× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

এখনো স্বাভাবিক হয়নি অর্থনীতি

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
৮ মার্চ ২০২১, সোমবার

মহামারি করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো স্বাভাবিক হয়নি। একমাত্র প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান ব্যবসায়ীদের সামলে উঠতে সাহায্য করলেও সামনে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা দেখতে পাচ্ছেন তারা। এছাড়া দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচক রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ ছাড়া অন্য সূচকগুলো স্বাভাবিক হতে পারেনি।
জানা গেছে, করোনাকালে তিন মাসের লকডাউনে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে পড়েছিল স্থবির। এতে দেশের ছোট-বড় সব উদ্যোক্তা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক মানুষ কাজ হারিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় উদ্যোক্তারা সহজে প্রাকৃতিক ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেন। তবে ছোট উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে ওঠাই কঠিন হয়ে পড়ে।
সে ক্ষেত্রে ঋণ বা প্রণোদনা প্রয়োজনটা তাদেরই বেশি। অথচ এ ঋণের বেশির ভাগই পেয়েছেন বড় উদ্যোক্তা। সে কারণে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে বেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করেন তারা।
সূত্র জানায়, করোনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় গত বছরের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন সময় ২১টি প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন খাতে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯০ হাজার কোটি টাকাই ঋণনির্ভর তহবিল, যেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতার তহবিল ছাড়া কোনো প্যাকেজই শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে গত ২১শে জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। ৭৭ হাজার ৮৯৪ জন উদ্যোক্তা এই ঋণ পেয়েছেন।
প্রাক-জাহাজীকরণ খাত এবং নিম্নআয়ের পেশাজীবীদের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণের চিত্র আরো হতাশাজনক। প্রাক-জাহাজীকরণ খাতে ঘোষিত পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬২ কোটি টাকা বিতরণ সম্ভব হয়েছে।
আর নিম্নআয়ের পেশাজীবীদের জন্য ঘোষিত তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে বিতরণ হয়েছে এক হাজার ৪৩২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪৭.৭৩ শতাংশ। গত বছরের ২০ এপ্রিল তিন বছর মেয়াদি এই তহবিলের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কৃষি খাতের জন্য ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে বিতরণ হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৯.৩০ শতাংশ। এই তহবিলের ঋণ বিতরণের সময়সীমাও কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩১শে মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ যাতে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নানাভাবে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুঃখজনক ব্যাপার হলো বেশির ভাগ প্যাকেজ ঋণনির্ভর হয়েছে, ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা যথাসময়ে তা বিতরণ করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার করতে হবে।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের এক আলোচনা সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে আছে। এটা সত্যি যে, সরকারি প্রণোদনা আমাদের বড় ধরনের সহায়তা করেছে। সানেমের তথ্যানুসারে, বাণিজ্যিক পুনরুদ্ধার নিয়ে ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস গত তিন মাসে ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। মহামারি করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশের ২২ শতাংশ ব্যবসায়ী প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেয়েছেন। বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ পেয়েছে ৪৬ শতাংশ, মাঝারি ২৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও ছোট প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি কাশেম খান অর্থনীতির পুনরুদ্ধার গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স বা টিডিএসকে বড় এক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্যাক্সের হার যদি ৩২ শতাংশ হয়ে থাকে, তাও ব্যবস্থাপনার কারণে সেটা ৬৬ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়। এ ছাড়া এ ধরনের কর আদায় ব্যবস্থাপনার কারণে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে নতুন ব্যবসার উদ্যোগের পথে বাধা সৃষ্টি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের উচিত এখন কর ব্যবস্থাকে বাণিজ্য-উপযোগী করে তোলা।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ব্যবসায়ী প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো সবারই জানা আছে। সরকারের এখন উচিত সেগুলোকে দূর করা, যাতে অর্থনীতি দ্রুত গতিতে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।
রপ্তানি আয়: করোনার কারণে রপ্তানি আয় তলানিতে নেমেছে। নেতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ শতাংশের মতো। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে মোট ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৪৫ শতাংশ এবং বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৬১ শতাংশ কম।
রাজস্ব আদায়: চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মহামারির কারণে এবার রাজস্ব আদায় অনেক কমে যাবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সময়ে ৮৭ হাজার ৯২ কোটি ৭১ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.১৯ শতাংশ বেশি।
রিজার্ভ: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে মহামারির মধ্যেই রিজার্ভ ৪৪.১২ বিলিয়ন (৪ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে যা বেশি।
রেমিট্যান্স: মহামারির অভিঘাতে পুরো বিশ্বের অর্থনীতিই টালমাটাল। অনেক দেশেই কাজ হারিয়েছেন অভিবাসী কর্মীরা। প্রায় ৫ লাখ প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। এর পরেও মহামারির বছরেই প্রবাসী আয়ে রেকর্ড হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Ashraf Chowdhury
৭ মার্চ ২০২১, রবিবার, ৮:২০

শুধু রিসার্ভ দিয়ে ও প্রবাসিআয় দিয়ে অর্থনীতির অবস্থান মুল্যায়ন কোন সঠিক মুল্যায়ন নহে।দেশের মানুষের জীবন যাত্রার ব্যায়,তাদের আয়,আভ্যন্তরীন ও বইদেশিক বিনিয়োগ,কর্মসংস্থান,ব্যানকিং এর নাজুক অবস্থা কোন ভাবেই ভাল অর্থনীতির লক্ষন হতে পারেনা।দিন দিন ভোগ ব্যায় বৃদ্বির ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমিয়া যাইতেছে,রপ্তানী পণ্য আগের তালিকায় সীমাবদ্ব,অতএব অর্থনীতির অবস্তা মোটে ও ভাল বলা যায় না।

অন্যান্য খবর