× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

হাইব্রিডদের ছড়াছড়ি নগরকান্দা-সালথায় কোণঠাসা আওয়ামী লীগ

বাংলারজমিন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার

ফরিদপুরের সংদীয় আসন-২ (নগরকান্দা ও সালথা) এলাকার আওয়ামী লীগ এখন জামায়াত-রাজাকারের অভয়ারণ্য। স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্রে মূলধারার নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলার দু’টির আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা জানান, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপি নেতা যুদ্ধাপরাধী মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খোকন রাজাকারের ভাই সামসুল হুদা হুদু, তার ভাতিজা উপজেলার পৌর বিএনপি সভাপতি আসাদুজ্জামান আছাদ, তার ভায়রা রোজাউল ইসলাম, তালমার বিখ্যাত রাজাকার মৃত ওয়াহেদ সর্দারের ছেলে নগরকান্দা উপজেলার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সর্দার, যুবদল নেতা বর্তমানে উপজেলার যু্‌বলীগের মৌখিক সাধারণ সম্পাদক মইদুর ইসলাম লিখন, তালমার বিখ্যাত রাজাকার মৃত মুকবুলের ছেলে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপি উপদেষ্টা ফিরোজ খাঁ, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নাছির হোসেন, পৌর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো লান্টুসহ নগরকান্দা বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের লালন-পালন করছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সাহাদাব আকবর লাবু। সম্প্রতি সালথা উপজেলার বিখ্যাত রাজাকার আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের এক সহযোদ্ধা একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তার ডিও লেটারে খালাশ পায়। পরে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন তিনি। তারা রাজাকারের জামাতা ওদুদ মাতুব্বর ওই নেতার আশ্রয়ে এখন সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান। বিএনপি নেতা মাঝারদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহিদুজ্জামান, গোট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলুসহ শত শত বিএনপি-জামায়াত-রাজাকার এখন লালন করছে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পুত্র সাহাদাব আকবর লাবু।
এছাড়াও তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের মামলার আসামি মিলন মোল্লা, রাজু খান, মেহেদী ফকিরসহ অনেকেই এখন তার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি তালমার রাজাকার মৃত মকবুলের নাতিন বিএনপি নেতা ফিরোজ খাঁ’র মেয়ে ফারজানা খান রিনি এখন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পিএ।
দলটির নেতারা আরও জানান, তালমা ইউনিয়নের কয়েকবারের চেয়ারম্যান উপজেলার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন মোল্লার পরিবারের সদস্যদেরকে হয়রানিমূলক একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়াও তারা এখন ওই নেতার সহযোগীদের হামলা-মামলার কারণে দলের কার্যক্রম চালাতে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পড়ছে। সালথা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে কয়েক দফা শারীরিক নির্যাতনসহ ১১টি হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে। এসব মামলায় তিনি ১১ মাস জেল খেটে এখন জামিনে রয়েছেন। সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী সাব্বির ৪টি মামলায় ৯ বার জেল খেটেছেন। কারাবাস বরণ করেছেন উপজেলার স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুল, একাধিক মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসারত হোসেন, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতুব্বরসহ শত শত ত্যাগী নেতাকর্মী। সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন অবৈধভাবে গাজীপুর ও সুন্দরবনের হাজার হাজার গাছ কেটে টাকার পাহাড় গড়েছেন তিনি। এ ঘটনায় দুদকের চারটি মামলায় তার ১৮ বছরের সাজা হয়। একইসঙ্গে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার জরিমানা করেন আদালতের বিচারক। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতাবলে তিনি মুক্ত হন। নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মান্নান মোল্লা বলেন, আমরা এখন লাবু মামার কারণে দল করতে পারছি না। তার কাছে এখন হাইব্রিড নেতাদের ভিড়। তাদের কারণে এ আসনের ত্যাগী নেতাদের কোন মূল্যায়ন নেই। তিনি এখন উপজেলা দু’টির দল গঠনের পরিকল্পনা করছেন। তার মাধ্যমে দল গঠন হলে ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাবে না। মান্নান মোল্লা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন। তালমা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা খোকা মেম্বার শাহাদাব আকবর লাবুর বিষয়ে কিছু বলতে না চাইলেও তার ভয়ে পালাতক রয়েছে বলে স্বীকার করেন। উপজেলার পৌর যুবলীগ সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান মিঠু বলেন, লাবু মামার কারণে আমরা দল করতে পারছি না। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমি পৌর আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে সহযোগিতা করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করছি। এ ব্যাপারে শাহাদাব আকবর লাবুর সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। কারো যদি কিছু লেখার থাকে সে যা ইচ্ছা লিখতে পারেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর