× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার , ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ শওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের দিনভর বিক্ষোভ / পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

দিনভর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ। স্লোগান, হুঁশিয়ারি। বিকালে উল্লাস। একটি ঘোষণায় স্বস্তি ফিরে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্টদের এক অনলাইন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পরীক্ষাগুলো আগের রুটিনেই নেয়া হবে। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিতই থাকছে। ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনেকেই পরীক্ষা চালু রাখার দাবি জানান।

হল খুলে দেয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রী এক সিদ্ধান্তে জানান, ২৪শে মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলবে। বলা হয়, এর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগ পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে সাত কলেজের পরীক্ষাও স্থগিত করেন সংশ্লিষ্টরা। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবারই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। এরপর গতকাল ফের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।  সকাল ৯টার দিকে সড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা রাজধানীর নীলক্ষেত চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন। নানা ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড হাতে নেমে পড়েন সড়কে। একত্রে জড়ো হয়ে জানাতে থাকেন দাবির কথা। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সৌমিক মণ্ডল বলেন, বুধবার আমার চতুর্থ বর্ষের শেষ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। একটা পরীক্ষার জন্য আটকে যেতে হলো। এতদিন তারা পরীক্ষা নিতে পারলে একটি পরীক্ষা নেয়া হলো না কেন?
সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মনীষা দাস বলেন, আমরা শিক্ষার্থীরা কেন সড়কে? করোনার কারণে এতদিন পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হলে হঠাৎ করে কী কারণে বন্ধ করে দেয়া হলো? হঠাৎ কী করোনার ঢেউ শুরু হয়ে গেল? সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী আরাফ হোসেন বলেন, আমরা গরিব ঘরের শিক্ষার্থী। মেস ছেড়ে দিয়েছি। পরীক্ষার জন্য মেসে উঠলাম। এখন এই একটা পরীক্ষার জন্য আবার মেস ছেড়ে দেবো। না মেসের ভাড়া দেবো। মেস ছেড়ে দিলেও তো আগে জানাতে হয়। এই টাকা কোথা থেকে পাবো? এটা কোন্‌ যুক্তিতে সমীচীন। তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। অভিভাবক হয়ে এমন অবিবেচকের মতো কেন সিদ্ধান্ত নেন?
দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন অধিভুক্ত সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। তিনি জানান, সন্ধ্যায় মিটিংয়ে বসবেন তারা। রাজপথ থেকে উঠে যাবার কথা বলেন শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা এতে অস্বীকৃতি জানান। দুপুর ১টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকশ’ শিক্ষার্থী উপস্থিত হন সেখানে। এরপর অবস্থান নেন পুলিশের সদস্যরা। সঙ্গে ছিল তাদের জলকামান, প্রিজনভ্যান। জলকামানের সামনে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্যদের শিক্ষার্থীরা লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পুলিশ কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন।  বিক্ষোভ চলা অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সংশ্লিষ্টরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু তাতেও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি তারা। বিকাল ৪টার দিকে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় সাত কলেজের পরীক্ষা চলবে। এরপর শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সড়ক ছেড়ে দেন। এরপরই সাড়ে চারটার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে সাত কলেজের চলমান পরীক্ষাগুলো অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পূর্বের রুটিন অনুযায়ীই পরীক্ষা হবে। তবে মঙ্গলবার এবং বুধবারের পরীক্ষাগুলো পরে নেয়া হবে। সেগুলোর তারিখ শিগগিরই জানিয়ে দেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভিডিও বার্তায় বলেন, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের চলমান ও ঘোষিত পরীক্ষাসমূহ অনুষ্ঠিত হবে শর্তসাপেক্ষে। শর্তসমূহ হলো- পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হোস্টেল খোলা হবে না এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর