× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার , ১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

১০ টাকা কেজির চাল নিতে গিয়ে ঘাড় ধাক্কা খেলেন নারী, বৃদ্ধকে চড়থাপ্পড়

বাংলারজমিন

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরের চাল কিনতে গিয়ে ঘাড় ধাক্কা খেলেন এক নারী। চাল না দিয়ে তার ফেয়ার প্রাইজের কার্ডও কেড়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, মির্জাপুর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে ফেয়ার প্রাইজের ডিলার মীর আল মামুনের চাল বিক্রির স্থান হলো দৌলতপুর মিয়া মার্কেটে। কিন্তু তিনি নির্ধারিত স্থানে চাল না তুলে দুই কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে তোলেন। ফলে তিন থেকে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ক্রেতাদের সেখান চালের জন্য যেতে হয়।

উত্তর মান্দিয়া গ্রামের সাদেক হোসেনের স্ত্রী রীপা বেগম জানান, গেলো বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি চালের জন্য দৌলতপুর গ্রামে ডিলার মীর আল মামুনের বাড়িতে যান। সেখানে তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। তার সাথে আরো প্রায় পঞ্চাশজন গ্রাহক সেখান বসা ছিলেন। ঘন্টা তিনেক পর অসুস্থ রীপা বেগম বাড়িতে বাচ্চা রেখে আসায় তার চাল দেয়ার অনুরোধ জানান। তখন ডিলার মীর মামুনের সামনে বসা তার বড় ভাই মোখলেছ তেড়ে আসেন।
শুরু করেন গালিগালাজ। এক পর্যায়ে রীপাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। রীপা কান্নাকাটি শুরু করলে মোখলেস তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

চাল নিতে আসা অপর দিনমজুর এবং মান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা চানু মিয়া জানান, সবার সামনে গালিগালাজ এবং অসুস্থ রীপাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার প্রতিবাদ করায় মোখলেস তাকেও চড়থাপ্পড় দেন।
দিনমজুর স্বপা বেগম জানান, ওই দিন চালের জন্য গেলে তাদেরকে টানা চার ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়। ডিলার মামুনের বড় ভাই মোখলেছ দীর্ঘদিন ধরে ফেয়ার প্রাইজের চাল কেনার ব্যবসা করেন। কেউ তাদের বাড়িতে চাল কিনতে গেলেই তার টিপসহি রেখে চালের বিনিময়ে টাকা দেয়া হয়। কেউ চাল বিক্রি করতে না চাইলে তাকে হয়রানি করা হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়। ওই দিন অসুস্থ রীপা বেগম মানবিক কারণে আগেভাগে চাল দেয়ার অনুরাধ জানালে তাকে মারপিট করা হয়।

আরেক দিন মজুর একাব্বর জানান, সবার সামনে এভাবে রীপাকে নির্যাতন করায় এবং চাল বিক্রিতে রাজি না হওয়া অন্যান্যদের গালিগালাজ ও মারপিটের হুমকি দেয়ায় ভয়ে চাল না নিয়ে অনেকেই ফিরে আসে।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সানোয়ার হোসেন জানান, এদের এক ভাই চালের ডিলার আরেক ভাই চাল ব্যবসায়ী। এজন্য মোকামে চাল না তুলে নিজ বাড়িতে চাল তোলেন।

৯নং ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক জানান, ডিলারের বাড়িতে গরীব মানুষ চাল কিনতে গেলে তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে চাল বিক্রি করতে হয়। দুই ভাই মিলে এ সিন্ডিকেট। কাউকে চাল দেয়া হলেও ৩০ কেজির স্থলে ২৫ কজি দেয়া হয়। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে বহুবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার মেলেনি। এখন গরিব মানুষ ওদের বাড়িতে চালের দাবিতে গেলে মারপিট করা হয়। সরকারি দল করে বলে এরা স্থানীয় প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করেন না।

৭ নং ওয়ার্ডর সদস্য হায়দার আলী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ডিলার মামুন ও তার ভাই মোখলেস গরিব মানুষকে চাল দিতে হয়রানি করছেন। গালিগালাজের পর এখন মারপিট আরম্ভ করেছেন। প্রতিকার চেয়ে আজ বহস্পতিবার উপজেলা নিবার্হী অফিসার এবং খাদ্য কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

ডিলার মীর মামুন জানান, কাউকে গলা ধাক্কা দেয়া হয়েছে কিনা তিনি জানেন না। সব নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হোসাইন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ জানান, ওই ডিলারকে আর বাড়িতে নয়, মোকামে চাল বিক্রি করতে বলা হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম সীমা জানান, লিখিত অভিযোগ তিনি এখনো পাননি। অভিযোগ পেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর