× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার, ১০ রমজান ১৪৪২ হিঃ

পাহাড় কেটে ইটভাটা

বাংলারজমিন

নুরুল কবির, বান্দরবান থেকে
৬ মার্চ ২০২১, শনিবার

বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগের নেতা মিলন ক্ষমতার জোরে পাহাড় কেটে তৈরি করলো অবৈধ নতুন ইটভাটা। জেলার রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা রুমানা পাড়ায় গড়ে তুলেছেন এই ইটভাটাটি। ইটভাটার জন্য সমতল ভূমির প্রয়োজন দেখা দেয়ায় বিশালাকার পাহাড় কেটে সমতল করার কাজ চলছে। মানুষের নিত্য-ব্যবহৃত ঝিরিতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এখন পাড়ার শ’খানেক পরিবার পানি সংকটে ভুগছে। পাড়ার পাশে ইটভাটা নির্মাণে বন-জঙ্গলের গাছপালা উজাড়ের সম্ভাবনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিজ ভিটা থেকে উচ্ছেদের আতঙ্কও বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। ইটভাটা নির্মাণে মালিক পক্ষের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। ফলে ওই পাড়ার বাসিন্দারা অনেকটা অসহায়।
সরজমিন দেখা গেছে, ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে রুমা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের রুমানা পাড়ায়। কাছেই রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের রিজার্ভ ফরেস্ট। তিনটি ছোট-বড় পাহাড় কেটে ইটভাটা প্রস্তুতির কাজ চলছে। পাহাড় কাটতে বড় বড় বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটি ভরাট হয়ে তিনটি ঝিরি ও ছড়ার পানির উৎসের প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। যে ঝিরি সারা বছর পাড়ার বাসিন্দাদের পানির চাহিদা মেটায়। ইটভাটার কেরানির দায়িত্বে থাকা মো. দিদারুল ইসলাম জানান, কাজের শুরুতে ৬০ জন শ্রমিক ছিল। ম্যানেজার শ্রমিকদের পাওনা মজুরি টাকা না দেয়ায় অনেকে চলে গেছে। শ্রমিকরা জানায়, প্রতি রাউন্ডে অর্থাৎ প্রতিবার পোড়ানো হবে তিন লাখ ইট। প্রায় ২০-২৫ রাউন্ড অর্থাৎ ৬০-৭৫ লাখ ইট পোড়ানো হবে।
নতুন রুমানা পাড়ার কার্বারী (পাড়াপ্রধান) কাপঙির বম জানান, ইটভাটা করার জন্য প্রতিবছর সাড়ে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হবে- এই শর্তে বান্দরবানের মিলন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের পর কাগজের ফটোকপি দেয়ার কথা ছিল। ঠিকাদার মিলন এখনো তাকে চুক্তির কোনো কাগজ দেয়নি বলে জানান। রুমানা পাড়ার বাসিন্দা নল তিলির বম বলেন, ইটভাটার কারণে শুধুমাত্র পানির উৎসের প্রবাহ বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভাটায় ইট পোড়াতে লাখ লাখ মণ লাকড়ি প্রয়োজন হবে। প্রতিমণ মাত্র ৫০ টাকায় লাকড়ি সরবরাহ করতে হবে বলে ইটভাটার পক্ষের লোকজন পাড়াবাসীকে জানিয়েছে। ইটভাটার জন্য লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নেয়া রাঙ্গামাটির ফারুয়া রিজার্ভ বনসহ আশেপাশের এলাকায় কোনো স্থানে গাছ আর থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা। পরে ঘরবাড়ি তৈরিতে কোনো গাছ-বাঁশ পাওয়া যাবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইটভাটা তৈরিতে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি বা ছাড়পত্র নেই মালিক পক্ষের। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ঠিকাদার মিলন বলেন, দুর্গম এলাকায় সড়ক নির্মাণে এই ইট ব্যবহার করা হবে। ইটভাটা নির্মাণে বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যান্য জায়গায় যেভাবে ইটভাটা হয়, সেভাবে করছি। বান্দরবানের নিয়ম-কানুনতো সবাই জানেন।
বান্দরবানের পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম বলেন, রুমায় ইটভাটা নির্মাণে কোনো অনুমতি নেই। যদি কেউ করে থাকে তা ভেঙে দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়ামিন হোসাইন বলেন, ইটভাটা স্থাপনের কথা শুনেছি। ইটভাটা পরিদর্শন করে বৈধ কাগজপত্র কিংবা প্রশাসনের অনুমতিপত্র আছে কিনা তা দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর