× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

ছাত্রদল-পুলিশ সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১ মার্চ ২০২১, সোমবার

ছাত্রদলের একটি কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে বিএনপি’র কয়েকজন নেতাসহ ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছিল ছাত্রদল। পুলিশ জানিয়েছে- আগে থেকে অনুমতি না নেয়ায় সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ ঘটনার পর পুলিশের একটি দল জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের খুঁজতে থাকেন।
সংঘর্ষে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব উন-নবী-খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সহ-সভাপতি মামুন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজ শাহ, ইডেন কলেজ ছাত্রদল সদস্য সচিব সানজিদা ইয়াসমিন তুলি, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পূর্ব সহ-সভাপতি শাকিল চৌধুরী ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
এ ছাড়া এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরা পারসনসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ সদস্য ও প্রেস ক্লাবের কয়েকজন স্টাফ আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের ভেতরে জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ শতাধিক। অন্যদিকে প্রেস ক্লাবের বাইরে পুলিশের শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই প্রেস ক্লাবের সামনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন তারা। প্রস্তুত ছিল জলকামান, প্রিজন ভ্যান। বেলা ১১টার দিকে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সমাবেশ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় পুলিশ।
তার কিছুক্ষণ পর হাবিব-উন-নবী সোহেলের নেতৃত্বে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে বাইরে আসার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাদের বাধা দিলে বাকবিতণ্ডা হয়। পরিবেশ উৎতপ্ত হতে থাকে। এ সময় নেতাকর্মীদের কয়েকজন রাস্তায় বসে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের সরাতে লাঠিপেটা করে পুলিশ। পুলিশের হামলায় ঢাকা দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন খান আহত হন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ তখন সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই পিটিয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী বাঁশ ও লাঠি হাতে পুলিশের ওপর চড়াও হন। ইটপাটকেলের শিকার হয়ে পুলিশ কিছুটা পিছু হটে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কদম ফোয়ারা, বিএমএ ভবন ও পুরানা পল্টনের দিকে চলে যান। কেউ কেউ প্রেস ক্লাবের ভেতরে অবস্থান নেন। পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করার সময়ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুলিশ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢুকে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। পরে সংঘর্ষে আহত ছাত্রদল কর্মীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ৭ জনকে আটক করে পুলিশ।
ডিএমপি’র রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। এ পর্যন্ত ৭-৮ জন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান তিনি।
উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ছাত্রদল সমাবেশ করার জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। তাদেরকে আমরা সকালে জানিয়েছি, আপনারা অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রাম করেন। কিন্তু তারা এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। প্রেস ক্লাবের ভেতরে কোনো ইট নেই। তাহলে এতো ইট এলো কোত্থেকে? তার মানে তারা ইট সংগ্রহ করেছে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এটার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, প্রেস ক্লাবের ভেতরে ঢুকে পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, আগামীতে এ ধররে ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর