× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

৪৯ মামলার আসামী সেই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(১ মাস আগে) সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৪:৪৬ অপরাহ্ন

আমার বয়স ৮৪ বছর হয়ে গেছে। আর কয়দিন বাঁচবো জানি না। আমি আমার ছেলে-মেয়ে নাতী-নাতনীদের ওসিয়ত করে যাচ্ছি, আমার মৃত্যুর পরও যেন আমার দান অক্ষত থাকে, তা মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। আমার আশঙ্কা হয়, আমি মারা গেলে আমার মেঝ ছেলে আলোচিত ৪৯ মামলার আসামি একরামুল আহসান কাঞ্চন আমার পরকালের সম্বল মাদ্রাসা-ইয়াতিমখানা হতে দিবে না, ঠিক যেভাবে তার পিতার ওসিয়ত করা হেফজখানা সে বন্ধ করে দিয়েছে। তাই আমি মিডিয়া ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলবো, আমার এ ওসিয়ত বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে এ সহায়তা প্রত্যাশা করেন কাঞ্চনের মা কমরের নেহার। তার পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার কণ্যা ফাতেমা আক্তার।

এর আগে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে আলোচিত ৪৯ মামলার আসামি একরামুল আহসান কাঞ্চন বলেন, সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া, মামলা দিয়ে অর্থ আদায়, প্রলোভন দেখিয়ে সম্পত্তি দখলসহ নানা উদ্দেশ্যে তার নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা করেছে একটি মহল। মামলাগুলো সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক। ভাড়াটে বাদি, আসামি চিনে না বাদিকে, বাদি চিনে না আসামিকে এমন একটা অবস্থা।
মাসে ১৫ দিন বিভিন্ন মামলার হাজিরা দিতে হয় জেলায় জেলায়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, হয়রানিমূলক এসব মামলা থেকে মুক্তি চাই।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে কমরের নেহারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা আক্তার বলেন, 'আমার স্বামী জীবিত থাকতে আমার জন্য আলাদা কিছু সম্পত্তি ক্রয় করেছিলেন।  মূলত, এই জমি সেই জমি, যা নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা। ২০০৯ সাল থেকে এ জমি নিয়েই আমার মেঝ পূত্র কাঞ্চনের সাথে আমার প্রথম বিরোধ শুরু হয়। কারণ স্বামীর অনুকরণে আমিও চেয়েছিলাম, পরকালের সম্পদ হিসেবে কিছু ধর্মীয় কাজ করে যাওয়ার জন্য। সে ইচ্ছা থেকেই আমার নিজের জমি থেকে কিছু জমি মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানায় দান করার নিয়ত করি। কিন্তু আমার এ দানের বিষয়টি অন্য সন্তানরা মেনে নিলেও প্রথম থেকেই দ্বিতীয় পূত্র একরামুল আহসান কাঞ্চন মানতে পারেনি। তার কাছে আমার পরকালের সম্পদ থেকে তার ইহকালের সম্পদের ভাগ বড় হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ কাঞ্চন ওয়ারিশসূত্রেই পর্যাপ্ত জমিজমা লাভ করেছে। আমি যে জমিটুকু দানের নিয়ত করেছি, এটা তো আমার পরকালের সম্পদ, সেটা কেন তাকে দিয়ে দিতে হবে? আমি আমার সকল সন্তানকেই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়েছি। সবাই বিষয়টি সহজভাবে বুঝলেও স্ত্রীর প্ররোচনায় কাঞ্চন শুরু থেকেই আমার কথা মানতে চায়নি। সে সময়ে-অসময়ে আমার উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যেন, আমি আমার সম্পত্তি পুরোটাই তাকে লিখে দেই, কোনভাবেই যেন মাদ্রাসায় দান না করি।

তিনি বলেন, আমি কাঞ্চনের কথা মেনে না নেয়ায়, সে অন্য এক মহিলাকে মা বানিয়ে আমার জমির জাল দলিল তৈরী করে। আসলে আমার স্বামীর সম্পত্তির সব দলিলপত্র সব সময় আমার মেঝ ছেলে কাঞ্চনের কাছেই জমা থাকতো। তাকে আমরা পরিবারের সবাই খুব বিশ্বাস করতাম। কিন্তু অন্য নারীকে মা বানিয়ে জাল দলিল তৈরীর পর সবাই নড়েচড়ে বসে এবং খুঁজতে থাকে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে সে আর কি নড়চড় করেছে। তখন কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসে। দেখা যায় প্রায় ১ যুগ আগেই সে আমাকে মৃত দেখিয়ে এবং তার একমাত্র বোন ফাতেমা আক্তারকে বাদ দিয়ে ওয়ারিশনামা তৈরী করেছে। কাঞ্চনের বানানো জাল দলিল বাতিল করতে এবং আমার কন্যার ওয়ারিশসত্ত্ব ফিরিয়ে আনতে আমি আদালতের দারস্থ হই। এতে কাঞ্চন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা শুরু করে। আমি গর্ভধারিনী মা হওয়া সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে ২টি, তার আপন বড় ভাই আক্তারী কামালের বিরুদ্ধে ৭টি, তার একমাত্র বোনের বিরুদ্ধে ৩টি এবং তার মামাতো ভাই শাকেরুল কবিরের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা করে। একইসঙ্গে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেন তার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে আমার দানের জমি গ্রহণ না করে সেজন্য রাজারবাগ দরবার শরীফ ও মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট লোকজনের উপর মামলা-হামলা করতে থাকে। রাস্তাঘাটে যেখানে সে রাজারবাগ দরবার শরীফ বা মাদ্রাসায় আগত লোকজন পেতো, সেখানেই তাদের উপর হামলা ও মারধর চালাতো।  অনেককে সে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠায়। মাদ্রাসায় যাওয়া বোরকা পরিহিতা নারীদের সে উত্যাক্ত করতো।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে আমি সাব-রেজিস্টারের সামনে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে স্বাক্ষর করে মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসায় সর্বমোট প্রায় ৭৬ শতাংশ জমি দান করি। ২০১৪ সালে মাদ্রাসায় জমি দান করা হয়ে গেলে কাঞ্চন তা বাতিল করতে উঠে পড়ে লাগে। এজন্য সে মিডিয়ায় আমার সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার শুরু করে।  প্রথম অবস্থায় সে বলে বেড়ায়, 'আমাকে নাকি গুম করে আমার থেকে সম্পদ লিখে নেয়া হয়েছে। তাই আমার দান বিশুদ্ধ হয়নি'।

সম্প্রতি কাঞ্চন নতুন করে প্রচার শুরু করছে, পীর সাহেব নাকি আমাকে বাইয়াত করে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার সব সম্পত্তি লিখে নিচ্ছেন। আমি নাকি তাদের পৈর্তৃক সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করে পীর সাহেবকে সব সম্পত্তি লিখে দিচ্ছি। অথচ আমি দরবার শরীফে নতুন বাইয়াত হয়নি। আমি ২৮ বছর ধরে দরবার শরীফের বাইয়াত। আমাকে নতুন করে বাইয়াত করে ভুল বুঝানোর কিছু নেই এবং আমি কোন সম্পত্তি পীর সাহেবকে লিখেও দেইনি। যতটুকু সম্পত্তি আমি দান করেছি সেটা মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানার নামে, পীর সাহেব বা দরবার শরীফের নামে নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তার বড়পুত্র আক্তারী কামাল, অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ছোট ছেলে কামরুল আহসান বাদল, ভাগিনা শাকেরুল কবির প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর