× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

৬০.৫ ভাগ মানুষ স্কুল খোলার পক্ষে

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বুধবার

দেশের ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ স্কুল খুলে দেয়ার পক্ষে রয়েছে। আর ৫২ শতাংশ মানুষ স্কুল খুলে দেয়ার পর সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন। এছাড়া প্রায় ৫৫ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদ বোধ করছেন না। তারা মনে করেন, তাদের সন্তানরা স্কুলে ফিরে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে সক্ষম নয়। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের বাংলাদেশে করা এক অনলাইন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ‘অবশেষে স্কুল খুলছে: আমরা কতখানি প্রস্তুত’- শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল সংলাপে জরিপের এ তথ্য তুলে ধরে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। সংলাপে জানানো হয়, দেশের মোট ১ হাজার ৯৬০ জনের ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে অভিভাবক ছিলেন ৫৭৬ জন এবং শিক্ষক ছিলেন ৩৭০ জন।
বাকি ব্যক্তিরা অন্যান্য শ্রেণি-পেশার। গত ১৭ থেকে ২২শে ফেব্রুয়ারি এই অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয়।
সংলাপে জরিপের তথ্য তুলে ধরেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) যুগ্ম পরিচালক অভ্র ভট্টাচার্য। তিনি জানান, জরিপের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, স্কুল খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার প্রণীত স্বাস্থ্য নির্দেশিকা সম্পর্কে তারা অবগত কিনা। জবাবে জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ৮৭ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, তারা এই স্বাস্থ্য নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত। ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদ বোধ করছেন না। ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, তাদের সন্তানের স্কুল স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে সক্ষম না। এ ছাড়া ৬৭ শতাংশ অভিভাবক সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে আগ্রহী নন। অন্যদিকে ৮৭ শতাংশ শিক্ষক স্কুলে যেতে নিরাপদ বোধ করছেন। সমপরিমাণ শিক্ষক মনে করেন, তাদের স্কুলের স্বাস্থ্য নির্দেশিকা নিশ্চিত করার সামর্থ্য রয়েছে। প্রায় ৬৯ শতাংশ শিক্ষক অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহনে সরকারি অনুদানের কথা বলেছেন। আর অভিভাবক ও শিক্ষক বাদে জরিপে অংশ নেয়া অন্যান্য শ্রেণি-পেশার ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ সরকারের স্বাস্থ্য নির্দেশিকা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করেন এবং ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ স্কুল খুলে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুত স্কুল খুলে দেয়ার পক্ষে বলেছে। তবে তারাও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছে।
সংলাপে পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক স্কুল খুলে শ্রেণিভিত্তিক (একসঙ্গে সব শ্রেণি না করে নির্ধারিত শ্রেণি) ক্লাস শুরুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এই সংলাপে বক্তব্য দেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নেহাল আহমেদ, প্রবীণ শিক্ষকনেতা কাজী ফারুক আহমেদ, ব্র্যাক’র শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।
করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ই মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি বহাল আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৪শে মে। তার আগে ১৭ই মে আবাসিক হলগুলো খুলবে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজ খোলার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে কবে থেকে স্কুল-কলেজের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে তা জানিয়ে দেয়া হবে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর