× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার , ১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

এখনো বাড়িছাড়া ২শ’ পুরুষ যে গ্রামে সারা বছর সংঘাত লেগেই থাকে

বাংলারজমিন

আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ থেকে
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম রানীনগর। সংঘাত বাধলেই একপক্ষ আরেক পক্ষের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। এখানে সামাজিক দলাদলির রেওয়াজ এমনভাবে প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এ এলাকার মানুষ। লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষেতের ফসল জমিতেই নষ্ট হয়ে যায়। সমাজিক এই সংঘাতের কারণে বর্তমানে গ্রামটির প্রায় ২শ’ পুরুষ সদস্য ৪ মাস ধরে স্ত্রী-সন্তান ও ঘর বাড়ি ফেলে প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এলাকার এসব সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও প্রশাসনিক তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
জানা গেছে, ওই গ্রামের আক্কাচ মোল্লা ও সিদ্দিক মোল্লা একই গোষ্ঠীর চাচাতো ভাই হিসেবে একসঙ্গে সামাজিক দল করতেন। কিন্তু সিদ্দিক মোল্লার সঙ্গে ভাই আক্কাচ মোল্লার বনিবনা না হওয়ায় সামাজিক দল ভেঙে যায়।
শরিকের দুই ভাই এখন দুইটি সামাজিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে গ্রামবাসী জানান। পুলিশের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে থানায় ডেকে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। কিন্তু দুই দিনও টেকেনি সেই মীমাংসা। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন অব্যাহত ভাবে চলছে। বিনা কারণে আক্তানুর মোল্লা, তোফাজ্জেল মোল্লা, ফারুক, আব্দুল গণি, মনিরুল ও নওশের আলীসহ ঐ সময় প্রায় ২০ জনের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মেরে আহত করা হয় নুরুদ্দীন, বকুল, মতবেল, আব্দুর রশিদ, বকুল, সহিদা ও তরুণ মোল্লাসহ ২৫ জনকে। প্রায় দুই শতাধিক কৃষক পরিবারের মাঠ ঘাটের চাষ আবাদ সব বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কোনো বাজার-হাটে যেতে পারেন না তারা। যারা বাড়িতে আছেন তারাও অবরুদ্ধ বাড়ির বাইরে যেতে পারে না। সামাজিক দলের এক গ্রুপের নেতা আক্কাচ মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি জমি কেনাবেচা নিয়ে দোষারোপ করে তাকে বয়কট করেন তারই ভাই সিদ্দিক মোল্লা। ফলে তিনি একা হয়ে যান এবং বিরোধী গ্রুপে যোগ দিলে সেই সামাজিক দলটি গ্রামে বড় দল হয়ে যায়। এ কারণে সিদ্দিক মোল্লার সামাজিক দলের সদস্যরা এক রকম ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, কাউকে অত্যাচার নির্যাতন ও বাড়ি ঘর ছাড়া করা হয়নি। তাছাড়া কোনো ব্যক্তির কলার ক্ষেতও বিনষ্ট করা হয়নি বলে দাবি করেন। অন্যদিকে সিদ্দিক মোল্লা বলেন, গ্রামের প্রায় দুইশ’ পুরুষ সদস্য আজ ৪/৫ মাস বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাড়িতে গিয়ে মহিলাদের উপর প্রতিনিয়তো মানসিকভাবে নির্যাতন ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হচ্‌েছ। তিনি নিজেও শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে বাসা ভাড়া করে থাকেন। তার মতো অনেকেই বাড়ি ভাড়া করে ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে কোন রকম জীবন কাটাচ্ছেন। স্কুল কলেজে পুড়য়া বহু শিক্ষার্থী বাড়ি যেতে পারছেন না। তাদের পড়ালেখা সব বন্ধ। দুইটি ঈদ অমানবিক ভাবে পথে পথে কেটেছে তাদের। অনেক চাকরিজীবীও গ্রাম ছাড়ার তালিকায় রয়েছেন। ফাঁকা বাড়িতে নারী ও শিশুরা বিভিন্ন প্রতিবেশীর কাছ থেকে টাকা, চাল, ডাইল, বাজার সদায় সব ধার দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। মারামারি করার পর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রুপ থানায় মামলা করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নেন না বলেও জানান তিনি। স্থানীয় ইউপি মেম্বর শফিকুল ইসলাম শফি খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, রানীনগর গ্রামে দুইট সামাজিক দলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোল্লা, শেখ, বিশ্বাস ও মণ্ডলসহ পাঁচটি গোষ্ঠীর দুই শতাধিক মানুষ স্ত্রী সন্তানের মায়া ত্যাগ করে বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রাণ বাঁচাবার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যা এই সভ্য সমাজে মোটেও কাম্য হতে পারে না। এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রায় ৬ মাস আগের ঘটনা হলেও আমার কাছে কেও কোনো অভিযোগ করতে থানায় আসেনি। গত কয়েক দিন আগে আমি বিষয়টি জানতে পেরে ওসি তদন্ত মো. মহসিন হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছি। দু’-একদিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করে দেওয়া হবে আর যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের বাড়িতে তুলে দেওয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর