× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

সিলেটে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

লকডাউনেও সিলেটে করোনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। লাফিয়ে বাড়ছে করোনা। এই অবস্থায় লকডাউন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কারণ- সিলেটে যথাযথ ভাবে পালন হচ্ছে না লকডাউন। লকডাউনেও সবকিছু স্বাভাবিক। স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারেও অনীহা দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে। ফলে এই লকডাউন কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখছে সেটি নিয়েও সন্দিহান সিলেটের মানুষ। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- এই লকডাউনের ফলাফল পাওয়া যাবে আরো কিছুদিন পর।
এখন যাদের পজেটিভ রেজাল্ট আসছে তারা সংক্রমিত হয়েছিলেন আগেই। সিলেটের করোনা পরিস্থিতিতে কোনো সুখবর নেই। মাঝখানে দু’দিন আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও গতকাল মঙ্গলবার আবার বেড়েছে। একদিনে সিলেটে আক্রান্ত হয়েছেন ১০০ রোগী। ফলে করোনা নিয়ে স্বস্তি ফিরছে না সিলেটে। নমুনা সংগ্রহের বুথে দীর্ঘ লাইন বাড়ছে রোগীর। গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়েছে নমুনার চাপ। সিলেটের দুটি স্থানে এখন সরকারিভাবে করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব ও অপরটি হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব। দুটি ল্যাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। করোনার উপসর্গে ভোগা রোগীরা জানিয়েছেন, দুটি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়া হলে সহসাই মিলে না রিপোর্ট। তিন থেকে চারদিন পর আসে করোনার রিপোর্ট। ফলে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েও অনেকেই হাটবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে। তারা জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্টের ফলাফল জানা গেলে করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এদিকে সিলেটের হাসপাতালে বেড়েছে করোনা রোগীদের চাপ। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি রোগী রয়েছেন প্রায় একশ’র কাছাকাছি। যারা একটু সুস্থ হয়ে উঠছেন তাদের ছাড়পত্র দিয়ে নতুন রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। আইসিইউতেও রোগীর চাপ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরো রোগী বেড়ে গেলে তখন তাদের খাদিমপাড়া কিংবা দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হবে। সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল জানিয়েছেন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ছাড়াও খাদিমনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ভর্তি করা হবে। এ দুটি হাসপাতাল আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুটি হাসপাতালে চিকিৎসকরা প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের গতকালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিলেট বিভাগে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। নতুন ১০০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪, সিলেটে ৬৯, সুনামগঞ্জে ১, হবিগঞ্জে আরো ১৬ করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সেই সঙ্গে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৯৫ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ২২৫ জন। সিলেটে গতকাল সকাল পর্যন্ত এক বছরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৮৯৬ জন। এ ছাড়া করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ৪২৫ জন। করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে সিলেটে লকডাউন কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লকডাউন মানা হচ্ছে কিনা সেটি দেখবে প্রশাসন। কিন্তু সিলেটের প্রশাসনেরও এ নিয়ে ঢিলেঢালা ভাব। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীর ছয়টি প্রবেশ পথে তেমুখী, কোম্পানীগঞ্জ বাইপাস, বটেশ্বর, অতিরবাড়ি (ঢাকা-সিলেট) মহাসড়ক, শ্রীরামপুর, প্যারাইরচক পয়েন্টে চেকপোস্ট পরিচালনা করে। এ সময় সকলকে স্বাস্থ্যবিধি পালন ও লকডাউন কার্যকর করতে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মহানগরীতে মাইকিং করা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর বিভিন্ন দোকান ও পথচারীদেরকে স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউনের নির্দেশনা না মানায় জরিমানা করা হয়। এ সময় ৮ মামলায় মোট ৬ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এরমধ্যে খাওয়ার হোটেল পাপড়িকে ২ হাজার টাকা, হোটেল পায়রাকে ২ হাজার টাকা, জুয়েলার্স দোকানে ১ হাজার টাকা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে নগরীতে মাইকিং করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গতকাল সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ৬টি মামলা ও ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। আগামী ১১ই এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত লকডাউন চলাকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর