× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২১, বুধবার
ট্রানজিট পয়েন্ট টেকনাফ

ভয়ঙ্কর মাদক ‘ক্রিস্টাল আইস’

প্রথম পাতা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
৭ মার্চ ২০২১, রবিবার

মিয়ানমার থেকে ভয়ঙ্কর মাদক ‘ক্রিস্টাল আইস’ দেশে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বন্দরনগরী ও টেকনাফে পৃথক অভিযানে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকার এই নতুন জাতের মাদক উদ্ধার করা হয়। গেল ২৫শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নগরীর খুলশী থানার মোজাফফর নগর বাইলেন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ টাকার ক্রিস্টাল মেথ (আইস)-সহ দু’জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে র‌্যাব। সর্বশেষ ৪ঠা মার্চ বিকালে র‌্যাব-১৫ এর সহযোগিতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ থেকে ২ কেজি আইসসহ আবদুল্লাহ নামের একজনকে আটক করা হয়। আটক মাদকের বাংলাদেশে বাজারমূল্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে দুই দফায় বড় অঙ্কের এই মাদক উদ্ধারের পর ইয়াবার মতো এর ‘ইজি রুট’ টেকনাফকেই ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে, উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক এই মাদক চোরাচালান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের মাদক ব্যবসায়ীরা এতে সমন্বয় করছেন।
গত বৃহস্পতিবার ২ কেজি আইসসহ মো আব্দুল্লাহকে আটকের সময় এই কথা স্বীকার করেছেন। টেকনাফ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কোন রুটে এই মাদক আসছে এবং কারা এই কারবারে জড়িত এটি নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না। এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক আছে। যারাই জড়িত থাকুক, কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জানা গেছে, ভয়ঙ্কর মাদক ক্রিস্টাল মেথামফিটামিন প্রধানত থাইল্যান্ডে উৎপাদন হয়। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারেও তৈরি হচ্ছে ভয়ঙ্কর এই মাদক। মূলত এই তিনটি দেশ থেকেই এটি ইউরোপ, আমেরিকা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে প্রথম ২০১৯ সালের ২৮শে জুন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ৫২০ গ্রাম আইসসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। বাংলাদেশে এই মাদক প্রতি গ্রাম ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক রাশেদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, স্বচ্ছ পাথরের মতো দেখতে আইস বা ক্রিস্টাল মেথ ইয়াবার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর। এটি শরীরের নার্ভ সার্কুলেশন বাড়িয়ে দেয়। সিনথেটিক স্টিমুল্যান্ট জাতীয় এই মাদক ধোঁয়া, নাক ও ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, ইয়াবায় এমফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ, আর ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের পুরোটাই এমফিটামিন। তাই এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক। এই মাদক সেবন করলে কারও স্ট্রোক হতে পারে। মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরিসহ থাকে নানা ধরনের ঝুঁকি। দেশে নতুন জাতের মাদকের অনুপ্রবেশ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাদকে ইতিমধ্যে সমাজ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে নতুন করে যে মাদকে সয়লাবের কথা শোনা যাচ্ছে, সেটা আসলেই অশনিসংকেত। আর এটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। মরণঘাতী এসব মাদক প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন এই সমাজবিজ্ঞানী।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর