× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

ফুটবলে রেডবুলের ‘সৌরভ’

খেলা

মুশফিকুর রহমান
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, রবিবার

একটি এনার্জি ড্রিংক কোম্পানি ফুটবলে আসার পর মাত্র ১২ বছরেই নাম লিখিয়েছে ইউরোপ সেরার আসর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে। তুমুল প্রতিযোগিতা আর পেশাদারিত্বের যুগে কিছুটা অবিশ্বাস্যই। ২০০৫ সালে অস্ট্রিয়ান ফুটবলে আবির্ভাব ঘটে রেডবুলের। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হয়ে জার্মানিতে পা রাখে অস্ট্রিয়ার এনার্জি ড্রিংক প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি। রেডবুল আলোচিত হয়েছে আরবি লাইপজিগের কল্যাণে। জার্মান বুন্দেসলিগায় শিরোপা না জিতলেও তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ খেলেছে। ইউরোপ সেরার আসরটিতে একবার খেলেছে সেমিফাইনাল। এনার্জি ড্রিংক কোম্পানিটি তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত ফুটবলারও।
রেডবুল ফুটবলে একটা সুগন্ধী ফুল ঠিকই। তবে জার্মান ফুটবলে লাইপজিগের সাফল্য পাওয়াকে ভালো চোখে দেখেন না সে দেশের সমর্থকরা। কেননা অন্য জার্মান ক্লাবের মতো লাইপজিগের মালিকানা নেই সমর্থকদের। লাইপজিগের সবগুলো শেয়ারই রেডবুলের অধীনে।
১৯৮৭ সালের ১লা এপ্রিল অস্ট্রিয়ায় এনার্জি ড্রিংক বিক্রি শুরু রেডবুলের। ৩৩ বছর ১১ মাসের মাথায় সারাবিশ্বের ক্রীড়াজগতে অদম্য পথচলা তাদের। ফুটবলের সঙ্গে কার রেসিং, আইস হকি এমনকি রেডবুলের পদচারণা রয়েছে ই-স্পোর্টসেও। ব্যবসাতেও এক নম্বরে তারা। বিশ্বে সর্বাধিক বিক্রীত এনার্জি ড্রিংক রেডবুল। ব্যবসাতেও বিতর্কিত রেডবুল। খেলাধুলায় পরিষ্কার ভাবমূর্তি ছিল তাদের। সমালোচনার শুরুটা ফুটবলে নাম লেখানোর পর। নিজেদের হেডকোয়ার্টার সালজবুর্গ শহরের দল এসভি অস্ট্রিয়া সালজবুর্গকে ২০০৫ সালের এপ্রিলে কিনে নেয় রেডবুল। বিতর্ক সঙ্গী করেই ফুটবলে পথচলা শুরু তাদের। ক্লাবের আগের সকল স্টাফদের সরানোর সঙ্গে নামও পাল্টে ফেলে রেডবুল। নতুন নামকরণ হয় এফসি রেডবুল সালজবুর্গ। সমর্থকদের তুমুল বিরোধিতার পরও লোগো’র সঙ্গে পরিবর্তন করা হয় ক্লাবের জার্সির রং। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা রেডবুল সালজবুর্গকে বয়কট করে নিজেরা আগের নামে নতুন ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে। সমর্থকদের বৈরিতার মধ্যেও ১১টি অস্ট্রিয়ান লীগ জিতেছে সালজবুর্গ। অস্ট্রিয়ান ফুটবলে পথচলার একবছর পরই রেডবুল পা রাখে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে। মেজর সকার লীগের দল (এমএলএস) নিউ ইয়র্ক মেট্রোস্টার্সের মালিকানা নিয়ে নতুন নাম দেয় নিউ ইয়র্ক রেডবুল। একইভাবে পড়ে সমর্থকদের তোপের মুখে। সমর্থকদের মন গলাতে প্রথম মৌসুমেই দলে ভেড়ায় থিয়েরি অঁরি, টিম কাহিলদের মতো বড় তারকাদের। বহু প্রচেষ্টার পরও এমএলএস শিরোপা জিততে পারেনি নিউ ইয়র্ক রেডবুল। ২০০৯ সালে হয় রানার্সআপ। দুইবার কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে বিদায় নেয় তারা। জার্মান ফুটবলে লাইপজিগের উত্থানের অন্যতম কারণ নিউ ইয়র্ক রেডবুলের ব্যর্থতা। ২০০৯ সালে জার্মানির পঞ্চম স্তরের ক্লাব এসএসভি মার্ক্রানস্তাদের মালিকানা অধিগ্রহণ করে রেডবুল কোম্পানি। সেই সঙ্গে ক্লাবের আগের অস্তিত্ব মুছে ফেলে দলটিকে পুনঃনির্মাণ করা হয়। লাইপজিগ শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার পশ্চিমে হওয়ায় সে শহরের নামেই ক্লাবের নামকরণ করা হয়। দলটির নাম রাখা হয় আরবি লাইপজিগ। জার্মান ফুটবলের বাধ্যবাধকতার কারণে ক্লাবের নামের সঙ্গে ‘রেডবুল’ যুক্ত করতে পারেনি রেডবুল কোম্পানি। তবে আইনের ফাঁকফোকর গলে কৌশলে রেডবুলের দুই অক্ষর ‘আর এবং বি’ জুড়ে দিয়েছে ক্লাবের নামের সঙ্গে। আরবি’র পূর্ণাঙ্গ রূপ ‘রাসেনবলস্পোর্ট’। অর্থাৎ ঘাসের উপর বলের খেলা। ক্লাবের লোগোতেও কৌশলে নিজেদের কোম্পানির লোগোই ব্যবহার করেছে তারা। রেডবুল জার্মানির ফুটবলে সবচেয়ে ঘৃণিত দল। এর মূল কারণ ক্লাবের মালিকানা। বুন্দেসলিগায় বেশকিছু আইন প্রচলিত আছে। তার অন্যতম, ক্লাবের মালিকানা ৪৯% এর বেশি কোনো একক ব্যক্তি অথবা একক কোম্পানির নামে থাকা যাবে না। এখানেও কৌশলী রেডবুল। মালিকানার বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আলাদা একটি হোল্ডিং কোম্পানি বানানো হয়েছে যেই কোম্পানির সদস্যদের সবাই রেডবুলের লোকজন। লাইপজিগ জার্মানির একমাত্র ক্লাব, যেখানে সমর্থদের প্রত্যক্ষ কোনো ভোটাধিকার নেই। জার্মানিতে লাইপজিগের সমর্থকের সংখ্যাটাও কম নয়। তাদের ঘরের মাঠ রেডবুল অ্যারেনায় গড়ে প্রতি ম্যাচে গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি ৪১ হাজার। ২০১৬ সালে বুন্দেসলিগায় উন্নীত হওয়ার পর দুর্দান্ত পথচলা লাইপজিগের। শীর্ষ ফুটবলে অভিষেক মৌসুম বাদে চারবারই ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দলটি। ফুটবলে বর্তমানে বেশকিছু শক্তিশালী কোম্পানির আগমন ঘটেছে। এরমধ্যে রয়েছে সিটি গ্রুপ, রেডবুল প্রভৃতি। সিটি গ্রুপ বিশ্বের সব মহাদেশেই ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে। রেডবুল অবশ্য সব প্রান্তের ফুটবলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেনি। ইউরোপ, আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ান ফুটবলে রেডবুলের বিচরণ। কিন্তু অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে রেডবুল এর কার্যগত বেশকিছু পার্থক্য বিদ্যমান। যেমন, সিটি গ্রুপের অধীনে বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি, নিউ ইয়র্ক সিটি, মেলবোর্ন সিটি, জিরোনা, মুম্বই সিটি এফসিসহ বেশকিছু দল আছে। কিন্তু কাজের পলিসির দিক থেকে রেডবুল থেকে তারা একদমই আলাদা। সিটি গ্রুপের দলগুলোর পলিসি হলো প্রচুর পরিমাণে ইনভেস্টমেন্ট এবং দ্রুত উন্নতি লাভ। কিন্তু রেডবুলের কাজগুলো সব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনামাফিক। তারা সারাবিশ্ব থেকে খাঁটি জহুরীর মতো প্রতিভা বেছে আনে। এরপর ধাপে ধাপে বড় তারকা তৈরি করে। ফুটবলের সার্বিক অগ্রগতির জন্য এটি অপরিহার্য। রেডবুলের ফুটবলে বিপ্লব সাধনের পেছনে এই কাজটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রেডবুলের হাত ধরে ইতিমধ্যেই অসংখ্য তারকা ফুটবলার তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাদিও মানে, আর্লিং ব্রট হালান্দ, জশুয়া কিমিখ, নাবি কেইতা, টিমো ভের্নার, দায়োত উপামেকানো। আরো অসংখ্য তরুণ প্রতিভা নিয়ে কাজ করছে তারা, যারা হয়তো অচিরেই তারকা বনে যাবে।

 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর