× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার

সড়কেই হলো ডাক্তার দম্পতির স্বপ্নের সমাধি

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার

আঁধারে ঢেকে গেল সিলেটের চিকিৎসক দম্পতির সাজানো সুখের সংসার। হঠাৎ করে তছনছ হয়ে গেল সব। নিভে গেল স্বপ্নের বাতিঘর। অথচ এমনটির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউ। হাসি-খুশিতে ভরপুর সুখের সংসারে পড়লো অসুরের কালো ছায়া। সিলেটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ডা. ইমরান। সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. অন্তরার অবস্থাও সংকটাপন্ন। হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
দুই অবুঝ সন্তান এনায়া ও ইন্তেজা জানে না তাদের পিতা-মাতার এই দুর্গতির কথা। আর জানলেও বোঝার বয়স তো তাদের নেই। হাউমাউ করে কাঁদছেন চিকিৎসক দম্পতির স্বজনরা। সহকর্মীরাও চোখের জল ঝরাচ্ছেন। যারাই ঘটনা শুনছেন তাদের বুকের ভেতরেও অজানা ঝড় তুলছে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি। ডা. ইমরান খান রুমেল হচ্ছেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক। তার স্ত্রী অন্তরা আক্তারও একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক দম্পতির সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। এনায়া ও ইন্তেজা। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে স্বামী ডা. ইমরানকে সঙ্গে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন অন্তরা। পথিমধ্যে রশিদপুরে বিপরীত থেকে আসা ঘাতক লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসটি তাদের বহনকারী এনা পরিবহনের বাসকে আঘাত করে। স্ত্রীর অন্তরার পাশে বসা ছিলেন ডা. ইমরান। দুর্ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন ডা. অন্তরা। দুর্ঘটনার পর পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে শরীর থেকে। এনা পরিবহনের গাড়ির সামনের অংশের এক পাশে বসা ছিলেন তারা। এ কারণে দুর্ঘটনার সময় দু’জনই বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে জানিয়েছেন এনা পরিবহনের বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা। তারা জানান- দুর্ঘটনার পর তারা সাহায্যের জন্য চিকিৎকার করছিলেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও তারা খালি হাতে কাউকে বের করতে পারছিলেন না। শেষে হাতুড়ি, লাঠি দিয়ে গ্লাস ভেঙে তাদের বের করা হয়। তার আগেই সামনে যারা ছিলেন তাদের কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রক্তক্ষরণের কারণে কারো কারো শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তেমনি একজন ছিলেন ডাক্তার ইমরান। দুর্ঘটনায় তার শরীরের একাধিক স্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। সিলেট নগরীর ফাজিলচিশত এলাকার বাসিন্দা প্রখ্যাত প্যাথলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেনের একমাত্র ছেলে ডা. ইমরান। সিলেটের রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাসের পর তিনি উইমেন্স মেডিকেল কলেজে চাকরি জীবন শুরু করেন। আর ডা. অন্তরা নিচ্ছিলেন বিসিএস’র প্রস্তুতি। ঢাকায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে তারা সিলেট থেকে রওয়ানা দেন। যাওয়ার আগে দুটি সন্তানকে রেখে গিয়েছিলেন তাদের নানির কাছে। এ কারণে বেঁচে গেছে দুই সন্তান। পিতা-মাতার সঙ্গে থাকলে তাদের জীবনেও নেমে আসতো সমূহ বিপদ। গতকাল সকালে প্রথমে ডা. ইমরানের বোন ডা. নূরী খবরটি পান। এ সময় তিনি বাসার ভেতরেই চিৎকার দিয়ে ওঠেন। হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন। খবরটি শুনে পরিবারের সবাই অঝোরে কান্না করেন। আশপাশেরও লোকজন ছুটে যান তাদের বাসায়। এমন ঘটনায় সান্ত্বনা জানানোর ভাষা জানা ছিল না কারো। নিহত চিকিৎসক রুমেলের প্রতিবেশী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ডা. মমিনুল ইসলামও খবর পেয়ে ছুটে যান ডা. ইমরানের বাসায়। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন- বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে স্ত্রী ডা. অন্তরাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন ডা. ইমরান খান রুমেল। পথিমধ্যে সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রশিদপুর সেতুর কাছে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন রুমেল। একই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ডা. অন্তরা গুরুতর আহত হন। তিনি জানান- এই দুর্ঘটনায় তারা শোকাহত হয়ে পড়েছেন। ডা. ইমরান একজন ভালো লোক ছিলেন। তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করতেন। তার মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজও শোকাহত। ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক সিলেটের সিনিয়র চিকিৎসক আমজাদ হোসেন। খবর পেয়েই ছুটে আসেন হাসপাতালে। ছেলে মারা গেছে, পুত্রবধূ সংকটাপন্ন। এ কারণে তিনি পুত্রবধূর জীবন রক্ষায় হাসপাতালেই রয়েছেন। শোক: সম্ভাবনাময় তরুণ চিকিৎসক ডা. ইমরান খান রুমেলের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা কোম্পানি হলি সিলেট হোল্ডিং লিঃ এর কর্মকর্তাবৃন্দ। মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত সকলের মাগফেরাত কামনা ও ডা. ইমরান খান রুমেলের স্ত্রী ডা. অন্তরাসহ আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা। শোক প্রকাশ করেছেন, হলি সিলেট হোল্ডিং লিঃ এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এখলাছুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম এ মতিন, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ইসমাইল পাটোয়ারী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ফজলুর রহিম কায়সার, হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস হাসান প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Md. Fazlul hoque
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শুক্রবার, ১১:১৭

সামনের সীটে না বসে চালাকি করে মাঝখানের সীটে বসে হয়ত কিছুটা নিজের safety নিশ্চিত করা যায় কিন্তু পুরো বাস অপারেশন/ প্রক্রিয়া, ড্রাইভারের দক্ষতা ও আচরণগত বিষয়গুলোর উপর নজর না রাখলে মাঝখানের যাত্রী ও নিরাপদ নন। আর নিজে না হয় মাঝখানের সীটে বসা যায় কিন্তু বাসের সামনের সীট তো খালি রেখে কোনো বাস-ই ছাড়বে না । তাই বাসের ড্রাইভার হেলপার সহ সব যাত্রীর যাত্রা কিভাবে নিরাপদ করা যায় ঐ বিষয়টির প্রতি আমাদের concentrate করতে হবে ।

Lalchan hossain
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার, ১০:১৫

very sad pray for them

Dr Md Z Ali
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার, ৬:০৮

Never seat in the front-seats, seats by the sides of the engine or behind the driver of any highway bus in Bangladesh or any third world country. Even in first world countries, those seats are not safe. The best safe seats are in the middle rows. If you do not get middle row seats do not travel in that bus - life first!

অন্যান্য খবর