× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার
রাজশাহীর সমাবেশে বিএনপি নেতারা

পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে

শেষের পাতা

শাহনেওয়াজ বাবলু ও আসলাম-উদ-দৌলা, রাজশাহী থেকে
৩ মার্চ ২০২১, বুধবার

চলতি বছরেই বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি’র নেতারা। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবে বলে মন্তব্য করেন  বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার রাজশাহীর নাইস কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এ দাবি জানান তারা। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এদিন সকাল থেকে নগরীর আমচত্বর, কাটাখালী, সাহেব বাজার, ফায়ার সার্ভিস মোড়, ভোজপাড়া মোড়, সদর হাসপাতাল মোড়, সিএমবি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।

বিকাল তিনটায় সমাবেশ শুরু হলেও তার আগে দুপুরের মধ্যেই নগরীর নাইস কমিউনিটি সেন্টার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।

সমাবেশে অংশ নিতে মঙ্গলবার সকালে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে রাজশাহীতে যান সর্বশেষ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সমাবেশস্থলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন স্থানে বাধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সময় থাকতে পদত্যাগ করুন।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। নয়তো জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে আপনাদের ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে বাধ্য হবে।

সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি হচ্ছে বীরের জাতি। বাঙালি কখনো কারো কাছে মাথা নত করবে না। আমরা এই স্বৈরাচার সরকারের কাছে মাথা নত করবো না। এই অবৈধ সরকারকে হটাতে হলে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাই সকলকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি বলেন, আজকে সমাবেশে আসার সময় বেশ কয়েকবার আমার গাড়িবহরে বাধা দিয়েছে পুলিশ। নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, রাজশাহীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার সব বন্ধ করে দেয়াতে মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও যেতে পারছে না। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। আর এই সরকারকে সময় দেয়া যাবে না। আমাদের নেতা তারেক রহমান যেদিন বলবেন সেইদিন সংসদ থেকে পদত্যাগ করে সরকার পতনের জন্য যা যা লাগে তাই নিয়ে যুদ্ধ শুরু করবো।

খুলনা সিটি করপোরেশনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ভোট ডাকাতির চিত্র তুলে ধরতে ছয় সিটিতে সমাবেশ করেছে জনতার মেয়ররা। সমাবেশের অনুমতি দিলেও পথে পথে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পরিবহন, হোটেল-মোটেলও। বিএনপি কারচুপির নির্বাচনে আর যাবেন না বলে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। শিগগিরই শেখ হাসিনা সরকারের পতন হবে সে বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি’র নির্বাচন হয় পুলিশের সঙ্গে মন্তব্য করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আমাদের নির্বাচন করতে হয় পুলিশের সঙ্গে। নির্বাচন করার মতো জনসমর্থন আওয়ামী লীগের নেই। আর বেশিদিন নেই এই সরকারের। আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর জন্য দরজাও খুঁজে পাবে না।
ইশরাক হোসেন বলেন, ডিজিটাল আইন করে লেখক মুশতাককে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। সরকার জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করতে চাচ্ছে দেশের মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য। এ সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। পাশের দেশের সাপোর্ট নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। গত আড়াই বছরে আড়াই কোটি নতুন ভোটার হয়েছে। কিন্তু তারা ভোট দিতে পারেননি। আমরা এই দেশে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর