× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

সিলেটে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

দৃশ্যপট অনেকটা স্বাভাবিক। সড়কে যানবাহনে যানজট। মানুষও ঘরে বসে নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। যে-যার মতো ছুটে চলেছেন। লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে আরো বেশি ঢিলেভাব সিলেটে। ব্যতিক্রম শুধু একটা। সেটি হচ্ছে- দোকানপাট বন্ধ।
গ্রীন সিগন্যাল না পাওয়ায় গতকালও সিলেটে দোকানপাট খুলেননি ব্যবসায়ীরা। তবে, বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ছুটে এসেছিলেন নিজ নিজ দোকানপাটের সামনে। বেলা যত গড়াচ্ছিল ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়ছিল। প্রতিটি মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বসে থাকেন। সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল জিন্দাবাজারের শুকরিয়া মার্কেটের সামনে। বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও এসে জড়ো হন এই মার্কেটের সামনে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুকরিয়া মার্কেটের সামনে হঠাৎ করে ব্যবসায়ীরা বসে পড়েন। দেখতে দেখতে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকে। কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মিছিল সহকারে দলবেঁধে আসেন শুকরিয়া মার্কেটের সামনে। আরো কিছু ব্যবসায়ী অবস্থান নেন নগরীর কোর্ট পয়েন্টের পাশে হাসান মার্কেটের সামনে। তারাও সর্বস্তরের ব্যবসায়ী নামে কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান। এ সময় মিছিল সকালে তাদের কর্মসূচিতে এসে শরিক হন শুকরিয়া মার্কেটসহ আরো কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা বিক্ষোভও করেন এ সময়। কোর্ট পয়েন্টে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান খোলার দাবি জানান। আধাঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে কয়েকশ’ ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে তারা জিন্দাবাজার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে সমাবেশ করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেট নগরীতে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের তালিকাভুক্ত আছে সাড়ে ৪ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে আরো প্রায় ৬ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। ব্যবসায়ীরা পুঁজি খাটাচ্ছেন। গত লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। এই অবস্থায় লকডাউনে কেবলমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে তারা সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানান। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ফুয়াদ বিন রশীদ, আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে এই লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা কোনোভাবে কাম্য নয়। এ কারণে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে দোকানপাট খুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেন, সব কিছু স্বাভাবিক। দোষ কেবল মার্কেটের। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এজন্য তারা সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মানববন্ধনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ফুয়াদ বিন রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, আজির উদ্দিন, কামাল উদ্দিন চৌধুরী মাখন, আব্দুর রহিম, মো. হাবিবুর রহমান, মোস্তফা মেহেদী হাসান খান, সাব্বির আহমদ লোকমান, সোহেল ওসমানী গণি, জাবেদুর রহমান, শাহ নেওয়াজ শাকিল, জাহাঙ্গীর হোসেন খান, আব্দুল আহাদ প্রমুখ। এদিকে, সিলেটের ব্যবসায়ীরা নেতারাও এই লকডাউন নিয়ে চিন্তিত। তারা জানিয়েছেন, যে কারণে লকডাউন করা হচ্ছে সে উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। বরং যানবাহন চলাচল করায় ও মানুষ ঘুরাফেরা করায় পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে। তারা বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ীরা গত বছর লকডাউনে কয়েক দফা বির্পস্ত হলেও কোনো প্রণোদনা পাননি। এবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে পথে নামা ছাড়া কোনো গতি থাকবে না। সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন জানান, তারা সামগ্রিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় হাসান মার্কেটে বৈঠকে বসবেন। এক সপ্তাহের লকডাউন মেনে নেয়া হলেও বাড়তি কোনো লকডাউন আমরা মানবো না। সিলেটের ব্যবসায়ীরা বৈঠকে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর