× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনেও একই চিত্র

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

দেশে মহামারি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের ১১ দফা বিধিনিষেধ কার্যকরের দ্বিতীয় দিনেও একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীতে। দ্বিতীয় দিনে সড়কে গাড়ির সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। মানুষের আনাগোনা ছিল বেশি। গণপরিবহন না থাকার কারণে অফিসগামী যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে।

রাজধানীর বড় শপিংমলগুলো না খুললেও সড়কের পাশের অনেক দোকান ছিল খোলা। সন্ধ্যার পর পুলিশের লকডাউন কার্যকরের ক্ষেত্রে শক্ত ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। রাজধানীর বড় বাজার কাওরানবাজার, মহাখালী বাজার ও যাত্রাবাড়ী বাজার সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ঢাকার বড় তিন টার্মিনাল মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এ ছাড়াও বাইরে থেকে আসা কোনো যানবাহনকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি।
ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নজরদারি বসায় পুলিশ।

ঢাকায় অন্যান্য জেলার পরিবহন ঢোকা এবং ঢাকা থেকে যানবাহন অন্যান্য জেলায় যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের শক্ত অবস্থান ছিল। ঢাকার প্রবেশদ্বার গাবতলী ব্রিজের ওপারে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড এবং ঢাকা মাওয়া রোডে পুলিশকে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে। তবে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যানবাহনগুলো ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চলাচল করেছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলোতে ৫ জনকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। গণপরিবহনের অভাবে সিএনজি চালকরা গণহারে এভাবে যাত্রী পরিবহন করছেন। এতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

তবে লকডাউন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকার কোথায় দোকান ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে সেখানে আগাম অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। গতকাল কোনো ব্যবসায়ী সড়কে বিক্ষোভ করতে নামেননি। সরকারের বিধিনিষেধে উন্মুুক্ত স্থানে বাজার বসানোর কথা না থাকলেও তা ঢাকার অনেক স্থানে কাঁচাবাজারে মানুষের জটলা দেখা গেছে। দ্বিতীয়দিনেও ঢাকায় অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় লোকজনকে বসে খেতে দেখা গেছে। সেখানে পুলিশকে নজরদারি করতে দেখা যায়নি। সরকার কর্তৃক বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নির্বাহী মাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। র‌্যাব ঢাকার একাধিক স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে।
অতিমারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৭ দিনের লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১১ই এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত থাকবে এই লকডাউন।

গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, মতিঝিল, পল্টন ও মগবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে ছিল প্রচুর গাড়ি। কিছু সড়কের মোড়ে যানজট দেখা গেছ। খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ মোড়ে দেখা যায় যে, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীদের সংখ্যা বেশি। কোনো কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চার থেকে ৫ জন যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক শফিজ উদ্দিন জানান, লকডাউনে যাত্রী কমেনি বরং বেড়েছে। গণপরিবহন না থাকার কারণে সবাই সিএনজিতে যাতায়াত করছে।

ট্রাফিক পুলিশ আজিজ জানান, লকডাউনে যারা জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীরা বেশি অফিস ও হাসপাতালে রোগী আছে বলে অজুহাত দেখাচ্ছেন।
এদিকে, করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ২৫ জনকে ১২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করেছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়াও প্রায় ৮ শতাধিক মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। বেলা ১২টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‍্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

অভিযান শেষে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু সাংবাদিকদের জানান, সরকারের নির্দেশনাগুলো বলবৎ করার লক্ষ্যে যারা মাস্ক পরিধান করছেন না এবং যারা বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুপুরে চলা এ অভিযানে স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ২৫ জনকে ১২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মূলত জরিমানা করাই র‍্যাবের উদ্দেশ্য নয়। র‍্যাবের উদ্দেশ্য করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।

এ ছাড়াও রাজধানীতে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ। অ্যাপ পরিচালিত রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও চুক্তিতে রাজধানীতে যাত্রী পরিবহন করছে মোটরবাইক চালকরা। যার কারণে মোটরবাইকে দুজন যাত্রী থাকলে তাদের জেরা করা হচ্ছে। এমনকি যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউ বাইরে বের হলে তাদেরও জেরা-জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর