× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২১, বুধবার
খালেদা জিয়ার সম্মতি

জামায়াত ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু বিএনপি’র

প্রথম পাতা

শাহনেওয়াজ বাবলু
৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপি’র জোট সঙ্গী জামায়াত। তাদের এ জোট নিয়ে কথা হয়েছে বিস্তর। আলোচনা-সমালোচনারও শেষ নেই। যদিও অনেকদিন হলো দুই দলের সম্পর্কটা নামকাওয়াস্তে। সাম্প্রতিক সময়ে সে দূরত্ব বেড়েছে আরো। সম্প্রতি স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সেখানে জামায়াতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। জামায়াত ত্যাগের প্রশ্নে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলে আসছে অনেকদিন ধরে।
সে আলোচনা জোরদার হয়েছে। জামায়াত ত্যাগের এক ধরনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

গত বছরের শুরু থেকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ধারাবাহিকভাবে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক করে আসছে দলটির স্থায়ী কমিটি। স্থায়ী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের বিষয়ে মতামত দেন। সম্প্রতি বিএনপি’র চেয়ারপারসনের সঙ্গে তার গুলশানের বাসা ফিরোজায় দেখা করেছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা। এ সময় বেগম জিয়ার সঙ্গে জামায়াত ইস্যু নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ নেতার নির্দেশনা চান তিনি। খালেদা জিয়া বিএনপি’র ওই নেতাকে বলেন, আমার কিছু বলার নেই। দলের মধ্যে যদি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার মতামত এসে থাকে, তাহলে যা ভালো মনে করেন, করতে পারেন। জামায়াতের বিষয়ে নেয়া যেকোনো সিদ্ধান্তেই তার আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। এর আগে গত পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাবিনিময় করতে ফিরোজায় গিয়েছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা। ওই সময়ও কয়েকজন সিনিয়র নেতা জামায়াত প্রসঙ্গে কথা বলেন। সে সময়ও জামায়াতের বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সূত্র জানায়, জামায়াতের বিষয়ে নিজের অভিমত লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও জানিয়ে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এদিকে জামায়াতকে ছাড়ার বিষয়ে বিএনপি’র মধ্যে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। গত ১লা মার্চ রাজধানীর গুলশানস্থ হোটেল লেকশোরে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করে বিএনপি। এই অনুষ্ঠানে বিএনপি ছাড়াও ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টের অধিকাংশ নেতা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা। সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিতর্কমুক্ত রেখে একে সর্বজনীন রূপ দিতে জামায়াতকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। তাদের দাওয়াত না দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপি’র হাইকমান্ডের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি’র স্বাধীনতা উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জামায়াতের বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা হয় মানবজমিন-এর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, চাইলেই জামায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। তবে এ বছর জামায়াতকে ছাড়ার বিষয়ে ফাইনাল ডিসিশন নেয়া হবে। এতোদিন খালেদা জিয়ার মতামত নেয়াই ছিল বড় বিষয়। এখন যেহেতু ওনার মতামত পাওয়া গেছে, ফলে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ এবং সময় কম লাগবে।

বিএনপি’র এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, জামায়াতকে ছাড়ার বিষয়ে বিএনপি’র ওপর দীর্ঘদিনের দেশি ও আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে জামায়াতকে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এবং উগ্রবাদী হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। আর যে আশা নিয়ে বিএনপি জামায়াতকে জোটে নিয়েছিল এখন আর সেটার ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে যে কোনো আন্দোলন- সংগ্রামে বিএনপিকেই অংশ নিতে হচ্ছে। ২০১৪’র নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি’র সঙ্গে জামায়াতের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তাই সবদিক বিবেচনায় জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিএনপি’র সময় এখনই। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানবজমিনকে বলেন, জাময়াতকে ছাড়া না ছাড়ার বিষয়ে কোনো কিছুই ভাবছে না বিএনপি। এখন পর্যন্ত আমাদের ২০ দলীয় জোট (জামায়াতসহ) অক্ষুণ্ন আছে। সুতরাং এ বিষয় নিয়ে আলোচনার কিছুই নেই। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতকে নিমন্ত্রণ না করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপি মহাসচিব।

 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Jaber Ahmed
৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ৪:৪৬

জামাত ছাড়া বিএনপি পঙ্গু। জামাতের কারণেই এখনো বিএনপির অস্তিত্ব আছে। বিএনপি কী অাদৌ পারবে জামাতের মতো একক হরতাল কর্মসূচি দিয়ে তা সারাদেশে বাস্তবায়ন করতে? কিন্তু জামাত এককভাবে সারাদেশ অচল করে বহুবার দেখিয়েছে। বিএনপি আর জামাতের শক্তি রাতদিন তফাৎ। বিঃদ্রঃ আমি কোন রাজনীতি করি না। একজন সাধারণ নাগরিক।

mazharmogira
৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ৩:৫৩

আমার মনে হয় বি এন পি জামাতকে ছাড়লে জামাত আলহামদুলিল্লাহ বলবে। আর এদিকে বি এন পির অস্তিত্ব যা আছে তাও আস্তে আস্তে বিলীন হতে থাকবে । আর জামাত প্রকাশ্যে যাবতীয় কার্যক্রম চালাতে পারবে।

a k azad
৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ৩:৪১

Every member of Jamat-e -Islami loves his motherland and wants her betterment. They want to establish justice in every sector of the society. Therefore, they should be properly used for the greater interest of the nation.

আলমগীর নূর
৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ২:৩৭

মূলতঃ জামায়াত ইস্যু হচ্ছে আওয়ামী লীগের চেতনা নির্ভর রাজনৈতিক ব্যাবসা জিইয়ে রাখার একটা মারণাস্ত্র ও কূটচাল। নিকট অতীতে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা কর্তৃক প্রকাশিত যোদ্ধাপরাধীর তালিকায় দেশবাসী দেখেছে কতো % যোদ্ধাপরাধি সরকার দলীয় আর কতো % যোদ্ধাপরাধী জামায়াত ইসলামির। আওয়ামী লীগ যেহেতু মুক্তি যুদ্ধকালীন সময়ে ভারতে পলায়মান ছিলো তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কোন সম্বল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অর্জনের থলিতে নেই। তাই তারা অদৃশ্য কথিত চেতনা নির্ভর রাজনৈতিক ব্যাবসা করে চলেছে বাংলাদেশে। আর আওয়ামী লীগের এই চেততা নির্ভর রাজনীতিকে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে জিইয়ে রাখার অপকৌশল হচ্ছে কথিত জামায়াত ইসলামি ইস্যু। জামায়াত ও হেফাজত আওয়ামী লীগের সাথে রাজনৈতিক মোর্চা করলে ধোয়া তুলসীপাতা! আর বিএনপির সাথে ভোটারবিহীন অবৈধ শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে জোটগত যুগপৎভাবে আন্দোলন করলে বিএনপি খারাপ বা জামায়াত যোদ্ধাপরাধী! যেন জুয়ার তাশখেলা! বিচার মানি, তাল গাছ আমার! এমনি ভাব বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত বর্তমান সরকারী দলের। এখানে উল্লেখ্য যে, শহীদ জিয়ার বিএনপি হচ্ছে মূলতঃ মুক্তি যুদ্ধ ও মুক্তি যোদ্ধাদের দল। শহীদ জিয়ার ঘোষণাতেই মূলতঃ স্বাধীনতার সূচনা হয়। জামায়াতের সাথে বিএনপির আদর্শিক কোন সম্পর্ক নেই, কখনো ছিলোনা, ভবিষ্যতেও থাকবে না। তবে, ভোটার বিহীন অবৈধ সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ যুগপৎভাবে আন্দোলন করার নিমিত্তেই কেবল বিএনপির সাথে জামায়াত সহ অন্যান্য ২০ দলের কেবল রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশের প্রধান ও সর্ববৃহত রাজনৈতিক দল। তাই দেশ ও জাতির নিরেট স্বার্থে ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শরিক হওয়ার প্রয়োজনেই বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বিএনপির নেতৃত্বে জোটবদ্ধ হয়েছে। এটা অনশ্বিকার্য্য যে, বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের আপামর জনগণের জাতিতাত্ত্বিক পরিচিতির অপর নাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা রাজনৈতিক দল। যার প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বনির্ভর, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ বিনির্মানকারী মেজর জিয়া। শহীদ জিয়ার ঘোষণাতেই স্বাধীনতার সূচনা।

Aftab Chowdhury
৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১:৫২

এই সংবাদ দেখে বি এন পি র প্রতিপক্ষ আওয়ামিলীগ আর রাম বাম দলগুলি ও তাদের সমর্থক দের যদি উৎফুল্ল দেখা যায় তাহলে, নিশ্চত ধরে নিতে হবে বিএনপি ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ।

AMIR
৫ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১১:৩১

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যে বিরোধিতা করল সেই বিরোধিতাকারীকে নিয়ে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী পালন করার চিন্তা বিএনপিকে মাথা থেকে ঝেড়ে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে; মুসলিম লীগে 'র পরিনতির স্মৃতি ভুলে গেলে চলবে না!

আনিস উল হক
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৮:৫১

স্বাধীনতার বিরোধীতাকারীদের নিয়ে দল গঠন করে জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক আচরণে অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন।পরবর্তীতে এই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রটি দল আওয়ামীলীগ এর বিরোধীতা করতে যেয়ে সুকৌশলে পুরো বিএনপিকে ১৯৭১ এর চেতনার বিপক্ষে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়।অথচ জিয়াউর রহমান নিজেই একজন বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা।বঙ্গবন্ধু আমলে তাঁকে নিয়ে কোন কটূকথা শোনা যায়নি।আবার জিয়ার রহমান নিজে নিজকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেননি।

আনিস উল হক
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৭:৩৮

বিএনপি ২০ দলীয় জোটের কথা বলে কিন্তু কোনো বিএনপি নেতা কি জোটের ২০টি দলের নাম বলতে পারবেন?

Mohammed Mohiuddin
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৩:৫০

BNP জামায়াত ছাড়ার সংবাদ শুনে জামট দুঃখে কাতর হয়ে গেছে !!!

Salim khan
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:৩৩

আমি মনে করি প্রত্যেকটা দলই এককভাবে চলা উচিত তাহলে নির্বাচনে এককভাবে করা উচিত আমি বলে মনে করি তাহলে একক নির্বাচিত দল সবচেয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র উপহার দিতে পারে

অন্যান্য খবর