× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার , ১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

বড় ভাইয়ের প্রতি ছোট ভাইয়ের ভালোবাসা

বাংলারজমিন

বড়লেখা (মৌলবীবাজার) প্রতিনিধি
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার

ভাইকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিচ্ছেন ভাই কিংবা বোন। সিনেমাতে হরহামেশাই এ রকম দৃশ্য দেখা যায়। তবে বাস্তবে এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করেই বড় ভাইকে একটি কিডনি দিয়েছেন ছয়ফুল হোসেন (২৮) নামে এক যুবক। এতে ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসার বিরল এক দৃষ্টান্ত গড়ে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ছোট ভাইয়ের দেয়া কিডনি পেয়ে নতুন জীবন পেয়েছেন বড় ভাই বদরুল হোসেন (৩৩)। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। গত শুক্রবার ঢাকার শ্যামলীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ছয়ফুল হোসেনের দেয়া কিডনি বদরুল হোসেনের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, বদরুল হোসেন প্রায় ৮ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৯ সালে ৩০শে ডিসেম্বর হঠাৎ বদরুলের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে জানান তার দুটি কিডনি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর ২০২০ সালের ২রা জানুয়ারি বদরুল দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকার শ্যামলীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে তার কিডনি ডায়ালাইসিস শুরু হয়। এতেও বদরুলের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ সময় চিকিৎসকরা জানান বাঁচতে হলে অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ২৫ লাখ টাকা। এরই মধ্যে বদরুলে চিকিৎসার পেছনে সহায় সম্বল যা ছিল তা ব্যয় করে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার পরিবার। এই অবস্থায় বদরুল ও তার পরিবারে যেন  অন্ধকার নেমে আসে। কারণ, একদিকে ২৫ লাখ টাকা অন্যদিকে একটি কিডনি কে দেবে বদরুলকে! এই অবস্থায় নিজের জীবনের কথা না ভেবে বড় ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বদরুলের ছোট ভাই ছয়ফুল হোসেন। তিনি নিজের একটি কিডনি বদরুলকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বদরুলের কিডনির সঙ্গে ছয়ফুলের কিডনি মিলে যায়। এদিকে, বদরুলের চিকিৎসার জন্য অনেকটা আলো হয়ে পাশে দাঁড়ায় শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন কাঁঠালতলী। তারা তার চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠন করে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। পাশাপাশি চলে ফেসবুকে প্রচারণা। হাত বাড়িয়ে দেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি-সংগঠন। ফলে কয়েকদিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে বদরুলের দেহে কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা থাকলেও তা আর হয়ে ওঠেনি। কারণ এর মধ্যে বদরুলের শরীরে বাসা বাঁধে প্রাণঘাতী হেপাটাইটিস-সি ও যক্ষ্মা রোগ। এদিকে, প্রায় ১৪ মাস পর সুস্থ হয়ে ওঠেন বদরুল। এরপর গত শুক্রবার ছয়ফুল হোসেনের দেয়া কিডনি বদরুল হোসেনের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। 
বদরুল ও ছয়ফুলের বড় ভাই শিক্ষক মিলাদ হোসেন বলেন, আমার ছোট ভাই ছয়ফুলের দেয়া কিডনি বদরুলের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা। তারা দু’জনেই এখন সুস্থ রয়েছেন। তিনি বদরুলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন কাঁঠালতলীর পাশাপাশি সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন কাঁঠালতলীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছয়ফুল হক গতকাল বিকালে বলেন, বদরুলের চিকিৎসার জন্য প্রথমে ২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। আমরা তার চিকিৎসার্থে তহবিল গঠন করে টাকা সংগ্রহ শুরু করি। দেড়মাসে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা তহবিলে জমা হয়। বদরুল কয়েক মাস অসুস্থ থাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করতে দেরি হয়েছে। 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর