× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার , ১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
 কলকাতা কথকতা 

সাহিত্যজগতে ইন্দ্রপতন, বুদ্ধদেব গুহ প্রয়াত রোববার গভীর রাতে

কলকাতা কথকতা

জয়ন্ত চক্রবর্তী, কলকাতা 
(১ মাস আগে) আগস্ট ৩০, ২০২১, সোমবার, ৯:২৫ পূর্বাহ্ন

প্রয়াত হলেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। ৮৫ বছর বয়সে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে রোববার রাত ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত এপ্রিলে করোনা আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ৩৩ দিন লড়াই করে জয়ী হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার  চেয়ে তাকে ফোন করতেই তিনি বলেছিলেন- কিছুদিন সময় দাও, ভয় নেই এত তাড়াতাড়ি আমি ফুরাবো না। কিন্তু ৩১ জুলাই তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে এই হাসপাতালে ফের ভর্তি করা হয়। মূত্রথলিতে এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকায় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি রোববার রাতে চলে যান না ফেরার দেশে।

কনসিওর অফ লাইফ বলতে যা বোঝায় তাই ছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। পেশায় ছিলেন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট। তীর্থপতি ইনস্টিটিউশন এবং পরে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক হন।

পারিবারিক ধারা মেনে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন। শিকারে তার হাত ছিল অবর্থ্য, নিধুবাবুর টপ্পা গাইতেন অসাধারণ। সাপ্তাহিক অমৃত পত্রিকায় একটি ধারাবাহিক উপন্যাসের মাধ্যমে তার আত্মপ্রকাশ। বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন সেই বিরলতম সাহিত্যিক, যিনি সেরা সাহিত্যের প্রতিষ্ঠান আনন্দবাজার  গ্রুপের সঙ্গে সংশ্রব ছিন্ন করেছিলেন তাদের ফতোয়া, তিনি অন্য কোথাও লিখতে পারবেন না- না মেনে।  পরবর্তী পর্বে আনন্দবাজার গ্রুপ অবশ্য তাকে সাদরে বরণ করে নেয়। পরিচিতজনদের কাছে লালা দা নামে খ্যাত এই বরেণ্য সাহিত্যিক এপার বাংলা-ওপার বাংলায় সমান জনপ্রিয় ছিলেন। প্ৰেম, অরণ্য, সমাজের উঁচুতলার জীবন, আর ঋজুদা  ছিল তার  প্রিয় লেখার বিষয়। বারবার ফিরে গেছেন পালামৌ-এর জঙ্গলে। বনমোরগ শিকার করে খেয়েছেন। তার লেখা থেকে বাঙালি মাকলাস্কিগঞ্জ, বেতলা, চন্দনিতলার অরণ্যকে ভালোবাসতে শিখেছে। তার সঙ্গে বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ঋতু গুহর প্ৰেম এবং বিবাহ নিয়ে তার  লেখা খেলা যখন উপন্যাসটি তো ক্লাসিক পর্যায়ে পড়ে। অনুজদের উৎসাহ দিতে অকৃপণ ছিলেন তিনি। এই প্রতিবেদক যখন  কলকাতার  সংবাদ প্রতিদিন কাগজের বার্তা সম্পাদক তখন তিনি কাগজে বহু লেখার প্রশংসা করে চিঠি পাঠাতেন। বর্তমানে ঢাকার মানবজমিন পত্রিকার আমি কলকাতা প্রতিনিধির দায়িত্ব নিয়েছি শুনে বলেছিলেন, ওরা বিশেষ সংখ্যা বের করে না? আমি লিখবো। সেই লেখা হলো না। তার টেলিভিশন সাক্ষাৎকার নেয়া হলো না। চির ঘুমের দেশে চলে গেলেন ঋজুদা।      

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
হাবিব
৩০ আগস্ট ২০২১, সোমবার, ১০:০০

যে কয়টি সাহিত্য নক্ষত্র বেঁচে থেকে আলো দিয়ে যাচ্ছিল তার মধ্যে একটি খসে পড়ল। তবে তার ছড়ানো আলো বাংলা সাহিত্যে মলিন হবেনা কোন দিনই। টিকে থাকবে হাজার, হাজার বছর মানুষের মনে।

অন্যান্য খবর