন্নতিও বাড়ে। সুতরাং আমার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না। একইভাবে আপনার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আমার জন্য ভালো হবে না। আমরা যদি ভালোমন্দ বিচারে এ নীতি অনুসরণ করি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করা হবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক এবং বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রাভেল পার্টনার। বাংলাদেশ ব্যবসায়িকভাবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এই ব্যবসায়িক সম্পর্কে আরো বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। যা আমাদের সম্পর্ককে অনেকদূর নিয়ে যাবে। ভারতীয় দূত বলেন, ’৭১-এর চেতনায় আমরা পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নিতে পারি। সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে পারি। কারণ দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধি একই সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে সমৃদ্ধি বাড়বে। যা আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব থেকে শিক্ষা পাই। আমাদের দুই দেশকে অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে এবং এজন্য মিডিয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের সহযোগিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করতে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তথ্যমন্ত্রী। ইমক্যাবের সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করা হলে ভারতে ভোজ্য তেল রপ্তানি করতে বাধা নেই’
এদিকে ঢাকায় অন্য আয়োজনে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত ভোজ্য তেল অথবা আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হলে তা ভারতে রপ্তানি করতে কোনো বাধা নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সমপ্রসারণে যোগাযোগ ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন আবশ্যক বলেও জানান তিনি। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ডিসিসিআই’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ভারতীয় দূত আরো বলেন, সমুদ্র পথে ঢাকা থেকে দিল্লিতে পণ্য পরিবহনের খরচ অত্যন্ত বেশি যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খরচ কমিয়ে আনতে দু’দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ভারত এবং বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬.৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ৬৪৫.৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি দু’দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে বাংলাদেশ থেকে ওভেন গার্মেন্টস্‌, নিটওয়্যার, টেক্সটাইল ফাইবার, হোম টেক্সটাইল প্রভৃতি পণ্য আরো বেশি হারে আমদানির জন্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, সরকার দেশে বিনিয়োগ সমপ্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নানাবিধ সুবিধা সংবলিত বিনিয়োগ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ ধরনের সুযোগ গ্রহণ করে অটোমোবাইল, তথ্য-প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পুঁজিবাজার, ওষুধ, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালকা প্রকৌশল প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রতিটন পাটজাত পণ্যে ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩৫১.৭২ মার্কিন ডলারের এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে ভারতের বাজারে আমাদের পাট রপ্তানি কমে এসেছে। এ অবস্থা নিরসনে দ্রুততার সঙ্গে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ২০২০ সাল হতে ভারত সরকারের চালুকৃত ‘কাস্টমস রুলস ২০২০’ আইনের কারণে ‘সাফটা’ ও ‘আপটা’র আওতায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ হতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর