× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার
আরো ১৮ জনের মৃত্যু

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ ৭ই এপ্রিল

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বুধবার

দেশে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি চলছে। এর মধ্যেই আগামী ৭ই এপ্রিল থেকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ওদিকে গণটিকাদান কর্মসূচির ১৪তম দিনে টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ জন। যা আগের দিনের তুলনায় ৪২ হাজার ৩৮৪ জন কম। গত তিনদিন ধরেই টিকা নেয়ার সংখ্যা একটু কমে আসছে। এর আগে দেশে একদিনে ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি টিকা নিয়েছিল। এরপর থেকে কমতে থাকে টিকাগ্রহীতার সংখ্যা। এখন পর্যন্ত মোট টিকা নিয়েছেন ২৪ লাখ ৯১ হাজার ৫৩ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩ জন এবং নারী ৮ লাখ ৫৭ হাজার ২০ জন টিকা নিয়েছেন। ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ জন। টিকা নিতে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ২৩৫ জন। নিবন্ধন করেও টিকার অপেক্ষায় আছেন ১২ লাখের বেশি মানুষ।
এদিকে, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় চালানের ২০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে সোমবার দিবাগত রাতে। এই নিয়ে দেশে টিকা এলো ৯০ লাখ। ৫ই নভেম্বর বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মা ও ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি টিকা কেনার চুক্তি হয়। প্রতি মাসে সেখান থেকে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা আসার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী গত ২৫শে জানুয়ারি এই টিকার প্রথম চালান ৫০ লাখ টিকা দেশে আসে। তবে তার আগে গত ২১শে জানুয়ারি আসে ভারত সরকারের উপহার দেয়া একই কোম্পানির ২০ লাখ টিকা।
অন্যদিকে, টিকাদানের ১৪তম দিনে কিছু কিছু টিকাদান কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে টিকা নিয়েছেন অনেকে। গতকাল ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ২৯ হাজার ৭ জন। একদিনে টিকা নেয়ার পর ২১ জনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন জ্বর, টিকা নেয়ার স্থানে লাল হওয়া ইত্যাদি খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস’র গতকালের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে টিকা নিয়েছেন ৩৩ হাজার ২৩২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ হাজার ১৮৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ হাজার ৭০৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮ হাজার ৬৫১ জন, রংপুর বিভাগে ১৫ হাজার ৭৬৫ জন, খুলনা বিভাগে ২২ হাজার ৮১৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৮ হাজার ৪৪৩ জন এবং সিলেট বিভাগে টিকা নিয়েছেন ৯ হাজার ৮৬ জন। এ পর্যন্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ বা অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাইজেশন (এইএফআই) রিপোর্ট করেছেন ৬৩০ জন।
৭ই এপ্রিল থেকে দেয়া হবে টিকার দ্বিতীয় ডোজ: গতকাল মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের জানান, আগামী ৭ই এপ্রিল থেকে করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা দু’-মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে যাচ্ছি। এপ্রিলের ৭ই তারিখ থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি। সবকিছু নির্ভর করবে ভ্যাকসিনের অ্যাভেইলেবলিটির (প্রাপ্যতা) ওপর। এ মাসে ৫০ লাখ টিকা পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছি ২০ লাখ। অর্থাৎ এখানে একটি ঘাটতি হয়ে গেল। এ বিষয়ে আমরা সিরামের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছি। এখানকার যারা সাপ্লাইয়ার, তাদের ওপরেও আমরা চাপ প্রয়োগ করেছি যে, আপনারা এটা তাড়াতাড়ি মেকাপ করেন। সিরাম ইনস্টিটিউটও চাপের মধ্যে আছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ভারত সরকার এবং বিশ্বজোড়া চাপ আছে। এ ভ্যাকসিনটি বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে ও চাহিদা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে এখন থেকে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে নতুন কিছু সাপ্লাইয়ার (টিকা সরবরাহের) আবেদন করেছে। সেই বিষয়েও আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি, বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। সামনে যতটুকু সরবরাহ হবে সেটার ওপরই আমাদের কার্যক্রম নির্ভর করবে।
করোনায় একদিনে আরো ১৮ জনের মৃত্যু: গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮ হাজার ৩৭৪ জন। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩৯৯ জন। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ১১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৯৮টি। অ্যান্টিজেন টেস্টসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৭৪৮টি। এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৭১ হাজার ৫২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮২৮ জন, এখন পর্যন্ত সুস্থ ৪ লাখ ৯২ হাজার ৮৮৭ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মারা গেছেন ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। এখন পর্যন্ত পুরুষ ৬ হাজার ৩৩৫ জন এবং নারী ২ হাজার ৩৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৬০ বছরের ওপরে ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৪ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায় ঢাকা বিভাগে ১২ জন, চট্টগ্রামে ২ জন, রাজশাহীতে ২ জন, খুলনায় ১ জন এবং রংপুরে ১ জন মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৬ জন এবং বাসায় ২ জন মারা গেছেন।


 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর