× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার
ইউএনও’র বাসভবন-এসিল্যান্ড অফিস ও থানায় হামলা

লকডাউনকে কেন্দ্র করে সালথায় তাণ্ডব, নিহত ১

প্রথম পাতা

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি
৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

লকডাউনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ও থানায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে তছনছ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তাণ্ডব চলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয় তারা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় এই তাণ্ডব চালানো হয়। হামলাকারীরা তিনঘণ্টাব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
পুলিশ-র‌্যাব ৮ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহত জুবায়ের উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যার ছেলে।

সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে কয়েক ব্যক্তি বাজারে উপস্থিত কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে। এতে পার্শ্ববর্তী নটাখোলা গ্রামের মো. জাকির হোসেন মোল্যাসহ কয়েকজন আহত হন। জাকির হোসেনকে আহত করার খবরে সেখানে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আরো গ্রামবাসী জড়ো হন। খবর পেয়ে সেখানে সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা করেন। এতে মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। এরপর পুলিশের গুলিতে কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সালথা থানা ঘেরাও করে। পরে একে একে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস, স্থাপনা ও বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ইউএনও’র গাড়ি ও এসিল্যান্ডের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।

এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা খান হিরামণি বলেন, তিনি রুটিন ওয়ার্কে বিভিন্ন বাজারে গিয়েছিলেন। এর অংশ হিসেবে ফুকরা বাজারে যান। সেখানে দুটি দোকান খোলা ছিল, তাদের বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। পেটানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান বলেন, সহকারী কমিশনারের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফুকরা বাজারে পুলিশ পৌঁছায়। সেখানে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এতে এসআই মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতব্বর জানান, আমার বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা পুলিশ সদস্যসহ র‌্যাব, আনসার সদস্যরা ৫৮৮ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছুড়ে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্য আহত হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Md. Shahid ullah
৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার, ১:৪৮

মানুষের জন্য লকডাউন। লকডাউনের জন্য মানুষ না। একটা ভিডিওতে দেখলাম-পুলিশ দা দিয়ে ফুটপাতে বিক্রয়ের জন্য ফলগুলো কোপাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা লাঠি দিয়ে মানুষকে মারতে যাবে কেন? মানুষকে সতর্ক করাই তো উদ্দেশ্য। কিন্তু আক্রমণ কেন? দেশে আদালত, বিচারক থাকতে প্রজাতন্ত্রের অন্যদের দিয়ে কীসের জন্য জরিমানা আদায়ে সুযোগ দেয়া হলো? পত্রিকায় দেখলাম-মাস্ক না পরলে লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ সবকিছুতেই মানুষকে দমন। মাস্ক পরা ব্যক্তিদের ধন্যবাদ দেয়া আর না পরা ব্যক্তিদের মাস্ক সরবরাহও তো করা যায়। সর্বপুরি আশা করব-লকডাউন নয়। মানুষকে সহায়তার ব্যবস্থা নিন। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অবস্থান নিয়ে মানুষকে মাস্ক পরার জন্য উৎসাহিত করে এবং জটলা এড়িয়ে চলতে উপদেশ দিন। করোনার প্রকোপ বাড়ায় মানুষকে সতর্ক করুন। ধন্যবাদ।

কাজি
৬ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার, ৭:৫৮

হেফাজতের দেখা দেখি আচরণ করলে দেশ ধ্বংস হবে। সম্পদ ধ্বংস করে জাতি অগ্রসর হয় না। যেভাবে নিজের সম্পদ রক্ষা করা হয় ঠিক সেভাবেই অন্যের সম্পদ, সরকারি সম্পদ এক ই ভাবে রক্ষা করতে হবে। নতুবা ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে আমাদের দেশের অবস্থা হবে।

অন্যান্য খবর