× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচি উদ্বোধন বিএনপি’র

লড়াই এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে লড়াই করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেতারা। গতকাল বিকালে গুলশানের হোটেল লেকশোরে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এই স্বাধীনতা এদেশে যারা সোনালী ফসল ফলায়, যারা পণ্য উৎপাদন করে, যারা শ্রম দিয়ে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তাদের সকলের। বিদেশে প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়ের, গার্মেন্টসে কর্মরত মা-বোনের, ক্ষেতে রৌদে পোড়া-বৃষ্টিতে ভেজা কৃষকের, ছাত্র-যুবক সকল পেশাজীবীর। আসুন এই পঞ্চাশ বছর পরে আমরা নতুন করে শপথ নেই- ১৯৭১ সালের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের। যা আমাদের একটি উদার গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে অন্ধকার থেকে আলোর জগতে।
তিনি বলেন, এই স্বাধীনতা আমাদের জনগণের স্বপ্নের ফসল।
আমরা যখন সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের চক্রান্ত চলছে। বর্তমানে অনির্বাচিত কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী সরকার এই চক্রান্ত করছে। স্বাধীনতার চেতনা আজকে ভুলণ্ঠিত। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভুয়া মোড়কে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ভোটারবিহীন নির্বাচন। নির্বাচনের আগের রাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন। আমাদের স্বাধীনতার সকল আশাগুলো ভেঙে খান খান করেছে দিয়েছে এই সরকার।

ফখরুল বলেন, এই ৫০ বছরে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা দূরে থাকুক আরো বিভক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতাকে সংহত করার চেয়ে আরো দুর্বল করা হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্খা ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। বৈষম্য আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভ্রান্ত ইতিহাস জানিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা সুর্বণ জয়ন্তীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেই সত্যকে অবধারিত করতে চাই, স্পষ্ট করতে চাই- যে সত্য আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও যুদ্ধকে মহিমান্বিত করেছিল, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আবারো সেই স্বপ্ন দেখাতে চাই- মুক্ত স্বদেশে, মুক্ত সমাজে, মুক্ত মানবিক কল্যাণময় রাষ্ট্রে। আমরা অর্থনৈতিক সামাজিক বৈষম্য দূর করতে চাই। আজকের যে শিশু তার জন্য একটি কল্যাণময় ভেবে ভালোবাসার পৃথিবী গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখাতে চাই। আমাদের সেই মহান সংগ্রামী যুদ্ধে যাদের যে অবদান তাকে তুলে ধরতে চাই, তাদের সকলকে সম্মানিত করতে চাই।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আজকে অনেকে বোঝাতে চেষ্টা করেন এটি ছিল একটি রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ। মনে হচ্ছে যেনো এক ভাষণেই দেশ স্বাধীন হয়ে গিয়েছে। এই যে লক্ষ মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, বহু নারী সম্ভ্রম হারিয়েছে, বহু পিতা তার পুত্র হারিয়েছে তাদের নাম কেন উল্লেখ নাই সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে। গত মাস গেছে ভাষা আন্দোলনের মাস। কিন্তু আমরা কিভাবে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছি এটা নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না।

তিনি বলেন, আমরা এখন এমন একটা পর্যায়ে চলে এসেছি যে, এই সরকার স্বাধীনতার ঘোষকের খেতাব কেড়ে নিতে চায়। কতো বড় বিশ্বসঘাতকতা, কতো বড় হৃদয়হীনতা এই রাজনৈতিক নেতাদের, যারা এই চিন্তা করে।
ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, আমরা বক্তব্য অনেক দিয়েছি। এখন অ্যাকশনের কথা বলেন। আলোচনায় আর কাজ হবে না। কি করলে আমরা এই সরকারের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবো এর পরিকল্পনা আমাদের করতে হবে। দেশে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আলোচনা হবে এইটা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বলের পরিচালনায় দলের শিল্পীরা দলীয় সঙ্গীত, কোরিওগ্রাফীর মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ‘থিম সং’ এবং শিল্পী রেখা সুফিয়ানা, ইথুন বাবু এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বেবী নাজনীন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বক্তব্য রাখেন।

বর্ণাঢ্য এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি’র ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, উকিল আব্দুস সাত্তার, ভিপি জয়নাল আবেদীন, আবদুল কাইয়ুম, শাহিদা রফিক, আব্দুল কুদ্দুস, মামুন আহমেদ, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিজন কান্তি সরকার, সুকোমল বড়ুয়া, এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার মুক্তাদির, মজিবুর রহমান সারোয়ার, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, জহিরউদ্দিন স্বপন, নাজিম উদ্দিন আলম, শিরিন সুলতানা, নাসের রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, খন্দকার মারুফ হোসেন, প্রচার ও মিডিয়া কমিটির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আমিরুল ইসলাম আলীম, মীর হেলালউদ্দিন, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান, মাহমুদা হাবিবাসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে মোস্তফা জামাল হায়দার, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, রেদোয়ান আহমেদ, আহমেদ আবদুল কাদের, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খন্দকার লুতফুর রহমান, সাইফুউদ্দিন মনি, সাহাদাত হোসেন সেলিম, আজহারুল ইসলাম, সৈয়দ এহসানুল হুদা, আবু তাহের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, ফারুক রহমান, মোস্তফিজুর রহমান মোস্তফাসহ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, তুরস্ক, জাপান, জাতিসংঘ, ইউএসএইড, আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর