× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৮ এপ্রিল ২০২১, রবিবার

শায়েস্তাগঞ্জে বিশুদ্ধ পানি সংকটে এলাকাবাসী

বাংলারজমিন

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার

 হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফাল্গুন মাসের প্রথমেই শুরু হয়েছে এ সংকট। সামনেই তীব্র কাঠফাটা রৌদ্রের মাস চৈত্র সমাগত প্রায়। শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অপেক্ষাকৃত নিম্নগামী হওয়ার কারণে প্রতি বছরই এ সংকটে পড়তে হচ্ছে এলাকার লোকজনকে। মূলত এ সংকটের সূত্রপাত হয় আজ থেকে প্রায় বছর দশেক আগে থেকে।
প্রাকৃতিকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিম্নগামী হওয়াতে এ সংকট ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে উল্লিখিত এলাকায় সাধারণ টিউবওয়েলের পানির প্রবাহ হ্রাস পেতে থাকে। ফেব্রুয়ারি মার্চ মাসে ওই অগভীর নলকূপগুলোর পানির প্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এলাকার বাসিন্দারা সুপেয় পানির অভাব অনুভব করতে থাকেন।
এলাকাব্যাপী দেখা দেয় পানযোগ্য পানির তীব্র সংকট। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং, সুরাবই ও চা বাগান অঞ্চলে উঁচু টিলার উপরে বেশকিছু মানুষের বাড়িঘর রয়েছে। ওইসব অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সুপেয় পানির সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
এ সময়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নগামী হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত পাম্পের সাহায্যে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ধান চাষসহ অন্যান্য ফসলি জমিতে সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা। শীত মৌসুমে রবি শস্যসহ বিভিন্ন ফসল চাষে প্রচুর পরিমাণে পানি সেচের প্রয়োজন হয়। তাই নদী নালা, খাল, বিল, পুকুরসহ অন্য সব জলাধার পানিশূন্য হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
এলাকার এ পানি সংকট বিষয়ে পৌরসভার মহলুলসুনামের বাসিন্দা তাফহিম চৌধুরী জানান, তার বাড়ির অগভীর নলকূপটির পানি প্রবাহ ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। পানি সংকটে ভুক্তভোগী দাউদনগর গ্রামের জুনায়েদ চৌধুরী জানান, তার বাড়িতে ২৮০ ফুট গভীরতা সম্পন্ন টিউবওয়েলটির পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি মোটর সংযোগের মাধ্যমে আপাতত পানির অভাব পূরণ করতে পেরেছেন। তিনি আরো বলেন, মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে যদি বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে তার সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। বিরামচর গ্রামের আহমেদ কবির জানান, তার অগভীর নলকূপটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তিনি পাশের বাড়ির গভীর নলকূপ থেকে পাইপ লাগিয়ে পানি এনে পানি সংকট থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা পেয়েছেন।
বাগুনিপাড়া গ্রামের আলেয়া বেগম বলেন, তাদের বাড়ির টিউবওয়েলে এখন আর পানি দেয় না, তাই অন্য বাড়ি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের রোকেয়া বেগম বলেন, শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় আমাদের টিওবওয়েলে বেশ কিছুদিন ধরে পানি দিচ্ছে না, ফলে অন্য বাড়ি থেকে খাবার পানি এনে খেতে হয়। একই ইউনিয়নের জহুরা বেগম জানান, আমাদের টিওবওয়েলে পানি আসছে না, গত বছরও টিওবওয়েলটি মেরামত করিয়েছিলাম। কিন্তু এ বছরও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে পুকুরের পানিও। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই পরিবেশে বিরূপ প্রভাবের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এসব এলাকায় রাষ্ট্রের উদ্যোগে পর্যাপ্ত সংখ্যক গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পানি সংকট দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া বলেন, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা এই মৌসুমে হয়েই থাকে, আমি সরজমিন বিষয়টি দেখে এসেছি। সেচ কাজে বিভিন্ন সময় পাম্প দিয়ে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে ওয়াটার লেভেল নিচে চলে আসে, সেজন্যই এমনটি হয়ে থাকে। আমরা পানির সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নিয়ে কাজ করছি, পল্লী পানির ব্যবস্থা করছি। এ ছাড়াও নলকূপ করে দিচ্ছি। তারা নলকূপের মাধ্যমে ওয়াটার লেভেল ৪০ ফুট নিচে চলে গেলেও পানি আসে। আমাদের হাতে আরো কয়েকটি প্রজেক্ট রয়েছে, সেগুলো করতে পারলে আশা করছি পানির সমস্যা দূরীকরণ সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিনহাজুল ইসলাম বলেন, এ সময় সব এলাকাতেই পানির স্তর নিচে নেমে যায়। যার ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। উপজেলা থেকে ইতিমধ্যে ৭৮টি অগভীর নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর