× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১১ এপ্রিল ২০২১, রবিবার

খুলনাঞ্চলের হিমায়িত চিংড়ির আন্তর্জাতিক বাজার পরিধি কমছে

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে
২ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার

মহামারি করোনার কারণে খুলনাঞ্চলের হিমায়িত চিংড়ির আন্তর্জাতিক বাজারের পরিধি প্রতি মাসেই কমছে। বিদেশি বায়াররা ৫০টিরও বেশি এলসি বাতিল করেছে। গত বছরের আগস্ট মাসে ১০টি দেশে এ অঞ্চলের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হলেও এ বছরের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৩টি দেশে হয়েছে।
মহামারি করোনার কারণে গেল বছরের ২৭শে মার্চ থেকে রপ্তানির পরিমাণ কমতে থাকে। এ ছাড়া খুলনার ডুমুরিয়া, শাহপুর, কপিলমুনি, পাইকগাছা, কয়রা, বাগেরহাটের রামপাল, মোংলা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, পারুলিয়া ও চাপড়া আড়ত থেকে চিংড়ি আসার পরিমাণ কমে যায়। হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন মোকাম থেকে কাঙ্ক্ষিত চিংড়ি মজুত করতে পারেনি। ফলে গেলো মৌসুমে প্রত্যেকটি হিমায়িত কারখানায় গড়ে ২০ হাজার মণ করে কম মজুত হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্র জানিয়েছে, গেলো বছরের আগস্ট মাসে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক ও রোমানিয়ায় এ অঞ্চলের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। সে ক্ষেত্রে গেল ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাশিয়া, জাপান, জার্মানি ও ইউক্রেনে চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, করোনা মহামারির কারণে বেলজিয়াম, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্কসহ কয়েকটি দেশের বায়াররা তাদের এলসি বাতিল করে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দেশীয় বাজারের বাগদা চিংড়ির মূল্য কেজি প্রতি দেড়শ’ টাকা বেশি হওয়ায় বিদেশি বায়াররা উচ্চমূল্যে চিংড়ি কিনতে রাজি হয়নি। খুলনা থেকে গত আগস্ট মাসে ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ও ৫ লাখ ২৫ হাজার ইউরো মূল্যের চিংড়ি রপ্তানি হয়। সেখানে জানুয়ারি মাসে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ডলার মূল্যের চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে।
ক্রিমসন রোজালা সী ফুড কর্তৃপক্ষ জানান, করোনাকালীন বিদেশে চিংড়ি রপ্তানি কম হয়েছে। তাছাড়া বিদেশি বায়াররা পুশ করা বাগদা চিংড়ি কিনতে রাজি হয় না। বিদেশি বায়াররা ৫০টি এলসি বাতিল করেছে।
চট্টগ্রাম ভেটেনেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের প্রধান ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদ তার এক প্রকাশনায় উল্লেখ করেছেন, চিংড়ি রপ্তানির বাজার ক্রম হ্রাসমান হয়ে পড়েছে, যার জন্য নানাবিধ প্রতিকূলতা ও অব্যবস্থাপনা দায়ী। তিনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন করোনার পূর্বে হংকং, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড ও রাশিয়াতে বাংলাদেশি চিংড়ির নতুন বাজার তৈরি হয়।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালি গ্রামের চিংড়ি চাষি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গেল বছর আম্ফানের আঘাতে মালঞ্চ নদীর ভাঙনে খামারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। গোলাখালিতে ৪০ বিঘা জমির খামারের ১২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তাছাড়া এ উপজেলার ধুমঘাট ঈশ্বরিপুর, দুর্গাপুর এলাকায় চিংড়ি চাষিরা আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এ অঞ্চল থেকে অন্যান্য বছরের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ বাগদা চিংড়ি হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুত কারখানাগুলোতে পাঠানো সম্ভব হয়।
তার দেয়া তথ্য মতে, সাতক্ষীরার সকল উপজেলার চিংড়ি চাষিরা গেলো বছর কাঙ্ক্ষিত দাম পায়নি। তাছাড়া করোনাকালীন পরিবহন সংকট থাকায় মোকাম থেকে চিংড়ি হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোতে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর