× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার , ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ সফর ১৪৪৩ হিঃ

এক বছরে ২১ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার
১৪ জুলাই ২০২১, বুধবার

দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। আতঙ্কের আরেক নাম এই অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আরমানিটোলার মুসা ম্যানশনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বনানীর এফআর টাওয়ার এবং চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য পরিবার। কিন্তু টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। গত ১৫ বছরে দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজারের বেশি মানুষের। আহত অবস্থায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষকে। কর্মক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলা, আগুন নির্বাপণে যথোপযুক্ত আধুনিক প্রযুক্তির অভাবসহ নানা কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে এ সকল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত কমিটি হলেও তদন্ত কাজ আর এগোয় না। তদন্তের ধীর গতির কারণেই সাময়িকভাবে দোষীরা গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন।
গত ২৩শে এপ্রিল পুরান ঢাকার ৯/১১ আরমানিটোলার মুসা ম্যানশনের (ছয়তলা) নিচতলায় রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় বংশাল থানায় ভবন মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও আসামিদের মধ্যে তিন কেমিক্যাল ব্যবসায়ী এবং ভবন মালিকসহ দু’জন ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একাধিক তারিখ ধার্য্য করা হলেও পুলিশ তা সময়মতো দাখিল করতে পারেনি।
রাজউকের বহুতল ভবনসংখ্যার বিপরীতে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র মিলিয়ে দেখা যায়, ২০১৮ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ভবন ছিল ছাড়পত্রহীন। ফলে আগুন লাগার পরে কোনো ভবনেরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করে না। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য বলছে, ২০২০ সালে সারা দেশে মোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২১,০৭৩টি। এতে মারা গেছে ১৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৩১৭ জন। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৪ কোটি টাকারও বেশি ছিল। গত ১৫ বছরে দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৮১টি। নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭০ জন। ২০১৯ সালে, ৯৯৭টি শিল্প কারখানা এবং ১৬৫টি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়াও, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১৭৪টি। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেই ৩ হাজার ১৭৭টি আগুনের ঘটনায় মারা গেছেন ১৩০ জন ও আহত হয়েছেন এক হাজার ৭১ জন। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। যার মধ্যে মিল ফ্যাক্টরির মালিকদের অসচেতনতায় প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ শ্রমিকদের। যতদিন পর্যন্ত না আমরা সচেতন হবো ততদিন পর্যন্ত এই মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে।
হাসপাতালটির চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল বলেন, আমাদের অসাবধানতার জন্য এ ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। একটি ফ্যাক্টরির এসি থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যেগুলো কিছুদিন অন্তর আমাদের চেক করে দেখা প্রয়োজন। সে বিষয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। যখন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখনই কেবল আমরা সাময়িক সময়ের জন্য হায় হায় করি। পরবর্তীতে আবার ভুলে যাই।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিল্প-কারখানা এবং ফ্যাক্টরির দুর্বলতাগুলো হচ্ছে ঠিকমতো ফায়ার সেফটির যে সকল ব্যবস্থাপনা আছে সেগুলো ঠিকমতো পালন না করা। যেটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রথমত, বিল্ডিং কোড না মেনে স্থাপনা তৈরি করা। কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ থেকে শুরু করে অন্যান্য যে সকল ব্যবস্থাপনা থাকার কথা সেগুলো নেই। সেজন্যই এই দুর্ঘটনাগুলো বারবার ঘটছে। এ ছাড়া মানহীন তার ব্যবহার করার কারণে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে থাকে। বাজার থেকে আমরা একটি দেড় টনের এসি ৩০ হাজার টাকায় পাবো, আবার ভালোমানের এসি এক লাখ টাকা। কাজেই মানহীন জিনিপত্র ব্যবহার করার কারণে এই দুর্ঘটনা।   
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা আমরা নিরাপত্তা সম্পর্কে উদাসীন। আমরা জিনিসপত্র ব্যবহার সম্পর্কে নজর না দিয়ে মানহীন দামে সস্তা পণ্য ব্যবহার করি। যার মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষের জীবন দিয়ে। তদন্ত প্রতিবেদনের ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ বলেন, সকল প্রকার অগ্নিকাণ্ড বিশেষ করে মিল ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা করি। নারায়ণগঞ্জের ঘটনার তদন্ত এখনো শুরু হয়নি। শিগগিরই এটার তদন্ত কাজ শেষ হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর