× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার

ধামরাইয়ে ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক

অনলাইন

ধামরাই (ঢাকা) প্রতনিধি
(১ মাস আগে) মার্চ ৬, ২০২১, শনিবার, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকার ধামরাইয়ে শতাধিক স্থান  থেকে ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। সক্রিয় মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা এসব ফসলি জমি থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভেক্যু মেশিন দিয়ে গভীর ভাবে মাটি কেটে পুকুর খননের ফলে এসব আবাদি জমি এখন ধ্বংসের পথে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু জরিমানা করলেও জোরালো প্রদক্ষেপ না নেয়ার কারণে বন্ধ হচ্ছে না অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমিতে পুকুর খনন।
 সরজমিনে জানা গেছে, ধামরাই উপজেলায় গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক ইটভাটা। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন। আর ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীদের যোগসাজস করে ধামরাইয়ের মহিশাষী, ওমরপুর, সুতিপাড়া, মধুডাঙ্গা, গাড়াইল, বালিয়া, মাদারপুর, সূত্রাপুর, নয়াচর, বাস্তা, আমতা, জেঠাইল, কুল্লা, সুয়াপুর, শ্রীরামপুর, ভাটারখোলা, ধাইরা, বড় নারায়নপুর, বাসনা, দেপাশাই, ভালুম, পথহারা, শৈলান, জয়পুরা, ধলকুন্ড, জালসা, কুশুরা, নান্নার, ভাড়ারিয়া, যাদবপুরসহ শতাধিক স্থান থেকে ভেক্যু মেশিনের মাধ্যমে গভীর করে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। আর এসব জমির মালিকরা না বুঝেই তা ইটভাটার মালিকদের কাছে বিক্রি করছেন।
আবার অনেক ব্যবসায়ী কৌশলে আইল না রেখেই মাটি কেটে নেওয়ার ফলে পাশের জমি ভেঙ্গে পড়ায় কৃষকদের মাটি বিক্রিতে বাধ্য করছেন। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমি কমছে। অন্যদিকে আবাদি জমি কমে ভবিষ্যত খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে।
   ধামরাইয়ের ওমরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচটি ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন হুমায়ুনসহ চার-পাঁচজন মাটি ব্যবসায়ী। তারা ১৫-২০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় বেলিশ^র গ্রামের আবুল বাশার মাস্টার, কৃষক কাজিম উদ্দিন, জমিলা খাতুনসহ ১০-১২ জন কৃষকের বোরো আবাদের জমি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।
   শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, আমার বোরো জমি রক্ষার জন্য মাটি ব্যবসায়ী হুমায়ুনের বিরুদ্ধে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের কাছে গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা।   ধামরাইয়ের বেলিশ^র গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল দেওয়ান বলেন, জালসা এলাকার ইটভাটা মালিক জয়নাল আবেদীন জোরপূর্বক তার ফসলি জমি নষ্ট করে ট্রাক দিয়ে দেদারছে ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটায় নিচ্ছে। বাধা দেওয়ায় তাকে নানা হুমকি দিচ্ছে ভাটা মালিক।
এব্যাপারে ইটভাটা মালিক জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যানি। এছাড়া লাইসেন্সবিহীন সহ¯্রাধিক ট্রাক্টর দিয়েও এসব কৃষি জমির মাটি বহনে সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহার করছে। এতে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এসব ট্রাক্টরের চালকরাও অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এদের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি চালানোর বৈধ কাগজপত্র নেই।
ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। আর এসব কৃষি জমি রক্ষা করতে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করা উচিত।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর