× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার , ৬ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ সফর ১৪৪৩ হিঃ

বাজারে স্বস্তি নেই

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম। এরমধ্যে রয়েছে ভোজ্য তেল, আটা, ময়দা, পিয়াজ ও ব্রয়লার মুরগিসহ অন্তত ১৫-২০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। প্রতিটি পণ্যের দাম ২ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নতুন করে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছেন। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, মিরপুর, কচুক্ষেত বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, পাম অয়েল (লুজ) মানভেদে সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারে ২ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১২ থেকে ১৬ টাকা। বর্তমানে এই তেল ১১৮ থেকে ১২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ১১৬ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ এক মাস আগে একই মানের তেল ১০৬ থেকে ১১২ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।
অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল (৫ লিটার) এক সপ্তাহে ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল বাজারে এই তেল ৬৬০ থেকে ৭১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে যা ৬৬০ থেকে ৭১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে প্যাকেটজাত আটা সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১-২ টাকা বেড়েছে। গতকাল এই পণ্যটি ৩৪ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহে ৩৩ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্যাকেটজাত ময়দা কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা। গতকাল পণ্যটি ৪৪-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ৪৪-৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পিয়াজে কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা, ছোলায় ৫ টাকা, শুকনা মরিচ কেজিতে ১০ টাকা, হলুদ কেজিতে ২০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। গতকাল বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১২৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কাওরান বাজার, মিরপুর ১ কাঁচাবাজার, নিউমার্কেট, রামপুরা বাজার, আজমপুর বাজার, উত্তরা, কচুক্ষেত বাজার থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে টিসিবি। টিসিবি’র মূল্য বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে- সরু চাল (নাজির-মিনিকেট), মাঝারি চাল (পাইজাম-লতা), সাদা আটা (খোলা), প্যাকেটজাত আটা, প্যাকেটজাত ময়দা, বোতলজাত সয়াবিন তেল, পাম অয়েল (লুজ), ছোলা, দেশি পিয়াজ, দেশি শুকনা মরিচ, শুকনা মরিচ (আমদানি), দেশি হলুদ, দেশি আদা, আমদানি করা হলুদ, জিরা, দারুচিনি, তেজপাতা, ইলিশ, খাসি, দেশি মুরগি, ডানো, খেজুর (সাধারণ মান)।
কচুক্ষেত বাজারের মুদি দোকানি ইকবাল হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম কখনো এক রকম থাকে না। এটা উঠা-নামার মধ্যে থাকে। দর এমন উঠা-নামার ফলে কাস্টমারদের যেমন সমস্যা, তেমনি আমাদেরও ব্যবসা করতে সমস্যা হয়। দাম কেন বাড়লো কাস্টমারের এই প্রশ্নের জবাব আমাদেরকেই দিতে হয়। কিন্তু কি বলবো? দাম তো আর আমরা বাড়াই না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে আমাদের দেশে দাম বাড়ায় আমদানিকারকরা। তবে এমন হঠাৎ হঠাৎ বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক। সরকারকে এটা মনিটরিং করতে হবে। আমরা যে দামে কিনে আনি সেই হিসেবে আমরা খুচরায় যে দর ধরা আছে সেই দামেই বিক্রি করছি। এক্ষেত্রে আমাদের বেশি লাভ করার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত মুনাফা করছে আমদানিকারকরা।
একই বাজারে সদাই করতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারে স্বস্তি নেই। সবকিছুর দামই বাড়তি। এরমধ্যেও আবার নতুন করে দাম বেড়েছে। দুইদিন আগে ব্রয়লার মুরগি কিনলাম ১২৫ টাকা কেজি আজ বলছে ৪০ টাকা কেজি। এ ছাড়া আরও অনেক পণ্যের দামই বেশি। বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এভাবে বাড়তে থাকলে গরিব মানুষ বাঁচবে কীভাবে? যা ইনকাম করি তার বেশির ভাগই বাজার করতে চলে যায়। আবার প্রতিনিয়তই দাম বেড়েই চলছে। কিন্তু আমাদের ইনকাম তো আর বাড়ে না। ২ বছর আগে যা আয়- রোজগার করতাম, এখনো তাই-ই করি। কিন্তু এরমধ্যে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে ডাবল।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর