× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার

আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ২

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে
(১ মাস আগে) মার্চ ২, ২০২১, মঙ্গলবার, ২:৫০ অপরাহ্ন

সাভারের আশুলিয়ার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আবু সাদেক ভুইয়া ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, সেলিম, শাহিন, কবির ও ফারুক। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ জিয়াউল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা এখনো পরিষ্কার হতে পারিনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা রয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের নাম পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি। সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আবু সাদেক ভুইয়া বলেন,ডিইপিজেড এর এক্সপেরিয়েন্স কেøাথিং কোম্পানী লিঃ নামে একটি তৈরী পোশাক কারখানার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কারখানাটির সাথে ব্যবসা করতেন কবির হোসেন সরকার। তবে সম্প্রতি তার সাথে কারখানার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার ছেলে মনির হোসেন ভুইয়ার সাথে চুক্তি করে। সেই মোতাবেক  সোমবার আমার ছেলে কারখানায় লেবার পাঠালে কবির হোসেন সরকারের লোকজন তাদের কারখানা থেকে বের করে দেয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় ২ থেকে ৩শ সশস্ত্র লোক নিয়ে কবির সরকারের লোকজন আমার বাসায় হামলা চালায়, এসময় তারা আমার বাড়ি লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলিও বর্ষণ করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ১৭টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পিকআপ ও মোটরসাইকেলগুলো নিয়ে যায়। অপরদিকে আবু সাদেক ভুইয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে কবির হোসেন সরকার বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত ওই কারখানার সাথে ব্যবসা করছি। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ওই কারখানার সাথে আমার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পহেলা মার্চ আমি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আবারো কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। এদিকে সোমবার সাদেক ভুইয়ার লোকজন কারখানা থেকে আমার লেবারদের বের করে দিলে, গতকালই বিষয়টি জানিয়ে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পরে মঙ্গলবার সকালে আমার ম্যানেজার সেলিম ১৬/১৭টা মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে ইপিজেড এর দিকে যাওয়ার সময় সাদেক মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার লোকজন অতর্কিতভাবে আমার লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে শাহিনসহ আমার দ’ুজন লোককে কুপিয়ে জখম করে। গুলিবর্ষণ ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সাদেক ভুইয়ার লোকজন আমার লোকজনের উপর অতকির্তভাবে চলন্ত মোটরসাইকেলে হামলা চালিয়েছে, এখানে আমার লোকজন হামলা করলো কিভাবে, আর গুলিবর্ষণের তো প্রশ্নই আসে না। একইভাবে সাদেক ভুইয়াও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাড়ির সামনে কবির সরকারের লোকজন এসে হামলা চালিয়েছে, তাদের উপর হামলা চালানোর প্রশ্নই আসে না। অপরদিকে ঘটনাস্থল থেকে আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ভাংচুর করা প্রায় ১৫/১৬টি মোটরসাইকেল আমরা উদ্ধার করেছি। তিনি আরো বলেন, যতদূর জানতে পেরেছি একবার নয়, দুই দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। যেই কারখানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেই কারখানায় একবার সংঘর্ষ হয়েছে। পরে কবির হোসেন সরকারের লোকজন ভাদাইলে সাদেক ভুইয়ার বাড়ির সামনে আসলে সাদেক ভুইয়ার লোকজন এলাকায় ডাকাত এসেছে উল্লেখ করে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে আবার পাল্টা হামলা করেছে। পরে আমি এসে ঘটনাস্থল থেকে কবির ও ফারুক নামে দু’জনকে সামান্য আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তবে পুলিশের এই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটকের কথা নিশ্চিত করলেও, তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি। জানতে চাইলে এক্সপেরিয়েন্স ক্লোথিং লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আসলাম বলেন, কবির হোসেন সরকারের সাথে চুক্তির মেয়ার শেষ হওয়ার পর আবু সাদেক ভুইয়ার ছেলে মনিরের সাথে চুক্তি হয়েছে বলে জানি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর