× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার

জনগণ অবশ্যই অপমানের প্রতিশোধ নেবে

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
৩ মার্চ ২০২১, বুধবার

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। তারা নিজেদের লোক ছাড়া কাউকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। এ ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননার শামিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে গণতন্ত্র। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ‘২রা মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি’র বছরব্যাপী কর্মসূচির ২য় দিনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলক, তৎকালীন ডাকসু ভিপি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেএসডি ভাইস চেয়ারম্যান তানিয়া রব। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জনগণের ভোটাধিকারকে সরকার চরম তামাশায় রূপান্তরিত করেছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার্থে মানুষের জীবন এবং সম্পদহানির সরকারি নির্মম খেলা একবিংশ শতাব্দীর এক কলঙ্ক। ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত’ বলে দাবি করা সরকারের এই নির্লজ্জতা জনগণের অপমানের ক্ষতে প্রতিদিন লবণ ছিটিয়ে দেয়ার নামান্তর। গত ১২ বছরে ভোটের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জনগণ অবশ্যই এই অপমানের প্রতিশোধ নেবে। জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হবে কী মাত্রায় শাসকগণ তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। জেএসডি সভাপতি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একেবারে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। এ ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননার শামিল। আলোচনা সভার প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে আওয়ামী লীগের অর্জন হচ্ছে তারা জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। তারা নিজেদের লোক ছাড়া কাউকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। স্বাধীনতা কোনো বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের কারণে আসেনি। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় থেকে এ দেশের মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল। পাকিস্তান সরকারের আমলে এসে সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দিয়েছে এ দেশের মানুষ। এ দেশের সাধারণ মানুষ, ছাত্রসমাজের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। তিনি আরো বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধ ঘোষণা না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তারা সমস্ত কালা কানুন তৈরি করেছে। সবশেষে তারা বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্রকে বিদায় করেছে। আওয়ামী লীগ বংশগতভাবে স্বৈরাচারী মনোভাব ধারণ করে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে তারা একই পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশকে কেন জনগণের প্রতিপক্ষ মনে করা হয়- সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধানের এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদেরও একই প্রশ্ন। কেন পুলিশকে মানুষ প্রতিপক্ষ ভাবে। এই উত্তর পুলিশ প্রধানকেই খুঁজে বের করতে হবে। এর কারণ হচ্ছে, এখন নির্বাচনে পুলিশ দিয়ে ভোট দেয়া হয়। যখন কেউ প্রতিবাদ করতে নামে তাকে পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করা হয়। তাদের ধারণা, তারা সরকার তৈরি করেছে, তারাই দেশ চালাবে। এভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বরবাদ করা হয়েছে। দলীয়করণ করে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ৫০ বছরে এসে স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণ হয়নি। উন্নয়নের কথা বলে, দেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর কথা বলে সব সম্পদ লুট করা হয়েছে। লুটেরারা সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করছে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, স্বাধীনতার লড়াই মানে গণতন্ত্রের লড়াই। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে রাতে ভোট ডাকাতি হয়। ফেসবুকে লেখার কারণে লেখক জেলে যায়, জেলখানায় মৃত্যু হয়। জাতিসংঘ এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চেয়েছে। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল প্রসঙ্গে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। উপাধি কেড়ে নিলে সম্মান চলে যায় না। জিয়াউর রহমানের সম্মান কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নিয়ে বর্তমান সরকার তাকে অসম্মান করতে চাইছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করা। আওয়ামী লীগ সরকার বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। বিএনপি সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে। এবারো সেই হারানো গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুবদল, ছাত্রদল ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন হয়েছিল। বর্তমান সরকারকে বিদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমাদের ব্যর্থতা হচ্ছে এই সরকারকে আমরা শুরুতে হটাতে পারিনি। সরকার আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। বর্তমানে পুলিশ কর্মকর্তাদের মনে হয় রাজনৈতিক দলের নেতা। বিএনপি’র সমালোচনা করে নুর বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যগুলোর জবাব দিতে পারেনি। বিএনপিতে আওয়ামী লীগের থেকে বেশি পরিমাণে মুক্তিযোদ্ধা আছেন। বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে বিভক্তি আছে উল্লেখ করে নুর আরো বলেন, সরকার এই বিভক্তির ফায়দা নিচ্ছে। সরকার পতনের আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি ঘোষণার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আরো বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, এসএম ফজলুল হক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর